সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৯ অপরাহ্ন

তাহিরপুরে মহানবীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে পুলিশ সদস্য

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬/১০/২০২৬ ০৬:২৬:৫৮ অপরাহ্ন

তাহিরপুরে মহানবীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে পুলিশ সদস্য


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে কৃপেশ রায় (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কৃপেশ রায়ের দাবি, পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সোমবার দুপুরে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। কৃপেশ রায় তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের রাজারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য হলেও বর্তমানে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও মুসল্লিদের সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর ‘Kripash Ray’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যসংবলিত একটি পোস্ট দেওয়া হয়। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় মুসল্লি ও বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, এ ধরনের ঘটনা ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার পাশাপাশি এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, কৃপেশ রায়ের দাবি, একই গ্রামের বাসিন্দা তাঁর আপন চাচাতো ভাই পন্টি রায়ের সঙ্গে পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের জেরে তাঁকে ফাঁসাতে তাঁর ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে অথবা ভুয়া পোস্টের মাধ্যমে এ ধরনের মন্তব্য ছড়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি সুরক্ষা চেয়ে সোমবার সকালে তিনি নিজেই তাহিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে দাবি করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজারগাঁও গ্রামের কৃপেশ রায়ের এক প্রতিবেশী জানান, কৃপেশ বাংলাদেশ পুলিশে চাকরি করতেন। প্রায় ছয় মাস ধরে তাঁকে বাড়িতে থাকতে দেখছেন তিনি। তবে কৃপেশ চাকরি ছেড়েছেন কি না, তা তাঁর জানা নেই। প্রতিবেশীদের সঙ্গেও কৃপেশের তেমন যোগাযোগ নেই বলে জানান তিনি।

ওই প্রতিবেশী আরও বলেন, মাসখানেক আগে কৃপেশ রায়ের নামে খোলা একটি নতুন ফেসবুক আইডি থেকে তাঁদের কয়েকজন বন্ধুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছিল। আইডিটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি অনুরোধটি গ্রহণ করেননি।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কৃপেশ রায় বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য এবং বর্তমানে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাঁকে ফাঁসানোর জন্য একটি চক্র এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে কৃপেশ দাবি করেছেন। এ বিষয়ে সোমবার সকালে তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

ওসি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কৃপেশ রায়কে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে রাজারগাঁও গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর