দোয়ারাবাজারে প্রবাসীর স্ত্রী ও বিএনপি নেতাকে ঘিরে নানা অভিযোগ, অস্বীকার অভিযুক্তদের
সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৩ PM

দোয়ারাবাজারে প্রবাসীর স্ত্রী ও বিএনপি নেতাকে ঘিরে নানা অভিযোগ, অস্বীকার অভিযুক্তদের

শাহ্ মাশুক নাঈম, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) থেকে

প্রকাশিত: ২৪/০৮/২০২৬ ০২:৪২:৫০ PM

দোয়ারাবাজারে প্রবাসীর স্ত্রী ও বিএনপি নেতাকে ঘিরে নানা অভিযোগ, অস্বীকার অভিযুক্তদের


সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টিলাগাঁও গ্রামে সৌদি আরবপ্রবাসী এক ব্যক্তির স্ত্রী ও তার মামাকে ঘিরে নানা অভিযোগ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাসীর পাঠানো অর্থ আত্মসাৎ, স্ত্রীকে স্বামীর বসতভিটা থেকে সরিয়ে অন্যত্র বসবাসের ব্যবস্থা করা এবং তাদের মধ্যে কথিত অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত রাহেলা বেগম ও তার মামা ইয়াকুব আলী।

অভিযুক্ত ইয়াকুব আলী টিলাগাঁও গ্রামের মুশু মিয়ার ছেলে এবং ইউনিয়ন বিএনপি নেতা। অন্যদিকে রাহেলা বেগম (৩২) সৌদি আরবপ্রবাসী ইমান আলীর স্ত্রী।

পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে জীবিকার প্রয়োজনে সৌদি আরবে পাড়ি জমান টিলাগাঁও গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদের ছেলে ইমান আলী। তিনি বিদেশে যাওয়ার পর স্ত্রী রাহেলা বেগম ও সন্তানদের দেখভালে সহযোগিতা করতেন তার মামা শ্বশুর ইয়াকুব আলী, যিনি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। চিকিৎসা, বাজার-সদাইসহ পরিবারের বিভিন্ন প্রয়োজনে তিনি সহযোগিতা করতেন বলে স্বজনদের ভাষ্য।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, একপর্যায়ে ইয়াকুব আলী ও রাহেলা বেগমের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে রাহেলাকে পরিবারের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইমান আলী বিদেশ থেকে স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য নিয়মিত অর্থ পাঠাতেন। তবে সেই অর্থের একটি অংশ ইয়াকুব আলী নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে দাবি করেছে ইমান আলীর পরিবার।

এদিকে স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দুই মাস আগে রাহেলা বেগম স্বামীর বাড়ির ঘর ভেঙে অন্য একটি জমিতে নতুন ঘর তৈরি করে সেখানে বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকেই ইয়াকুব আলী ও রাহেলার সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়। এমনকি তাদের মধ্যে বিয়ে হয়েছে বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তবে ইমান আলীর পরিবারের সদস্যরা এ দাবির সমর্থনে কোনো কাবিননামা বা অন্য কোনো নথি দেখাতে পারেননি।

রাহেলা বেগম এসব অভিযোগ নাকচ করে বলেন, স্বামী বিদেশে থাকায় তার দেখাশোনার মতো কেউ ছিল না। তার মায়ের চাচাতো ভাই ইয়াকুব আলী মামা হিসেবে বিভিন্ন প্রয়োজনে তাকে সহযোগিতা করেছেন। বাজার খরচ থেকে চিকিৎসা প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি সহায়তা করতেন। তাদের মধ্যে কোনো অনৈতিক সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

স্বামীর ভিটা ছেড়ে অন্য জমিতে বাড়ি করার বিষয়ে রাহেলা বলেন, স্বামীর বাড়ির জায়গা কম হওয়ায় বেশি জায়গায় বাড়ি নির্মাণের জন্য তিনি অন্য জমিতে গেছেন।

রাহেলার মা নুরবানু বেগম জানান, তার মেয়ে স্বামীর ভিটা থেকে ঘর সরিয়ে অন্য জায়গায় নিয়ে গেছে। ইয়াকুব আলীকে মেয়ের কাছ থেকে দূরে থাকার জন্য তিনি একাধিকবার নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি তা শোনেননি। পরে ইয়াকুব আলী তার কাছে ইমান আলীর কাছ থেকে টাকা পাওয়ার দাবিও করেছেন বলে জানান তিনি।

নুরবানু বেগমের ভাষ্য, শেষ পর্যন্ত তার মেয়ের সংসার ভেঙে গেছে। বর্তমানে রাহেলা এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে চান না এবং বাবার বাড়িতে আসা-যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছেন।

অন্যদিকে ইমান আলীর বাবা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদ ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ইমান আলী বিদেশে যাওয়ার পর ইয়াকুব আলী নিয়মিত তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। রাহেলাকে তার সঙ্গে চলাফেরা করতে নিষেধ করা হলেও তিনি তা মানেননি। পরে ইয়াকুব আলীর পরামর্শ ও সহযোগিতায় রাহেলা স্বামীর বাড়ি ছেড়ে অন্য জমিতে ঘর তুলে বসবাস শুরু করেন।

সৌদি আরবে থাকা ইমান আলী এক অডিও বক্তব্যে অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতা ইয়াকুব আলী তার স্ত্রী রাহেলা বেগমকে কোর্টে গিয়ে বিয়ে করেছেন। তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার পর স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য প্রতি মাসে টাকা পাঠালেও ইয়াকুব আলী তার স্ত্রীকে প্রভাবিত করে সেই অর্থ নিয়ে নিতেন। তার অভিযোগ, ইয়াকুব আলীর প্রভাবে রাহেলা তাকে না জানিয়ে সন্তানদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং নাবালক এক মেয়েকে বাল্য বিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইয়াকুব আলী তার স্ত্রীকে স্বামীর বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে অন্য জায়গায় ঘর করে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে ইয়াকুব আলী এসব অভিযোগকে ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, ইমান আলীর কাছে তার তিন লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। সেই টাকা পরিশোধ না করার জন্যই তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে। ভাগনী হিসেবে রাহেলার বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল এবং তিনি তাদের দেখাশোনা করতেন। তবে অভিযোগ ও সমালোচনা শুরু হওয়ার পর প্রায় এক মাস ধরে ওই বাড়িতে যাওয়া বন্ধ রেখেছেন বলে জানান তিনি।

ইয়াকুব আলী আরও বলেন, তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যেও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ইয়াকুব আলী ও রাহেলা বেগমের সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের আলোচনা রয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকে রাজি নন।

দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর