রুমা চক্রবর্তী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০২:৪৫ AM

রুমা চক্রবর্তী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫/০২/২০২৪ ০৬:২৩:৪১ AM

রুমা চক্রবর্তী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত


এ ঘোষণার মধ্যদিয়ে সিলেট থেকে সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা রুমা রায় চৌধুরীও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে সিলেট থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা রুমা রায় চৌধুরী (রুমা চক্রবর্তী) সহ  ৫০টি আসনে ৫০ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার সংরক্ষিত ৫০টি আসনের একক প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, আগামী ১৪ মার্চ এই নির্বাচনে ভোট গ্রহণের তারিখ ছিল। তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভোটের প্রয়োজন হয়নি। এই নির্বাচনের ভোটার জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। তবে কখনো ভোট হতে দেখা যায়নি।

আওয়ামী লীগের এই প্রার্থীর নাম প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই অনেকেই চমক হিসেবে দেখেছিলেন। সিলেটের ১৯টি সংসদীয় আসনে একমাত্র সংরক্ষিত সংসদ সদস্য হয়েছেন তিনি।

কে এই রুমা চক্রবর্তী ?
রুমা রায় চৌধুরী (রুমা চক্রবর্তী) সিলেট জেলার বিশ্বনাথ থানার কালিগঞ্জের মৌজপুর গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ। বাবা রবীন্দ্র রায় চৌধুরী ও মাতা সরুজু বালা রায় চৌধুরীর পাঁচ কন্যার মধ্যে চতুর্থ। বাবা বরীন্দ্র রায় চৌধুরী সিলেট পৌরসভায় ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত (আমৃত্যু) এম. বি. ডাক্তার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অবিভক্ত ভারতে কাকা (চাচা) গিরিন্দ্র রায় চৌধুরী নেতাজী সুভাস চন্দ্র বসুর ফরওয়ার্ড ব্লকে যোগদান করেন। গোপন বিপ্লবী আন্দলনের সাথে যুক্ত থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তিনি নিখোঁজ হন।

রুমা চক্রবর্তী একাত্তরে স্কুল ছাত্রী ছিলেন। দেশের টানে ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেন তিনি। এছাড়া আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য আগে থেকেই নিজেকে তৈরি করেন এই সাহসী নারী।

বিয়ের পর থেকে তিনি রুমা চক্রবর্তী হিসেবে পরিচিত। বাবা রবীন্দ্র রায় চৌধুরী এবং মা সরজ বালা চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় নবম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন রুমা রায়। তিনি ঢাকায় বড় বোনের বাসায় থেকে পড়াশোনা করার কারণে তৎকালীন আন্দোলন-সংগ্রামের সাথে জড়িয়ে পড়েন।

রুমা মিরপুর হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার প্রশিক্ষণ নেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি হিসেবে ঢাকা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়েও নার্সিং প্রশিক্ষণ নিয়ে সহকারী সেবিকা হিসেবে কাজ শুরু করেন৷ পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে এবং বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কাঠের বন্দুক নিয়ে প্রশিক্ষণ নেন কিশোরী রুমা রায়।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর