হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে ফল বিক্রেতার মোবাইল ফোন নেওয়ার অভিযোগের পর রাসেল মিয়া নামে এক উপপরিদর্শককে (এসআই) পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোমবার তাকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এর আগে শনিবার রাত ৮টা ৪৯ মিনিটের দিকে আজমিরীগঞ্জ বাজারের রাজিব আহমেদের ফলের দোকান থেকে মোবাইল নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ফল কেনার পরও এসআই রাসেল মিয়া প্রায় পাঁচ মিনিট দোকানে অবস্থান করেন। দোকানের টেবিলের ওপর রাজিব আহমেদের কালো রঙের একটি স্মার্টফোন রাখা ছিল। একপর্যায়ে এসআই রাসেল হাতে থাকা একটি ফাইল ও নিজের লাল রঙের মোবাইল ফোনটি দোকানির মোবাইলের ওপর রাখেন। পরে কথা বলার সময় দুটি ফোনই পকেটে ঢুকিয়ে নেন, যা ফুটেজে দেখা গেছে।
এরপর ফলের ব্যাগ হাতে নিয়ে আরও প্রায় এক মিনিট দোকানির সঙ্গে কথা বলে তিনি দোকান থেকে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর নিজের মোবাইল ফোন খুঁজে না পেয়ে দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন ব্যবসায়ী রাজিব আহমেদ। এতে এসআই রাসেলকে মোবাইলটি নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
দোকানদার রাজিবের দাবি, পরে তিনি এসআই রাসেলের কাছে মোবাইল ফোনটি ফেরত চান। তবে রাসেল প্রথমে ফোন নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজের কথা জানানো হলে গভীর রাতে মোবাইলটি ফেরত না দিয়ে তাকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে জানান রাজিব।
ব্যবসায়ী রাজিব আহমেদ বলেন, আমার মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার পর রাতে এসআই রাসেল ফোনটি হারিয়ে ফেলেছেন বলে জানান। এ কারণে তিনি আমাকে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছেন।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে এসআই রাসেলের গতিবিধি দেখে তাদের মনে হয়েছে, তিনি পরিকল্পিতভাবে কিছু সময় দোকানে অবস্থান করে পরে মোবাইলটি নিয়ে যান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে এসআই রাসেল মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি মো. আকবর হোসেন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজটি দেখেছি। ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। মোবাইল ফোন হারিয়ে ফেলায় এসআই রাসেল ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। ঘটনাটি পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর সোমবার তাকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আজকের সিলেট/এপি









