চা চাষের জন্য অনুপযোগী ও একসময় অনাবাদি পড়ে থাকা জমিতে ড্রাগন ফলের বাগান গড়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার সিরাজনগর চা-বাগান। সারি সারি ড্রাগন গাছে এখন ফলন আসছে, বাড়ছে বিক্রিও। এতে পতিত জমি ব্যবহারের পাশাপাশি বাগান কর্তৃপক্ষের আয়ের নতুন উৎস তৈরি হয়েছে।
সিরাজনগর চা-বাগান কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৪ সালে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করা হয়। বর্তমানে বাগানটিতে প্রায় ১৫ হাজার ড্রাগন গাছ রয়েছে। সেখানে থাই রেড, জাম্বো রেড ও হোয়াইট পিংক—এই তিন জাতের ড্রাগন ফল উৎপাদন করা হচ্ছে। চাষ শুরুর দ্বিতীয় বছরেই গাছে ফলন আসতে শুরু করে।
চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ। উৎপাদন ও বিক্রির পরিমাণ বাড়ায় ভবিষ্যতে এই খাত থেকে আরও বেশি আয়ের আশা করছে তারা। একই সঙ্গে দেশের চাহিদা পূরণের পর বিদেশে ফল পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
সিরাজনগর চা-বাগানের ম্যানেজার শামীম ইসলাম বলেন, চা চাষ করা যায় না এমন পতিত জমিকে কাজে লাগিয়েই ড্রাগন ফল উৎপাদন করা হচ্ছে। এ চাষে ক্ষতিকর কীটনাশক বা পেস্টিসাইড ব্যবহার না করে জৈব পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে ড্রাগন বাগানের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এই উদ্যোগে বাগানের শ্রমিকদের জন্যও কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। শুধু উৎপাদন ও পরিচর্যার কাজে নয়, বাগানে উৎপাদিত ড্রাগন ফল শ্রমিকদের নিজেদের চাহিদা মেটাতেও সরবরাহ করা হচ্ছে।
ড্রাগন ফলের বাগানটি এরই মধ্যে দর্শনার্থীদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে এসে বাগানের পরিবেশ ও ড্রাগন ফলের বিভিন্ন জাত দেখছেন।
কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসীম উদ্দিন বলেন, চা চাষের উপযোগিতা নেই এমন জমিকে বিকল্প কৃষিতে ব্যবহার করা গেলে বাগানের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানও তৈরি হতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। কুলাউড়ার স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায়, এমনকি বিদেশেও ড্রাগন ফল পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।
কৃষিসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চা চাষের অনুপযোগী জমি পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে ড্রাগন ফলের পাশাপাশি জমির উপযোগিতা অনুযায়ী অন্যান্য ফসলও উৎপাদন করা সম্ভব। এতে দীর্ঘদিনের পতিত জমি উৎপাদনমুখী হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
সিরাজনগর চা-বাগানের ড্রাগন চাষের উদ্যোগ তাই শুধু নতুন একটি ফল উৎপাদনের প্রকল্প নয়; চা চাষে অনুপযোগী জমিকে বিকল্প কৃষির আওতায় আনার একটি সম্ভাবনাও তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে দেশের অন্যান্য চা-বাগানের পতিত জমিও এভাবে উৎপাদনমুখী করা সম্ভব।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 








