ঈদের দিনে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৩:৩৮ PM

ঈদের দিনে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০/০৩/২০২৬ ১১:৫৪:০৮ AM

ঈদের দিনে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার


পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ দিনে আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি নানা ধরনের সুস্বাদু ও ক্যালরিবহুল খাবারের আয়োজন থাকে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাত্রাতিরিক্ত খাবার গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

রমজান মাসজুড়ে সংযমের পর ঈদের দিন সকাল থেকেই শুরু হয় খাওয়া-দাওয়া, যা অনেক ক্ষেত্রে রাত পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলতে থাকে। এতে হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ পড়ে পাকস্থলীর ওপর, ফলে পরিপাকে সহায়ক এনজাইম সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।

চিকিৎসকদের মতে, অতিভোজনের কারণে পেটে ব্যথা, গ্যাস্ট্রাইটিস, ডায়রিয়া, বমি ও মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে Irritable Bowel Syndrome (আইবিএস)-এর মতো জটিল সমস্যাও তৈরি হতে পারে।

ঈদের সকালে মিষ্টিজাতীয় খাবার যেমন সেমাই, পায়েস, পুডিং, কাস্টার্ড ও ফালুদা খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। পাশাপাশি পোলাও, বিরিয়ানি, কোরমা, রোস্ট, কাবাবসহ বিভিন্ন তেল-চর্বিযুক্ত খাবারের আয়োজন থাকে। এসব খাবারে ঘি, চিনি, দুধ, দই, কিশমিশ ও বাদাম ব্যবহারের ফলে স্বাদ ও পুষ্টি বাড়লেও অতিরিক্ত গ্রহণ ক্ষতিকর হতে পারে।

পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দিচ্ছেন, দুপুর ও রাতের খাবারে সালাদ, লেবু, চাটনি, দই, বোরহানি বা ঘোল রাখা উচিত। এতে হজম প্রক্রিয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে রান্নায় অতিরিক্ত তেল, ঘি ও মসলার ব্যবহার এড়িয়ে চলারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা কিডনি সমস্যা রয়েছে, তাদের খাবারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। ডায়াবেটিস রোগীরা বিকল্প চিনি ব্যবহার করতে পারেন, হৃদরোগীদের কম তেলযুক্ত খাবার গ্রহণ করা উচিত এবং কিডনি রোগীদের লাল মাংস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সবশেষে চিকিৎসকদের পরামর্শ, ঈদের দিনে খাবার হতে হবে টাটকা, পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য। একসঙ্গে বেশি না খেয়ে সময় নিয়ে বিরতি দিয়ে খাবার গ্রহণ করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

এছাড়া ভোজনে বিশেষ আয়োজন ঈদের দিনের অন্যতম অনুষঙ্গ। এদিন প্রতিটি বাড়িতেই নানান সুস্বাদু খাবার রান্না করা হয়। আপনার ঈদ উৎসবে খাবার টেবিলের আয়োজনে বাড়তি রসনা যোগ করবে স্বাস্থ্যকর রেসিপি। জেনে নিন এবারের ঈদুল ফিতরের স্বাস্থ্যকর রেসিপি....

দুধ সেমাই
ঈদের দিনে সেমাইয়ের সুস্বাদু নানা পদ জিভে জল আনবেই। তবে সব কিছুর মাঝেও দুধ সেমাইয়ের কদর কখনোই কমে না। ঈদের সকালে দুধ সেমাইয়ের স্বাদ যেন উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে স্পেশাল দুধ সেমাই তৈরি করবেন যেভাবে -

উপকরণ
১. দুধ ১ লিটার
২. চিনি ১ কাপ
৩. সেমাই ১ কাপ
৪. ঘি ১ টেবিল চামচ
৫. বাদামকুচি ১ টেবিল চামচ
৬. কিশমিশ ১ টেবিল চামচ
৭. এলাচি ২-৩টি
৮. দারুচিনি ২ টুকরা

প্রস্তুত প্রণালি
প্রথমে একটি প্যানে সামান্য ঘি দিয়ে সেমাই হালকা করে ভেজে নিন। এতে সেমাইয়ের সুগন্ধ ও স্বাদ আরও ভালো হবে।এরপর একটি পাত্রে দুধ, চিনি, এলাচি ও দারুচিনি একসঙ্গে জ্বাল দিন। দুধে ফুটে উঠলে ভেজে রাখা সেমাই এতে দিয়ে দিন। এরপর মাঝারি আঁচে কিছুক্ষণ জ্বাল দিয়ে সেমাই ঘন করে নিন। সেমাইয়ে দুধ মিশে গেলে বাদামকুচি ও কিশমিশ দিন। ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন। সবশেষে এতে বাদাম কুচি ও কিশমিশ দিয়ে দিন। কয়েক মিনিট নেড়ে চুলা থেকে নামিয়ে নিন। সেমাই কিছুটা ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন।

লাউয়ের পায়েস
মিষ্টি জাতীয় খাবারের মধ্যে পায়েসের জনপ্রিয়তা বেশ। এই পায়েস যে শুধু চাল দিয়ে তৈরি করা যায়, তা কিন্তু নয়। বরং আরও অনেক কিছু দিয়েই তৈরি করা যায় সুস্বাদু পায়েস। আজ চলুন জেনে নেয়া যাক তেমনই একটি পদ লাউয়ের পায়েস তৈরির রেসিপি-

উপকরণ
লাউ ১টি (মাঝারি)
চিনি পচ্ছন্দ মতো
দুধ ২ লিটার
ঘি ২ টেবিল চামচ
এলাচ ২ টি
দারুচিনি ২ টুকরো
তেজপাতা ১ টি
গোলাপ জল সামান্য

প্রণালি
প্রথমে লাউয়ের খোসা ফেলে কেটে নিন। তারপর লাউয়ের মাঝখানের বিচিসহ নরম অংশ ফেলে দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। গ্রেটারে লাউ চিকন করে কুচিয়ে করে ও সিদ্ধ করে নিন।পানি ঝরিয়ে ঠান্ডা হলে চিপে পানি ফেলে দিন।

অন্য একটি পাত্রে ২ লিটার দুধ ফুটিয়ে ১ লিটার করুন। এরপর চিনি, এলাচ, দারুচিনি, তেজপাতা যোগ করে দুধের মিশ্রণ ঘন করুন। পাত্রে ঘি ও সিদ্ধ লাউ দিয়ে ভেজে নিন। এবার দুধের ঐ ঘন মিশ্রণ দিয়ে ফুটে ঘন হয়ে আসলে গোলাপ জল দিলেই তৈরি হয়ে যাবে মজাদার লাউয়ের পায়েস।

রোহাবী বাদামি চিকেন বিরানি
উপকরণ
মুরগি: ১ টি (৪ পিস করে কাটা)
আদা বাটা: ১ টেবিল চামচ
রসুনবাটা: হাফ টেবিল চামচ
বাদাম বাটা: ১ টেবিল চামচ
লবণ: স্বাদ মতো
মরিচ গুঁড়া: ১ চা চামচ
গোল মরিচ গুঁড়া: ১ চা চামচ
জর্দা রং: সামান্য
জয়ফল জয়িত্রি বাটা: ১ চা চামচ
দারচিনি: ৩/৪ টুকরা
এলাচ: ৭/৮ টি
তেজপাতা: ১ টি
টক দই: হাফ কাপ (সব উপকরণ মেরিনেট করে রাখতে হবে ৩০ মিনিট। পোলাউয়ের চাল হাফ কেজি ১ চামচ লবন দিয়ে আধা সেদ্ধ করে রাখতে হবে।)

প্রণালি
প্রথমে একটি পাত্রে হাফ কাপ বাটার অয়েল দিয়ে এক কাপ পেঁয়াজ ভেজে বেরেস্তা করে নিতে হবে। এরপর মেরিনেট করা চিকেন দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করতে হবে। প্রয়োজন হলে সামান্য পানি দিতে হবে। মাংসে তেল উঠে আসলে চুলা থেকে নামিয়ে রাখতে হবে। এবার একটি পাত্রে রান্না করা চিকেনগুলো তুলে নিতে হবে।

এখন সেদ্ধ ভাত প্রথমে অর্ধেক পরিমাণ ছড়িয়ে দিতে হবে। এই ভাতের উপর রান্না করা চিকেনগুলো দিতে হবে। এরপর হাফ কাপ ঘনো দুধে জাফরান গুলিয়ে দিতে হবে। ৩/৪ টি কাঁচা মরিচ কিছু বেরেস্তা, বাদাম কুচি, কিশমিশ, ২ টেবিল চামচ ঘি একে একে সব ছড়িয়ে দিতে হবে। তারপর বাকি সেদ্ধ ভাতগুলো ছড়িয়ে ঢাকনা দিয়ে মাঝারি আছে রান্না করব। ৪/৫ মিনিট পর চুলা কমিয়ে ঢিমে আছে আধ ঘন্টা রাখতে হবে। এরপর চুলা থেকে নামিয়ে সিদ্ধ ডিম, বাদাম ও গ্রিন অলিভ দিয়ে সার্ভ পরিবেশন করব।

বিফ কোফতা
উপকরণ
কিমা: হাফ কেজি
বুটের ডাল: ১০০ গ্রাম
ভাজা শুকনো মরিচ: স্বাদ মতো
লবন: স্বাদ মতো
দারচিনি: ২ টুকরো
এলাচ: ৪ টি
জয়ফল জয়ত্রী: হাফ চা চামচ
বেরেস্তা: হাফ কাপ
আদাবাটা: ১ টেবিল চামচ
রসুন বাটা: ১ চা চামচ
তেল: (ভাজার জন্য)

প্রণালি প্রথমে কিমা আর ডাল সিদ্ধ করে নিতে হবে। ঠান্ডা হলে সব উপকরণ বেটে/ মিকচারে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এবার ১ টি ডিম ও ১ চামচ ঘি দিয়ে সব মেখে ছোট ছোট বল আকৃতির কোফতা তৈরি করে নিতে হবে। এবার ডুবো তেলে লাল করে ভেজে তুলে গরম গরম পরিবেশন করতে হবে।

গরুর তেহারি
ঈদের দিনে ঘরোয়া আয়োজনে বিফ বা গরুর তেহারি খেতে পছন্দ করেন সবাই। সাধারণত বিভিন্ন বিরিয়ানির দোকান থেকেই বিফ তেহারি খাওয়া হয় বেশি। তবে চাইলে ঘরেও খুব সহজে রাঁধতে পারবেন তেহারি। রেসিপি অনুযায়ী এটি রান্না করলে ঠিক বিরিয়ানির দোকানের মতোই হবে বিফ তেহারি, রইলো রেসিপি-

উপকরণ
১. গরুর মাংস ১ কেজি
২. পোলাও চাল আধা কেজি
৩. পেঁয়াজ কুচি পরিমাণমতো
৪. লবঙ্গ ২-৩টি
৫. তেজপাতা ১টি
৬. ঘি ১ চা চামচ
৭. পানি পরিমাণমতো
৮. লবণ পরিমাণমতো
৯. আলুবোখারা ৭-৮টি
১০. এলাচ ৩-৪টি
১১. আদা বাটা ২ টেবিল চামচ
১২. ধনে গুঁড়ো ১ চা চামচ
১৩. গরম মসলার গুঁড়া ১ চা চামচ
১৪. মরিচের গুঁড়া ১ চা চামচ
১৫. জিরা ১ চা চামচ
১৬. বাদাম বাটা আধা কাপ
১৭. পোস্ত বাটা ২ টেবিল চামচ
১৮. তেল পরিমাণমতো
১৯. কাঁচা মরিচ ৫-৬টি
২০. পেঁয়াজ বেরেস্তা পরিমাণমতো।

পদ্ধতি
প্যানে তেল গরম করে ঘি, পেঁয়াজ কুচি, লবঙ্গ, তেজপাতা ও পোলাও চাল ভালোভাবে ভেজে নিন কিছুক্ষণ। এরপর পরিমাণমতো পানি, লবণ, আলু বোখারা ও এলাচ ভালোভাবে মিশিয়ে ঢেকে দিন।

এরপর প্যানে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি ভাজুন। বাটিতে আদা বাটা, ধনে গুঁড়ো, গরম মসলার গুঁড়ো, জিরা, বাদাম বাটা ও পোস্ত বাটা নিয়ে ফ্রাইপ্যানে ঢেকে ভালোভাবে কষাতে হবে।

কষানো হলে এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ ও গরুর মাংস দিয়ে রান্না করুন। এরপর কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজ বেরেস্তা দিয়ে সসপ্যানে পোলাওয়ের সঙ্গে মিশিয়ে কিছুক্ষণ দমে রাখুন। ব্যস তৈরি হয়ে গেল গরুর তেহারি।

মেজবানি মাংস
চট্টগ্রামের মেজবানি মাংস হল এই অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার। এটি সাধারণত গরুর মাংস দিয়ে তৈরি করা হয়, এবং এর স্বাদ ও গন্ধ অসাধারণ। মেজবানি মাংসের রান্না ও পরিবেশন একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যা এটিকে অন্য সব মাংসের রান্নার থেকে আলাদা করে। মেজবানি মাংসের রান্না একটি বিশেষ পদ্ধতিতে করা হয়। এতে বিভিন্ন ধরনের মসলা ব্যবহার করা হয়, যা এর স্বাদ এবং গন্ধকে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তোলে।

খাবার টেবিলে নানান পদের মেনুতে চট্টগ্রামের মেজবানের মাংস থাকা যেন বহু বছরের পুরোনো ঐতিহ্য। যারা খেতে ভালোবাসেন, তারা চট্টগ্রাম এসে মেজবানের মাংসের স্বাদ নেবেন না- এমনটি কখনই হয়নি।

গরম ভাত। সঙ্গে গরুর মাংস। মাংসের ভেতর কালো ভুনা চাই। ছোলার ডালে মেশানো হয় কিছু বাড়তি মাংস। কখনো হাড়। খাবার শেষে আবার গরুর নলা (পায়ের হাড়)।

মেজবানি খাবারের রেস্টুরেন্টের সৌজন্যে এখন চট্টগ্রাম না গিয়েও এর স্বাদ নেওয়া যায়। তবে রেস্টুরেন্টে গিয়ে নয়, চাইলে ঘরেই আপনি তৈরি করতে পারেন মেজবানি মাংস। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক রেসিপি-

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের ধারক মজাদার মেজবানি মাংস, যেভাবে রান্না করবেন
তৈরি করতে যা লাগবে
গরুর মাংস- ২ কেজি
পেঁয়াজ কুচি- ১ কাপ
রসুন বাটা- ১ টেবিল চামচ
হলুদ ও মরিচ গুঁড়া- ১ টেবিল চামচ
ধনে ও জিরা গুঁড়া- ১ টেবিল চামচ
সরিষার তেল- ১ কাপ
মাংসের মসলা- ১ চা চামচ
টক দই- ১ কাপ
কাঁচা মরিচ- ১০/১২টি
গোলমরিচ- ১ চা চামচ
দারুচিনি- ও এলাচ ৫/৬টি
জয়ফল ও জয়ত্রী- আধা চা চামচ
মেথি গুঁড়া- ১ চা চামচ
লবণ- স্বাদমতো।

যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে মাংস পরিষ্কার করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এবার একটি পাত্রে মাংস, তেল, টক দই, হলুদ, মরিচ, আদা, রসুন, পেঁয়াজ, লবণ ও সব মসলা নিয়ে মেরিনেট হতে দিন। অর্ধেক পেঁয়াজ বেরেস্তা করে তুলে রাখুন। চুলায় মাংসের হাঁড়ি দিয়ে তাতে মেরিনেট করা মাংস কষাতে থাকুন। মাংসের পানি কমে গেলে ২ কাপ পানি যোগ করে আরও কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন। পানি কমে এলে মৃদু আঁচে মাংস সেদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। মাংস সেদ্ধ হয়ে এলে তাতে কাঁচা মরিচ, ধনে, জিরা গুঁড়া দিয়ে মৃদু আঁচে ১০-১৫ মিনিট দমে রাখুন। এরপর নামিয়ে পেঁয়াজ বেরেস্তা দিয়ে পরিবেশন করুন। মেজবানি মাংস পরিবেশন করা যায় গরম ভাত, পোলাও, খিচুড়ি, রুটি, পরোটার সঙ্গে।

বোরহানি
বোরহানি মূলত বাংলাদেশের চট্রগ্রাম অঞ্চলের একটি বিখ্যাত ও সুস্বাদু পানীয় । সাধারণত পোলাও বা বিরিয়ানির মতো ভারী খাবারের পর বোরহানি খাওয়ার চল আছে । বোরহানি যেমন সুস্বাদু তেমনই স্বাস্থ্যকরও। বোরহানির প্রধান উপকরণ টক দইয়ে রয়েছে প্রচুর উপকারী পুষ্টিগুণ । যেগুলি দ্রুত খাবার হজম করতে ও পেট ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করে । বোরহানিতে কাঁচা লঙ্কা থাকায় এই পানীয় ভিটামিন সি-র অভাব পূরণ করে। পাশাপাশি রক্ত পরিষ্কার ও রাখে । স্বাদ এবং স্বাস্থ্যের চমৎকার যুগল বন্দী তৈরি করতে বানাতে পারেন বোরহানি ।

উপকরণ
টক দই- ২ কাপ
পুদিনা পাতা- আধা কাপ
কাঁচামরিচ- ৪টি
ধনেপাতা কুচি- আধা কাপ
চিনি- ৩ চা চামচ
জিরার গুঁড়া- ১ চা চামচ
ধনে গুঁড়া- ১ চা চামচ
বিট লবণ- ১ চা চামচ
গোলমরিচের গুঁড়া- ১ চা চামচ
লবণ- আধা চা চামচ

প্রস্তুত প্রণালি
ব্লেন্ডারে পুদিনা পাতা, কাঁচামরিচ, ধনেপাতা কুচি দিয়ে১ মগ পানি দিয়ে দিন। উপকরণগুলো একসঙ্গে ব্লেন্ড করুন। গোলমরিচ গুঁড়া, ধনে গুঁড়া, জিরার গুঁড়া, লবণ, চিনি, টক দই দিয়ে আবার ব্লেন্ড করুন। ব্যস! তৈরি হয়ে গেল বোরহানি। পরিবেশন করুন গ্লাসে ঢেলে। ঝাল বেশি খেলে কাঁচামরিচের পরিমাণ বাড়িয়ে নিতে পারেন।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর