কাজীরবাজার মাদ্রাসায় শিশুকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগ, শিক্ষক কারাগারে
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৭ PM

কাজীরবাজার মাদ্রাসায় শিশুকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগ, শিক্ষক কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১/১০/২০২৬ ০৬:৩৭:৪২ PM

কাজীরবাজার মাদ্রাসায় শিশুকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগ, শিক্ষক কারাগারে


সিলেটের ঐতিহ্যবাহী জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজীরবাজার মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নির্যাতন ও বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মতিউর রহমান নামে মাদ্রাসাটির আরবি বিভাগের ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নগরের ঘাসিটুলা লামাপাড়ার বাসিন্দা শিশুটির মা সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি বলেন, তাঁর ১২ বছর বয়সী ছেলে জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজীরবাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। গত এক মাস ধরে মাদ্রাসার শিক্ষক মতিউর রহমান বিভিন্ন সময়ে তাকে ডেকে নিয়ে বলাৎকারের চেষ্টা করতেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে শিশুটিকে শিক্ষকের কক্ষে ডেকে নিয়ে পোশাক খুলে বলাৎকারের চেষ্টা করা হয়। কয়েক মাস ধরে এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও ভয় ও হুমকির কারণে শিশুটি বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানায়নি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিশুটির মা জানান, নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর এবং ভয়ের কারণে তাঁর ছেলে বারবার মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়িতে চলে আসত। ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্যও তাকে ভয় দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়। সর্বশেষ মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে আসার পর শিশুটি তার মামার কাছে বিষয়টি খুলে বলে।

পরে শিশুটিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক তাঁর বয়সী শিক্ষার্থীদের আদর বা শাসনের অজুহাতে বিভিন্নভাবে যৌন নির্যাতন করতেন। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যেতে চায় বলেও সে জানিয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মইনুল জাকির সিলেটটুডেকে বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষক মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ওসি জানান, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর