বাতির নিচ অন্ধকার!
বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৫৫

যত্রতত্র অবৈধ পার্কিংয়ে নগরজুড়ে অসহনীয় যানজট

বাতির নিচ অন্ধকার!

খলিলুর রহমান

প্রকাশিত: ২৭/০২/২০২৪ ০৩:৪২:৩৭

বাতির নিচ অন্ধকার!


সিলেট নগরের রাস্তাগুলো কম প্রশস্ত নয়, বিগত কয়েকবছরে দোকানপাট, বাসাবাড়ি, স্কুল-মাদ্রাসা, মসজিদ, উপাসনালয়, বিপনীবিতানগুলো ভেঙ্গে প্রশস্ত করা হয়েছে সবকটি রাস্তা। ডিভাইডার দেওয়ো হয়েছে রাস্তাগুলোর মধ্যখানে। উদ্দেশ্য ছিল যানজট নিরসন। কিন্তু নিরসন হয়নি যানজটের। বরং দিনদিন আরোও প্রকট আকার ধারণ করছে এ ব্যাধি। নগরবাসী এহেন দুর্ভোগের জন্য যানবাহনের বিশৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রনহীনতাকেই দায়ি করেছেন।

বস্তুত পুরো সিলেটই এখন যানবাহনের নগরী, স্ট্যান্ডে’র নগরী। নগরী রাস্তার এমন কোনো স্থান নেই যেখানে গড়ে ওঠেনি অবৈধ সিএনজি ও কার মাইক্রো স্ট্যান্ড। খোদ নগরভবনের সামনে সবচেয়ে বৃহাদাকারে স্ট্যান্ড। হামেশাই  ভিঘ্ন ঘটে জনচলাচলে। রাস্তার ধার দিয়ে হেটে চলতে গিয়ে নগরভবনের সামনে গিয়ে থমকে দাঁড়াতে হয় পথচারীদের। সামনে দিকে যাওয়ার বকা বেরোবার কোনো পথই থাকেনা।

নগরভবনের একটি ফটক যাবাহান প্রবেশেরে জন্য খোলা রাখা হলেও মূল ফটক বন্ধ খাকে দিনরাত। আর এ মূল ফটকের সামনেই স্ট্যান্ড বসিয়ে চালানো হয় চাঁদাবাজি ও ওহকার ব্যবসা। অনেকের মতে মূল ফটকটি বন্ধ রাখা হয় ‘কুখ্যাত’ স্ট্যান্ডবাজদের খুশি করতেই। সরেজমিনে দেখা যায় প্রত্যহ রাতদিন এখানে সিএনজি অটো রিক্শা দাঁড় করিয়ে স্ট্যান্ডবাজরা হাজার হাজার টাকা এবং মাসে লাখ লাখ টাকা অবৈধ কামাই করে থাকেন। আর এ চাঁদার অঘোষিত একটি অংশ নগরভবনে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ যেনো বাতির নিচ অন্ধকার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগরভবনের সামনে দাঁড় করে রাখা এক সিএনজি অটোরিক্শা চালক জানান, নগরভবনেরর মূল ফটকে  সিলেট সিটি কর্পোরেশেনের কর্তাব্যক্তিরা অঘোষিতভাবে অটো স্ট্যান্ডের জন্য ভাড়া দিয়ে ফেলেছেন। দৈনিক ওঠানো টাকা থেকে একটা হারে নগর ভবনের লোকজনদের দিয়েই বসানো হয়েছে সিএনজির এ স্যান্ড।

নগরভবনের সামনের পার্ক করা সিএনজি চালকরা এতোই বেপরোয় যে, তারা পথচারীদের শুধু আটকায় না, বরং পথচারীওেদর সাথে দুর্ব্যবহারও করে থাকে।

একজন পথচারী অভিযোগ করে বলেন- হেড পোস্ট অফিসের সামন থেকে পশ্চিম দিকে যেতে গিয়ে নগরভবনের সামনে গিয়ে আটকা পড়ি। ডানে বামে ও সামনে পেছনে সিএনজি একটার সাথে আকেটা লাগিয়ে দাড় করানো। বেরোবার কোনো পথ না পেয়ে এক সিনজি চালককে রাস্তা ছেড়ে দিতে বললে সে বলে ওঠে ‘ হেলিকপটার দিয়ে উপর দিকে শূন্য দিয়ে চলে যান। আমরা  টাকা (চাঁদা) দিয়ে গাড়ি র্পাক করে রাখি। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে খানকার চাঁদাবাজ স্ট্যান্ড মাস্টার এসে কোনো মতে আমাকে বের করে দিলে আমি হা্ফ ছেড়ে বাঁচি।

নগরভবনের সামন ছাড়াও কোর্ট পয়েন্ট, সুমরা পয়েন্টে, চৌহাট্টা আম্বরখানা, সুবিদবাজার, মেডিকেল ধোপাদিঘির পার মদিনা মার্কেট সহ এমন কোনো স্থান নেই যেখানে সিএনজি, লেগুনাস্ট্যান্ড নেই। যত্রতত্র স্ট্যান্ড ছাড়াও নগরজুড়ে রয়েছে হরেক প্রকার যানবাহনের ছড়াছড়ি।  রাস্তাগুলোর ধারণ ক্ষমতার অধিক যানবাহন  এবং যানচলাচলে বিশৃঙ্খলার কারণে যেখানে সেখানে লেগে থাকে যানজট।

কথা হয় এক সিএনজি অটো চালকের সাথে। সে জানায় নগরে রাস্তা য’টুক প্রশস্থ করা হয়েছে এর দ্বিগুন তিনগুন বড় ও প্রশস্থ করা হলেও যানজট থাকবেই থাকবে। এর মূল কারণ, যানবাহনে নগর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রনহীনতা। নগরের রাস্তা দিয়ে রিক্শা থেকে শুরু করে সবধরণের যানবাহন চালানোর সুযোগ থাকায় চালকরা ইচ্ছে মতে যাবাহন চালাতে থাকে। এমনকি প্যাডেল রিক্শাও রাস্তার দ্রুততর অংশে প্রবেশ করে অন্য গাড়ি আটকে দিতে পারে। এখানে বাঁধা দেওয়ার কেউ নেই।

ওই চালক আরো জানায় য়াত্রীর তুলনায় নগরে পাঁচগুন বেশি অটোরিক্শা ও যানবাহন চলাচল করে থাকে। নগরে গাড়ি চলাচলে কোনো লিমিটেশন নেই। যে যেখান থেকে ইচ্ছে সিএনজি নিয়ে উড়ে এসে রাস্তা জুড়ে বসতে পারে। নগরের প্রতিটি স্ট্যান্ডে যাত্রীর তুলনায় সিএনজি বশি থাকায় আমাদেরকে রটেশনে গাড়ি চালাতে হয়।

নগরবাসীদের মধ্যে কয়েকজনের সাথে আলাপ করলে তারা মন্তব্য করেন, আমাদের বাসাবাড়ি ও দোকানপাট উচ্ছেদ করে রাস্তা বড় করে নগরবাসীর কোনো লাভ হয়নি। লাভ হয়েছে চাঁদাবাজ ও স্ট্যান।ডবাজদের। আগে স্ট্যান্ড সংখ্যা কম ছিল, এখন হয়েছে দ্বিগুন থেকে তিনিগুন।

অপর কয়েকজন জানান, আগে মাঝে-মধ্যে হকার ও অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হতো। গত ৭ নভেম্বর আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মেয়র পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর স্ট্যান্ড উচ্ছেদে কোনো উদ্যোগ নেয়নি সিটি করপোরেশন। ফলে স্ট্যন্ডবাজরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তারা নগরীর ব্যস্ততম সড়কের বহুলাংশ ও ফুটপাত দখল করে হকার এবং স্ট্যান্ড ব্যবসা করছেন।

বিজ্ঞ মহলের দাবি নগরে রাস্তাঘাট অধিক প্রশস্ত না করে যান বাহনে চলাচল বিধি নিষেধ আরোপ,  সদর রাস্তাগুলোতে সিএনজি অটোরিক্শার গণপরিবহন (লাকাল সার্ভিস) বন্ধ করে নগর পরিবহন বৃদ্ধি করলে যানজটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে।

জানতে চাইলে সিলেটে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার আহমদ চৌধুরী জানান, নগর ভবনের প্রধান ফটক নগরভবনের নির্মান সামগ্রী রাখার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। নগরের রাস্তায় কোনো বৈধ স্ট্যান্ড নেই। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসার কারণে এই অনিয়ম যেনো নিয়মে পরিনত হয়ে গেছে। হঠাৎ করে উচ্ছেদ করতে গেলে আমাদেরকে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের রোষানলে পড়তে হয়। অতীতে এ রকম অনেক অঘটন ঘটেছে। হামলা-মামলাও হয়েছে প্রচুর। তাই আমরা সবদিক সামাল দিয়ে বৈধ স্ট্যান্ড  ও হকার পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিচ্ছি।

আজকের সিলেট /কে.আর

সিলেটজুড়ে


মহানগর