কেমন ছিল গত ১২টি সংসদ নির্বাচনের চিত্র
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৫:২৩ AM

কেমন ছিল গত ১২টি সংসদ নির্বাচনের চিত্র

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২/১২/২০২৫ ১০:৫২:৪৩ AM

কেমন ছিল গত ১২টি সংসদ নির্বাচনের চিত্র


ইতিমধ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন রেখে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপর রাতেই ৩০০ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে (ইসি)।

স্বাধীনতার পর দেশে এখন পর্যন্ত ১২টি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচন ছিল বহুল বিতর্কিত। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনকে বলা হয় ডামি ভোটের নির্বাচন, তার আগেরটি রাতের ভোটের নির্বাচন এবং ২০১৩ সালের নির্বাচনকে বলা হয় বিনা ভোটের নির্বাচন। সেবার ১৫২ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি ঘোষিত হন।

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ ছয়বার, বিএনপি চারবার ও জাতীয় পার্টি দুবার সরকার গঠন করে।

প্রথম সংসদ নির্বাচন
স্বাধীনতার পর প্রথম ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দুই বছর ছয় মাস মেয়াদ পাওয়া এই সংসদের নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫ দশমিক ৬১ শতাংশ।

৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩টিতে জয়ী হয় মেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। বিরোধীদের মধ্যে জাতীয় লীগ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একজন করে এবং স্বতন্ত্র পাঁচ জন প্রার্থী বিজয়ী হন।

দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন
১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিন বছর মেয়াদ পাওয়া এই নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এতে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি ২০৭টি এবং আওয়ামী লীগসহ অন্য দলগুলো পায় ৭৭টি আসন।

এর মধ্যে আওয়ামী লীগ (মালেক) ৩৯টি, আওয়ামী লীগ (মিজান) দুটি, জাসদ ৮টি, মুসলিম ও ডেমোক্রেটিক লীগ ২০টি, জাতীয় লীগ দুটি, ন্যাপ একটি, বাংলাদেশ গণফ্রন্ট দুটি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল একটি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দল একটি ও জাতীয় একতা পার্টি একটি আসন পায়। বাকি ১৬ আসনে জয়ী হন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

তৃতীয় সংসদ নির্বাচন
১৯৮৬ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি ১৫৩টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে। ভোটের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। বিএনপি এ নির্বাচন বর্জন করলেও আন্দোলনকারী জোটের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

১৭ মাস মেয়াদি এই সংসদে আওয়ামী লীগ ৭৬টি, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ১০টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) পাঁচটি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি পাঁচটি, মুসলিম লীগ চারটি, জাসদ (রব) চারটি, জাসদ (সিরাজ) তিনটি, ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি, ন্যাপ (মোজাফফর) দুটি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) তিনটি, আসন পায়। বাকি ৩২ আসনে নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

চতুর্থ সংসদ নির্বাচন
১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এ নির্বাচন বর্জন করে। দুই বছর সাত মাস বয়সী এই নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫১ দশমিক ৮১ শতাংশ। জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসন পায়। ১৯টি আসন পেয়ে সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসে জাসদের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত বিরোধী দল। এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫টি, জাসদ (সিরাজ) তিনটি ও ফ্রিডম পার্টি দুটি আসন লাভ করে।

পঞ্চম সংসদ নির্বাচন
গণঅভুত্থানে এরশাদের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সংসদের মেয়াদ ছিল চার বছর আট মাস।

বিএনপি ১৪০টি আসনে জয়লাভ করে। আওয়ামী লীগ ৮৮টি, জাতীয় পার্টি ৩৫টি, জামায়াতে ইসলামী ১৮টি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) পাঁচটি, জাসদ (সিরাজ) একটি, ইসলামী ঐক্যজোট একটি, সিপিবি পাঁচটি, ওয়ার্কার্স পার্টি একটি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) একটি, গণতন্ত্রী পার্টি একটি ও ন্যাপ (মোজাফফর) একটি আসন পায়। তিনটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করে।

ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১২ দিনের স্বল্পমেয়াদি এই সংসদে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

৪১টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়। বিএনপি ২৭৮টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে। নির্বাচনে ফ্রিডম পার্টি একটি আসন পায়। বাকি ১০ আসনে জয়লাভ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

সপ্তম সংসদ নির্বাচন
১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয়লাভ করে। পূর্ণ পাঁচ বছর মেয়াদি এই সংসদের নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। বিএনপি ১১৬টি, জাতীয় পার্টি ৩২টি, জামায়াতে ইসলামী তিনটি, ইসলামী ঐক্যজোট একটি ও জাসদ একটি আসন পায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় লাভ করেন একটি আসনে।

অষ্টম সংসদ নির্বাচন
২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পূর্ণ পাঁচ বছর মেয়াদি এই সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

বিএনপি ১৯৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ ৬২টি, জামায়াতে ইসলামী ১৭টি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১৪টি, জাতীয় পার্টি (না-ফি) চারটি, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) একটি, ইসলামিক ঐক্যজোট দুটি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ একটি আসন পায়। বাকি ছয় আসনে জয় পান স্বতন্ত্র প্রার্থী।

নবম সংসদ নির্বাচন
এক-এগারোর পর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।

আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ৩০টি, জাতীয় পার্টি ২৭টি, জাসদ তিনটি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি দুটি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) একটি, জামায়াতে ইসলামী দুটি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) একটি আসন পায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয় চার আসনে।

দশম সংসদ নির্বাচন
বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোটের বর্জনের মধ্য দিয়ে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫২টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগ একাই ২৩৪টি আসন পায়। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৪০ দশমিক ০৪ শতাংশ।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ৩৪টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ছয়টি, জাসদ (ইনু) পাঁচটি, তরীকত ফেডারেশন দুটি, জাতীয় পার্টি (জেপি) দুটি, বিএনএফ একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৬টি আসনে জয়লাভ করে।

একাদশ সংসদ নির্বাচন
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনকে বলা হয় রাতের ভোটের নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জোটের শরিকরো রাতেই ব্যালট বক্স ভরে ফেলে ব্যালট পেপার দিয়ে। এ নির্বাচনে ভোটের হার দেখানো হয় ৮০ দশমিক ২০ শতাংশ।

এতে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৮টি আসন পায়। জাতীয় পার্টি ২২টি এবং মহাজোটভুক্ত অন্য দলগুলো ৮টি আসনে জয়ী হয়। অপরদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত বিএনপি ৬টি, গণফোরাম দুটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তিনটি আসনে জয়ী হন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ডামি ভোটের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২২, জাতীয় পার্টি ১১, ওয়ার্কার্স পার্টি এক, জাসদ এক, কল্যাণ পার্টি এক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২ আসনে বিজয়ী হন। বিএনপি-জামায়াতসহ ১৬টি নিবন্ধিত দল ভোট বর্জন করে। এই সংসদ স্থায়ী হয়েছিল ৬ মাস ৭ দিন।

২৪২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পতন শেখ হাসিনা সরকারের। দেশ ছেড়ে পালান শেখ হাসিনাসহ তার দলের নেতাকর্মীরা।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর