বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া বলেছেন, দেশের জন্য কাজ করুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নতুন বাংলাদেশে আমরা কাজ করার অভূতপূর্ব সুযোগ পেয়েছি।অপূর্ব এই সুযোগে সবাই মিলে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা যদি কাজ না করি ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে।তাই দেশের জন্য কাজ করতে হবে। কাজ করার নতুন সুযোগ ও পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই ধরনের মহড়া জরুরি মুহূর্তে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা বিমানের অগ্নি নির্বাপন ও যাত্রী উদ্ধার তৎপরতায় প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।
বুধবার দুপুরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে 'পূর্ণাঙ্গ অগ্নি নির্বাপন মহড়া' অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন , গত ২৮ ডিসেম্বর আজারবাইজান, ২৯ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়া, ৩০ জানুয়ারি আমেরিকা এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি কানাডাসহ কয়েকটি দেশে বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই বাস্তবতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ব প্রস্তুতি ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ ধরনের মহড়া আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং নিশ্চিত করে যে, সংকট মুহূর্তে দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আমরা উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।
'পূর্ণাঙ্গ অগ্নি নির্বাপন মহড়া'য় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার, বিএনসিসি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, র্যাব, এপিবিএন, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস বাংলা, এয়ার এস্ট্রা এবং নভোএয়ারসহ বিভিন্ন সংস্থা একযোগে অংশ নেয়।
মহড়ায় দেখা যায়, সর্বমোট ৫০ জন চধংংবহমবৎং এবং ঈৎবি নিয়ে অইঈ-১২৩ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ 'অষঢ়যধ-৫৬৭' যার প্রান্ত প্রান্তদ্ধে দিয়ে কলসাইন অইঈ-১২৩, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে- তে পূর্বদিক থেকে অবতরণ করে। রানওয়ে-২০ তে অবতরণের পর পরই বিমানটি অপ্রত্যাশিতভাবে রানওয়ে থেকে সরে ট্যাক্সিওয়ে বার ২০০ ফুট দূরে আলফা ব্রাভোর, দূরে কার্গো এপ্রোনের সামনে গিয়ে ছিটকে পড়ে। সহসাই উড়োজাহাজ এর ডান পার্শ্বের ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে কন্ট্রোল টাওয়ার বিষয়টি অবলোকন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ক্রাস এলার্ম সুইচ অন করার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকলকে অবগত করে।
সেইসাথে কন্ট্রোল টাওয়ার বিমানবন্দরের ফায়ার স্টেশন, বিমানবন্দর পরিচালক, স্যাটো, স্টেশন ফায়ার অফিসার কে তাৎক্ষণিকভাবে অবগত করে। ততক্ষণে উড়োজাহাজ এর নীচ অংশ দিয়ে আগুন দেখা দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটিতে পুরোপুরি আগুন ধরে যায়। সর্বশেষ, ৩৮ জন যাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভবপর হয়, ২৭ জন আহত হয় এবং ৫ জন মারা যায়।
এই মহড়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের
প্রস্তুতিকে আরও শাণিত করার সুযোগ পাচ্ছি উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন, যে
কোন ঘটনার জন্য আমাদের সকলকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে হবে। পরিশেষে, তিনি
সফলভাবে মহড়া পরিচালনার জন্য বিমানবন্দরের পরিচালক মো: হাফিজ আহমদ সহ সকল
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
নিজস্ব প্রতিবেদক 








