শিলিগুড়িতে বাংলাদেশিদের জন্য হোটেল বন্ধ
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৯ AM

শিলিগুড়িতে বাংলাদেশিদের জন্য হোটেল বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭/১২/২০২৫ ১০:৩১:০০ AM

শিলিগুড়িতে বাংলাদেশিদের জন্য হোটেল বন্ধ


বাংলাদেশে বিরাজমান কথিত রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ‘ভারতবিরোধী বক্তব্যের’ প্রতিবাদে বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছে হোটেল কক্ষ ভাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের শিলিগুড়ির প্রভাবশালী সংগঠন বৃহত্তর শিলিগুড়ি হোটেল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি। এ সিদ্ধান্তের ফলে পর্যটন, শিক্ষা কিংবা চিকিৎসা-কোনো উদ্দেশ্যেই এখন থেকে বাংলাদেশিদের কাছে তাদের সদস্যভুক্ত হোটেলগুলোতে কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হবে না।

শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংগঠনটির জয়েন্ট সেক্রেটারি উজ্জ্বল ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসেই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশিদের কাছে হোটেল ভাড়া বন্ধ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে সে সময় মানবিক বিবেচনায় শিক্ষার্থী ও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আসা বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল রাখা হয়।

উজ্জ্বল ঘোষ বলেন,‘ডিসেম্বর ২০২৪ থেকেই আমাদের সদস্যরা বাংলাদেশিদের হোটেল না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তখন মানবিক কারণে ছাড় দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে কথিত সহিংসতা ও ভারতবিরোধী মনোভাব বাড়তে থাকায় এখন থেকে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।’

তার দাবি অনুযায়ী, সংগঠনটির আওতাধীন শিলিগুড়ির প্রায় ১৮০টি হোটেল এই সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবে। এছাড়া সংগঠনের বাইরে থাকা আরও প্রায় ৫০টি হোটেলও বর্তমানে বাংলাদেশিদের কাছে কক্ষ ভাড়া দিচ্ছে না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ফলে শিলিগুড়িতে বাংলাদেশিদের জন্য থাকার জায়গা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

প্রসঙ্গত, প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি পর্যটক নেপাল ও ভুটানে যাতায়াতের ট্রানজিট হিসেবে এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের উদ্দেশ্যে শিলিগুড়ি সফর করে থাকেন। নতুন এই গণ-নিষেধাজ্ঞার ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে আসা রোগী ও অভিভাবকহীন শিক্ষার্থীরা।

টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ির পর্যটন ও হোটেল ব্যবসা অনেকাংশেই বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্লেষকদের মতে, হোটেল ব্যবসায়ীদের এমন কট্টর অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে হোটেল মালিকদের দাবি, জাতীয় স্বার্থ ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে তারা সম্ভাব্য ব্যবসায়িক ক্ষতির ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত। এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের ওপর একটি বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর