নগরীতে অর্ধশতাধিক সিএনজি অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ডকে ঘিরে ভয়াবহ যানজট
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১০:৫৯ AM

নগরীতে অর্ধশতাধিক সিএনজি অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ডকে ঘিরে ভয়াবহ যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১/০১/২০২৫ ০৯:৫৭:২০ AM

নগরীতে অর্ধশতাধিক সিএনজি অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ডকে ঘিরে ভয়াবহ যানজট


সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোসহ বিভিন্ন মোড়ে যত্রতত্রভাবে গড়ে উঠেছে অবৈধ সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড। এই অবৈধ স্ট্যান্ডের কারনে নগরীতে যেমন ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে পাশাপাশি প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় একাধিক দুর্ঘটনা। ফলে মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে মূল্যবান সময় নষ্টের সাথে সাথে জীবনহানীও ঘটছে।

অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে সৃষ্ট যানজটে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী, প্রবাসগামী যাত্রীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর জেলা ও মেট্রো শাখার সিএনজি অটোরিকশা আলাদা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে প্রশাসন। তখন সিএনজি অটোরিকশা মালিক ও শ্রমিকদের আন্দোলনের কারনে সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন সময় সিএনজি অটোরিকশা চালকদের সাথে গাড়ির স্ট্যান্ড করা নিয়ে বিভিন্ন মহলের সাথে মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে চলেছে।

সিলেট নগরী ঘুরে দেখা গেছে, টুকেরবাজার থেকে বন্দর বাজার আসতে টুকেরবাজার স্ট্যান্ড, তেমুখী স্ট্যান্ড, কুমারগাঁও, শাবিপ্রবির গেইট, মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল, কালিবাড়ী রোড, মদিনা মার্কেট, পাঠানটুলা পয়েন্ট, লন্ডনীরোড, সুবিদবাজার, রিকাবীবাজার, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জিতু মিয়ার পয়েন্ট, কোর্ট পয়েন্ট পর্যন্ত ১৫টি স্ট্যান্ড, মধুবনের সামনে স্ট্যান্ড, করিম উল্লাহ মার্কেটের সামনে, তেঁতইরতল, ধোপাদিঘীরপার, জেল রোড, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, এমসি কলেজের সামন, মেজরটিলা, নীপবন, শাহপরান মাজার গেইট, সুরমা গেইটসহ এরকম প্রায় ১৩টি সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড রয়েছে। দক্ষিণ সুরমার পাঁচমাইল থেকে শ্রীরামপুর বাইপাস, শ্রীরামপুর পয়েন্ট, কুচাই, পাসপোর্ট অফিস, ওভারব্রীজ, হুমায়ুন রশীদ চত্তর, শিববাড়ী, কদমতলী পয়েন্ট, বাসটার্মিনাল, রেল স্টেশন, পুরাতন পুলের মুখ, চাঁদনীঘাট, ভাবনামোড়, ষ্টেশন রোড, মারকাজ পয়েন্ট, চন্ডীপুল, নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজসহ ২০টির মত সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড রয়েছে। আম্বরখানা, এয়ারপোর্ট রোড, দরগাগেইট, শাহী ঈদগাহ পয়েন্ট, বালুচর, এমসি কলেজ মাঠ, টিবি গেইট, মেন্দীভাগ ল’ কলেজের সামনে, সোবহানীঘাট পয়েন্ট, উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে, নয়াসড়ক পয়েন্ট, কাজীটুলা সহ নগরীতে মোড়ে মোড়ে সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এরকম নগরীর প্রতিটি রাস্তার মোড়ে অবৈধ সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে উঠার কারনে নগরীতে তীব্র যানজটে জনদূর্ভোগ বাড়ছে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী নাফি এই প্রতিবেদককে জানান, যানজটের কারণে অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যায়, টিকমতো ক্লাস ধরা যায় না। এমসি কলেজর শিক্ষার্থী আশরাফুজ্জামান আশরাফ জানান, এমসি কলেজে যেতে হলে মিরাবাজার, শিবগঞ্জ ও টিলাগড়ের যানজট পেরিয়ে কলেজে যেতে হয়। রাস্তায় বেশিরভাগ যানবাহনই সিএনজি অটোরিকশা। নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষার সময় আমাদের প্রায়ই দেরি হয়ে যায়। এই যানজট থেকে আমরা মুক্তি পাবো? আম্বরখানা এলাকার ব্যবসায়ী সাবুল আহমদ জানান, সিএনজি অটোরিকশাসহ গাড়িগুলোর যানজটের কারনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেতে প্রায়ই দেরি হয়, এই অবস্থার অবসান চাই।

সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ডগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ সিএনজি অটোরিকশা রাস্তার উপরে রেখেই যাত্রী পরিবহন করছে। ফলে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, এছাড়া প্রতিটি স্ট্যান্ডেই ২০/১৫ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। আবার কেউ কেউ শ্রমিক ইউনিয়নের রিসিটের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করছে। তবে বেশিরভাগ স্ট্যান্ডগুলোতে রিসিট ছাড়াই চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এই টাকা কে নিচ্ছে সিএনজি অটোরিকশার চালকরা জানে না। সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে অনেক অপরাধী ছিনতাই ও মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে, মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ২/১জনকে গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাসহ বিভিন্ন জায়গা এভাবে গড়ে উঠা সিএনজি অটোরিকশার স্টান্ডের ব্যাপারে সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন ৭০৭ এর সভাপতি জাকারিয়া আহমদ জানান, সিলেট নগরীতে আমাদের ৩০/৩৫টি স্ট্যান্ড রয়েছে, আমরা আইন শৃঙ্খলা মেনে চলি।

সিলেট মেট্রোপলিটন ট্রাফিক পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার এবিএম আশরাফ উল্লাহ তাহের এ ব্যাপারে বলেন, ‘আম্বরখানা মজুমদারীতে তাদের নিজস্ব বৈধ একটি স্ট্যান্ড রয়েছে। এছাড়া আমার জানামতে সিএনজি অটোরিকশার কোনো বৈধ স্ট্যান্ড নেই। নগরীতে ২৫/৩০ হাজার সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে। এগুলো সুশৃঙ্খলভাবে আইনে চলাচল করলে যানজট কিছুটা নিরসন হবে।

আজকের সিলেট/ডি/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর