সিলেটের বাসিয়া নদী পুনঃখননের কাজ চলতি সপ্তাহেই শুরু করার কথা জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ২৩ দশমিক ২৫০ কিলোমিটার নদী খননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি টাকা। এরই মধ্যে কাজের এলাকায় এক্সকাভেটরসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে।
চলতি বছরের ২ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছিলেন, প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাসিয়া নদীর ২৩ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হবে। কাজ শেষ করতে দুইটি শুকনো মৌসুম লাগতে পারে। এতে স্থানীয় প্রায় ৮০ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নদী পুনঃখননের পাশাপাশি এর ২৩ কিলোমিটারজুড়ে ৫০ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
কাজ শুরুর সময়সূচি নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রতিনিধি জানান, নদীর পানি এখনো পুরোপুরি শুকায়নি। এ কারণে কাজ শুরু হতে আরও এক মাস সময় লাগতে পারে।
তবে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিলেট সদর ও বিশ্বনাথ) মো. সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, চলতি সপ্তাহেই কাজ শুরু হবে। এ বিষয়ে তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নবারুন ট্রেডার্সের মো. ওলিউল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
মো. ওলিউল্লাহও চলতি সপ্তাহে কাজ শুরুর কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকায় আনা শুরু হয়েছে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মো. সানাউল কাদের খান জানান, ২৩ দশমিক ২৫০ কিলোমিটার নদী পুনঃখননের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ১০ কোটি টাকার এ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে নবারুন ট্রেডার্স। প্রকল্প এলাকায় এক্সকাভেটরও আনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। এর মধ্যেই পুরো কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, নদীর তীরে বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনার অগ্রগতি জানতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দাপ্তরিক মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁকে খুদেবার্তাও পাঠানো হয়েছিল, তবে তিনি সাড়া দেননি।
উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাসিয়া নদীর এই খাল খনন করেছিলেন।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









