ঈদের ছুটিতে পর্যটক মুখর সিলেট
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৮ PM

ঈদের ছুটিতে পর্যটক মুখর সিলেট

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫/০৩/২০২৬ ১২:৫২:২৮ PM

ঈদের ছুটিতে পর্যটক মুখর সিলেট


পবিত্র ঈদুল ফিতরে চাঙ্গা হয়ে ওঠেছে সিলেটের পর্যটন ব্যবসা। সবুজ পাতার স্বর্ণ রেনু চা বাগান, রূপের রানী জাফলং, স্বচ্ছ জলের ঝরনাধারা সাদাপাথর ও বিছানাকান্দি ছিল পর্যটন মুখর। পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুল, পান্থুমাই, উৎমাছড়া, মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে।

ঈদের ছুটিতে সিলেটের সব ক’টি পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণপিপাসুদের ঢল নামে।

ঈদের পরদিন থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসেন সিলেটের প্রাকৃতির সৌন্দর্য অবলোকনে।

সোমবার সিলেটের জাফলং, সাদাপাথর, বিছানাকান্দি, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, লালাখাল কিংবা চা বাগান ও পান্তুমাইসহ সব জায়গায়ই উপচে পড়া ভিড় পর্যটকদের। লাক্কাতুরা ও মালনিছড়া চা বাগানর সবুজের সমারোহে ক্ষণিকের জন্য হারিয়ে যান পর্যটকরা।

রাজনৈতিক অস্থিরতা, নির্বাচন ও রমজান মাসের দীর্ঘ বিতরতিতে মন্দাভাব থাকা সিলেটের পর্যটনে আবারো চাঙ্গা হয়ে ওঠেছে পর্যটকদের পদচারণায়।

নৌকার মাঝি থেকে হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং স্থানীয় দোকানিরা ব্যস্ত পার করছেন এখন। ঈদের ছুটির মৌসুম পর্যটন ব্যবসায়ীদের আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

পর্যটকদের চাপ সামাল দিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তৎপর অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়ানো হয়েছে টহল ও নজরদারি।

পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে  নিয়ম মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতে গতকাল সরেজমিন কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর ও নৌকাঘাটে যান শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। পর্যটকবাহী গাড়ি পার্কিং থেকে ৫০ টাকার পরিবর্তে ১২০ টাকা টোল আদায়ের বিষয়টি নজরে এনে ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। এ সময় পর্যটকদের কথা বলেন এবং অসুবিধার কথা শুনে তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণে আশ্বস্থ করেন।

সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো শুধু ভ্রমণ পিপাসুদের আনন্দই দিচ্ছে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ঈদের আগে থেকে বুকিং হয়ে যায় সিলেটের সব হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট।

সাদাপাথর: পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণে মুখরিত হয়ে উঠেছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র। মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনার স্বচ্ছ শীতল জলে ছড়িয়ে থাকা সাদা পাথরের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে প্রতিদিন ভিড় করছেন হাজার হাজার পর্যটক। ঈদের দিনে ভিড় কিছুটা কম হলেও ঈদের পরের দিন রোববার ছিল উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে আসা পর্যটকেরা মেতে উঠেছেন জলকেলিতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা স্বচ্ছ নীল জলে সাঁতার কাটছেন। এই ঠান্ডা জলে সাঁতার কেটে নিজেদের ক্লান্তি দূর করতে দেখা গেছে পর্যটকদের।

নৌকার ভাড়া নির্ধারণ এবং পর্যটকদের চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়ম কড়াকড়ি করা হয়েছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবকেরাও।

সাদাপাথরে ঢাকা থেকে সপরিবারে ঘুরতে আসা ব্যবসায়ী রিফাত হোসেন বলেন, যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে এসেছেন ঈদের ছুটি কাটাতে। জল-পাথরের মিতালি সত্যিই অসাধারণ লেগেছে।

সাদাপাথরের নৌকার মাঝি জহুরুল ইসলাম বলেন, গত বছর দেড়েক এক অর্থে বেকার ছিলাম। ঈদের ছুটিতে নজিরবিহীন পর্যটক এসেছেন। প্রতিদিন নৌকা চালিয়ে ভালোই আয় হয়েছে।

সাদাপাথরের হোটেল আল বেলার স্বত্বাধিকারী লিটন মিয়া বলেন, ঈদের দিন থেকে পর্যটকেরা সাদাপাথরে আসা শুরু করছেন। সোমবারও ব্যাপক পর্যটন সমাগম ঘটেছে। ঈদ বা কোনো উৎসব এলে দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে ওঠা যায়। ছুটির বাকি দিনগুলোতেও পর্যটকদের আগমন ঘটবে আশাবাদী তিনি।

এদিকে, গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র প্রকৃতি কন্যা জাফলংয়ে সবচেয়ে বেশি পর্যটক ঘুরতে এসেছেন। এ ছাড়াও বিছনাকান্দি ও জলারবন রাতারগুলও ছিল পর্যটকমুখর। মেঘালয়ের পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ জলের সমাহার দেখে যেন তারা মুগ্ধ হন। কেউ কেউ নৌকা নিয়ে মায়াবি ঝরনা, খাসিয়া পল্লি আর চা-বাগানের উদ্দেশে যাচ্ছেন।

বৃহত্তর জাফলং পর্যটনকেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক ও ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরাও খুশি। পর্যটকদের সেবাদানে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।

আজকের সিলেট/ এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর