চেয়ারম্যান না থাকায় সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা নিতে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে ইউনিয়নের ১৭ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব কার কাছে যাবে এ নিয়ে ইউপি সদস্যদের বিরোধের কারণে সংকট আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১১ আগস্ট হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলিম উদ্দিন আকস্মিকভাবে মারা যান। তার মৃত্যুর পর থেকেই কার্যত চেয়ারম্যানশূন্য হয়ে পড়ে পরিষদটি। নিয়ম অনুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যানের কাছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা থাকলেও ইউপি সদস্যদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও নানা জটিলতায় তা এখনো সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, ২০২২ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গোলাম কিবরিয়া হেলাল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে পরিষদের সব সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে আলিম উদ্দিনকে ১ম প্যানেল চেয়ারম্যান, ফারুক আহমদ বাবুলকে ২য় প্যানেল চেয়ারম্যান এবং প্রবাসী রাণীকে ৩য় প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া হেলাল অনুপস্থিত থাকায় ১ম প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে আলিম উদ্দিন দায়িত্ব নেন। পরবর্তীতে হেলাল চেয়ারম্যানকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন আলিম উদ্দিন।
১৭ হাজার ৬১৮ জন ভোটারের এই ইউনিয়নে এখন নাগরিক সেবা কার্যত বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান না থাকায় জরুরি কাগজপত্র ও বিভিন্ন সার্টিফিকেটের কাজ করা যাচ্ছে না। প্রতিদিন পরিষদে এসে সাধারণ মানুষকে ফিরে যেতে হচ্ছে। দ্রুত এ সংকটের সমাধান চান তারা।
পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমও যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তা জানিয়েছেন ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, চেয়ারম্যান কিংবা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ও অনুমোদন ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ অনেক দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। একই কারণে সরকারি অনুদান বণ্টনের কার্যক্রমও আটকে আছে। দ্রুত সমাধান না হলে মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
তবে দায়িত্ব গ্রহণের দাবি তুলেছেন ২য় প্যানেল চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বাবুল। তার ভাষ্য, ১ম প্যানেল চেয়ারম্যান আলিম উদ্দিন এতদিন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার মৃত্যু হয়েছে। তাই নিয়ম অনুযায়ী ২য় প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে তার কাছেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব হস্তান্তর করার কথা। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এখনো তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনায় দ্রুত দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে বর্তমান প্যানেল বাতিল করে নতুন প্যানেল গঠনের দাবি জানিয়েছেন ইউপি সদস্য মাসুক আহমদ। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে গঠিত ওই প্যানেল তারা প্রত্যাখ্যান করছেন। জনগণের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত নতুন প্যানেল গঠন করে যোগ্য ব্যক্তির কাছে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান তিনি। এ দাবিতে ইতোমধ্যে পরিষদের সাত সদস্যের স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি ইউএনওর কাছে দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন অবগত রয়েছে। সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাগরিক সেবা স্বাভাবিক রাখা এবং মানুষের ভোগান্তি কমানোই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মৃত্যু এবং দায়িত্ব নিয়ে ইউপি সদস্যদের মধ্যে বিরোধের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নাগরিক সেবা দ্রুত স্বাভাবিক করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনানুগ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন জরুরি।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি 








