শান্তিগঞ্জে ৮শ’ ফুট কাঁচা সড়কে দুর্ভোগ, বর্ষায় বাঁশের সাঁকোই ভরসা
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৩ AM

শান্তিগঞ্জে ৮শ’ ফুট কাঁচা সড়কে দুর্ভোগ, বর্ষায় বাঁশের সাঁকোই ভরসা

শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪/০৯/২০২৬ ০৯:১১:৫৯ AM

শান্তিগঞ্জে ৮শ’ ফুট কাঁচা সড়কে দুর্ভোগ, বর্ষায় বাঁশের সাঁকোই ভরসা


সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের প্রায় ৮শ’ ফুট দীর্ঘ একটি সড়ক বর্ষা এলেই দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মাটির এই সড়ক সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা ও পানিতে ভরে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান কাদায় পা ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সিলেট—সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন আবদুল হান্নান পাকিস্তানীর বাড়ির সামনে থেকে সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য স্বপ্না বেগমের বাড়ি পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮শ’ ফুট। এর আশপাশে পাঁচ শতাধিক মানুষের বসবাস। তাঁদের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী নিয়মিত এই পথ ব্যবহার করে। ব্যবসায়ী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও যাতায়াতের জন্য সড়কটির ওপর নির্ভরশীল।

বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেট—সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে সুরুজ আলীর স’মিল পর্যন্ত কিছুটা হেঁটে চলাচলের সুযোগ থাকলেও এরপরের অংশ প্রায় পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী। কোথাও রাস্তার ওপর কচুরিপানা জমে আছে, কোথাও কাদা, আবার কোনো অংশ পানিতে ডুবে আছে। রাস্তার মাঝখানে বড় বড় বনও তৈরি হয়েছে। এতে নবীনগর গ্রামের মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।

শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষায় সামান্য বৃষ্টি কিংবা টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে যাতায়াত করাও কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দুর্ভোগ থেকে কিছুটা রক্ষা পেতে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে কোনো কোনো স্থানে অন্যের ভিটার সঙ্গে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন। তবে সরু ও ভেজা বাঁশের এসব সাঁকোও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে এসব সাঁকো দিয়ে পার হতে হয়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

নবীনগর গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য স্বপ্না বেগম বলেন, এই রাস্তা দিয়ে গ্রামের মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। বর্ষা এলেই কাদা-পানিতে রাস্তা ডুবে যায় এবং অনেক সময় চলাচলের জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করতে হয়। শিক্ষার্থী, নারী ও শিশুদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা বুরহান উদ্দিন, জমিলা বেগম ও দেলোয়ার হোসেন বলেন, শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষায় কাদায় পা আটকে যায়, নষ্ট হয় কাপড় ও জুতা। অসুস্থ কাউকে জরুরি প্রয়োজনে নিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। তাঁদের দাবি, দ্রুত সড়কটি পাকা করা হলে পাঁচ শতাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।

তাঁদের ভাষ্য, বর্ষাকালে সন্তানদের স্কুল-মাদ্রাসায় পাঠাতেও উদ্বেগে থাকতে হয়। রাস্তার বিভিন্ন অংশে পানি ও কাদা জমে থাকায় কোথাও বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে হয়। একটু অসতর্ক হলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এই যোগাযোগপথের স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়রা বলেন, একটি পাকা সড়ক হলে শুধু যাতায়াত সহজ হবে না, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনযাত্রাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তাঁরা সুনামগঞ্জ—৩ (শান্তিগঞ্জ—জগন্নাথপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদের কাছে সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ বলেন, “রাস্তার বিষয়টি আমি দেখব। গ্রামের পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর