শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন

‘নতুন ও নাগরিকবান্ধব সিলেট গড়তে চাই’: মেয়র প্রার্থী আতাউর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫/১০/২০২৬ ০৯:১০:২৭ অপরাহ্ন

‘নতুন ও নাগরিকবান্ধব সিলেট গড়তে চাই’: মেয়র প্রার্থী আতাউর রহমান


সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বি.কে.এম) কেন্দ্রীয় নেতা ও যুক্তরাজ্য শাখার সহসভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা আতাউর রহমান বলেছেন, তিনি একটি নতুন, নান্দনিক ও নাগরিকবান্ধব সিলেট গড়ে তুলতে চান। নগরীর বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে দেশ-বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার নগরীর তালতলাস্থ গুলশান হোটেলে সিলেটে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন আতাউর রহমান। তাঁর উদ্যোগে আয়োজিত সভাটি পরিচালনা করেন বি.কে.এম সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা এমরান আলম।

সভায় লিখিত বক্তব্যে আতাউর রহমান বলেন, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সিলেট নগরীর মানুষের অধিকার আদায়ে পাশে থাকতে চান তিনি। নগরীকে বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করার লক্ষ্যেই মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথে এসেছেন বলে জানান এই প্রার্থী।

আতাউর রহমানের দাবি, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে সিলেট উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হয়েছে। এ কারণে নগরী কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। এখনও নগরবাসীকে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানাতে হয় এবং পাড়া-মহল্লার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতে হয়।

নগরীর বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অবৈধ স্থাপনা, জলাবদ্ধতা, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ভাঙাচোরা সড়ক, ফুটপাত দখল, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, খাল-ছড়া ও জলাধার দখল এবং মশা নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা নগরবাসীর জন্য বড় সমস্যা।

নির্বাচিত হলে ১৫টি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কথা জানান এই মেয়র প্রার্থী। তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে জলাবদ্ধতামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন নগর গঠন, পরিকল্পিত সড়ক ও ফুটপাত, ডিজিটাল সিটি করপোরেশন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, সবুজ ও নিরাপদ নগর, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, প্রবাসীবান্ধব উদ্যোগ, যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান এবং সংস্কৃতি ও পর্যটনের বিকাশ। এ ছাড়া টেমস নদীর মতো করে সুরমা নদীর ওপর দুটি নান্দনিক সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

আতাউর রহমান বলেন, “হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সিলেট শহরকে বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করাই আমাকে বাধ্য করেছে এ পথে আসতে। যারাই আসেন, তাদের মাঝে নতুনত্ব নেই। সমস্যা সমাধানের ফর্মুলা নেই। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ঘুরে দেখেছি। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সাংবাদিকদের সহযোগিতা এবং নগরবাসীর সমর্থন চান তিনি। দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতায় শান্তির নগরী গড়ার প্রত্যয় জানিয়ে আতাউর রহমান বলেন, আল্লাহ তাঁকে সামর্থ্য দিলে নগরবাসীর সেবায় সর্বশক্তি নিয়োগ করবেন। নির্বাচিত হলে সুন্দর নগরী গড়তে সাংবাদিকসহ সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বি.কে.এমের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুল আজিজ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা সামিউর রহমান মুসা, জেলা সভাপতি মাওলানা ইকবাল আহমদ, মহানগর সহসভাপতি মাওলানা মুহিবুর রহমান, মুফতি মাওলানা আলী আহমদ, মাওলানা ছানা উল্লাহ, ডা. মাওলানা মোস্তফা আহমদ আজাদ, জেলা সাধারণ সম্পাদক প্রিন্সিপাল মাওলানা ফখরুল ইসলাম এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত শাখার সভাপতি মাওলানা সাইফুল ইসলাম ইয়াহিয়া।

এ ছাড়া জেলা সহসাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুতাছিম বিল্লাহ জালালী, মহানগর সহসাধারণ সম্পাদক হাফিজ কয়েছ আহমদ, মাওলানা আমিন আহমদ রাজু, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি আব্দুল সালাম, জামেয়া দারুল কোরআন সিলেটের শিক্ষা সচিব মাওলানা আব্দুল মুমিন জাহানপুরী, মহানগর প্রচার ও মিডিয়া সমন্বয়ক মাওলানা মনিরুল ইসলাম চৌধুরী ফুহাদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন হাজি আব্বাস জালালী, মুফতি মোস্তফা হোসাইন, সিকন্দর আলী, মাওলানা আইয়ুব আলী কামালী, আবুল কালাম, আব্দুল মুহাইমিন, তারেক হাসান সাহেদ ও মুহাম্মদ শাব্বির আহমদ। বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের মহানগর সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ রশিদ মস্তাক ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের মহানগর সভাপতি রিদওয়ানুল হক ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফাহিম কামালী এবং শ্রমিক মজলিসের মহানগর নেতা মীর রাহাত হোসেনও সভায় অংশ নেন।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর