নতুন পাতার কুঁড়ি গজাতে শুরু, সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকরা
বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৩১

নতুন পাতার কুঁড়ি গজাতে শুরু, সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকরা

মোঃ ফারুক মিয়া

প্রকাশিত: ২৮/০২/২০২৪ ০৩:১২:৪৯

নতুন পাতার কুঁড়ি গজাতে শুরু, সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকরা

সবুজে চেয়ে গেছে সিলেটের চা বাগান। ছবি- জনি কান্ত শর্মা


দুটি পাতার একটি কুঁড়ি আমাদের এই সিলেট, সিলেটকে হরত শাহজালাল, শাহপরান ও শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলা  বা আধ্যাত্মিক ভূমি বলা হয়। সিলেটের পর্যটনের মধ্যে অন্যতম সৌন্দর্য হল চা বাগান। ছোট্ট সবুজ পাহাড় ঘেরা, নদী-নালা, খাল-বিল প্রাকৃতিক সম্পদ আর সৌন্দর্যে ভরপুর সিলেট, যা দেখতে বাংলাদেশের বিভিন্ন ও বাংলাদেশের বাইরে থেকেউ পর্যটকরা ছুটে আসেন চায়ের রাজধানী সিলেটকে দেখার জন্য । ইতিমধ্যে নতুন সবুজ পাতার কুঁড়ি দিতে শুরু করেছে যা দেখতে মনোমুগ্ধকর। সিলেটের সৌন্দর্যকে লেখক, কবি, সাহিত্যিক ও পর্যটকেরা ভিন্ন ভিন্ন নামে সম্বোধন করেছেন। 

সিলেট শহরের থেকে লাক্কাতুরা ও মালিনীছড়া চা বাগানের দূরত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার। শহরের উত্তর প্রান্তে এ দুটি বাগানের অবস্থান। এ বাগান দুটি ও তার চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শকদের মনে নতুন প্রাণের স্পন্দন জোগায়। যা দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক আসেন এসব চা বাগানে। মঙ্গলবার এই  দুটি চা বাগান ঘুরে দেখা যায় ইতিমধ্যে নতুন পাতার কুঁড়ি দিতে শুরু করেছে গাছগুলো যা দেখতে সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর। 

বিকেলের দিকে দেখা যায় এই সবুজ গালিচার ছবি ফ্রেম বন্দি হতে ব্যস্ত চা বাগানে ঘুরতে আসা পর্যটকরা।  চা বাগানের ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখা যায় নতুন গজানো চা গাছের এই সৌন্দর্যের লীলা ভূমি দেখতে কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধু বান্ধব নিয়ে কেউ বা নিজের প্রিয়সীকে নিয়ে বাগানে ঘুরতে এসেছেন। আর কেউ বা চা বাগানের মধ্যে বসে ছোট ছোট টং দোকানে বসে চা পান করছেন আর বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। 

উঁচু নিচু টিলা সমতল যে দিকেই তাকানো যায় শুধু সবুজ আর সবুজ দেখতে যেন শিল্পীর আল্পনায় আঁকা ছবির মত। সিলেটের এই চা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন পর্যটকরা।  শুধু বাংলাদেশ নয় বাংলাদেশের বাইরে থেকেউ ছুটে আসেন পর্যটকরা এসব চা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য।  যে দিকেই তাকানো যায় শুধু সবুজ আর সবুজ আর কচি পাতার হলুদ বরণ আবরণের স্নিগ্ধতা। 

এছাড়াও সিলেট বিভাগের মধ্যে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সদর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক চা বাগান। কয়েক লাখ একর জায়গার এ চা-বাগানগুলোতে দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ চা উৎপন্ন হয়। দেশের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত চা বিদেশে রপ্তানি হয়, আয় হয় প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা। এ চা-পাতা উৎপাদিত হয় দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি থেকে। সাধারণত নিচু জায়গা হতে তুলনামূলক উঁচু সমতল ভূমি এবং ছোট আঁকারের টিলা ও তার পাদদেশে চা গাছ জন্মায় বেশি।  চা গাছের চারা রোপণ করার প্রায় পাঁচ বছর পর থেকে উৎপাদন শুরু হয়। 

পর্যটকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেক সময় এসব চা বাগানের ভিতরে ডুকতে তাদের নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। যার ফলে উধ্বর্তন প্রশাসনের কর্মকর্তারা যেন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন পর্যটকদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের ক্যাম্প করার জোড় দাবি জানান। 

টং দোকানির সাথে কথা বলে জানা যায়, চা বাগানে সারা বছর পর্যটক আসেন তবে সব থেকে বেশি সময় পর্যটক আসেন যখন নতুন চা পাতা গজায় তখন। আর এমনিতে আমাদের শহরের আশ পাশের মানুষ প্রতি সপ্তাহেই আসেন। আর পর্যটক আসলে আমাদের বেচাকেনা ভাল হয়। 

শ্রীমঙ্গল, সাতগাঁও, মাধবপুর, রশীদপুর তেলিয়াপাড়া ও জুড়ি এলাকায় চা বাগানের সংখ্যা বেশি। এসব এলাকার টিলা জমি চা উৎপাদনের জন্য সহায়ক।বর্ষাকালে চা গাছে নতুন কুঁড়ি ও পাতা জন্মালে খুব সুন্দর ও মসৃণ দেখায়। আর এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকরা বেশি  ভিড় করেন সিলেটের চা বাগান গুলোতে।

আজকের সিলেট/জেকেসস

সিলেটজুড়ে


মহানগর