বিচার বিভাগের ‘ষোলোকলা’ পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষায়
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৯:০৬ PM

বিচার বিভাগের ‘ষোলোকলা’ পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষায়

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০/১০/২০২৫ ০৯:১২:০৮ AM

বিচার বিভাগের ‘ষোলোকলা’ পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষায়


রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সংস্কারের ডামাডোলের মধ্যে যথারীতি এগিয়ে রয়েছে বিচার বিভাগ। সংস্কার কমিশনের চূড়ান্ত ঐকমত্যের আগেই প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের দৃশ্যমান অনেকগুলো সংস্কার সম্পন্ন করেছেন। তবে এই সংস্কারের ‘ষোলোকলা’ এখনো পূর্ণ হয়নি। 

আইনজ্ঞরা মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা গেলেই ‘ষোলোকলা’ পূর্ণ হবে। এরইমধ্যে  যেটার খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। 

এই অনুমোদনের পরও প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছেন। তার মতে, ‘যে কোনো ধরনের অবিশ্বাস বা একতরফা আচরণ গত ১৫ মাসের নিরলস প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার এই ভিত্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে।’ তাই তিনি বিচার বিভাগীয় স্বায়ত্তশাসনের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সমন্বয়ের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে পট পরিবর্তনের পর ১১ আগস্ট বাংলাদেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। এরপর একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনের ইনার গার্ডেনে দেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশ্যে অভিভাষণ দেন। সেখানে বিচার বিভাগ নিয়ে তিনি রোডম্যাপ তুলে ধরেন। 

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অনেকগুলো বিষয় বাস্তবায়ন হয়েছে। আর কিছু বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস গঠন, বিধিমালা প্রণয়ন, পেপার ফ্রি বেঞ্চ, দেওয়ানি ও ফৌজদারি এখতিয়ার অনুসারে পৃথক আদালত স্থাপন, সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল পুনরুজ্জীবন, সুপ্রিম কোর্ট হেলপলাইন, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস ও পে-কমিশন পুনর্গঠন। 

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনিরের মতে, বিচার বিভাগ সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই পদক্ষেপগুলো যদি চলমান থাকে তাহলে ভবিষ্যতে বিচার বিভাগের জন্য অনেক সুখবর আছে। এটা শুধু বিচার বিভাগের জন্যই নয়, রাষ্ট্রের জন্যও অনেক বড় ধরনের ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পরে প্রথমদিকে প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে সংস্কার শুরু হয়। এর মধ্যে রয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, বিচারক, বিচারক নিয়োগ, আইন সংস্কারের জন্য যে কমিশন গঠন করা হয় তার আলোচনার মধ্যেই এটা হয়ে গেছে। এটাকে সংস্কার বলে মনে করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

তবে আইনজীবী শিশির মনিরের ধারণা, সার্বিক বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করে সর্বশেষ স্ট্রাকচার যদি ঠিক করে দেওয়া যায়, তাহলে ষোলোকলা পূর্ণ হবে এবং সবাই সর্বশেষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবে।

প্রধান বিচারপতির প্রথমদিকের সংস্কার হলো, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ২০২৫। সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ করে আসছেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেন। এর অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন খসড়া প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের মতামত নেন। মতামত সম্বলিত এ খসড়া প্রস্তাব আকারে গত বছরের ২৮ অক্টোবর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠান। এরপর ‘সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ২০২৫ এর খসড়া উপদেষ্টার পরিষদে নীতিগতভাবে অনুমোদন হয়। অবশেষে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি অধ্যাদেশটি পাস হয়।

তবে অধ্যাদেশের ৩,৪,৬ ও ৯ ধারা নিয়ে আপত্তি তুলে এক আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। ৩ ধারায় বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতিকে সহায়তা করতে উপযুক্ত ব্যক্তি বাছাইয়ের জন্য কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা; ৪ ধারায় কাউন্সিল সচিব, ৬ ধারায় কাউন্সিলের ক্ষমতা ও কার্যাবলি এবং ৯ ধারায় আপিল বিভাগের বিচারক নিয়োগ নিয়ে সুপারিশের বিধান রয়েছে। যদিও সেই রিট নিষ্পত্তি করে দেন হাইকোর্ট বিভাগ। এছাড়া অধ্যাদেশের কিছু ধারা নিয়ে ২৩ জানুয়ারি প্রশ্ন তোলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অধ্যাদেশটিকে বৈষম্যমূলক বলে সংশোধনের দাবি জানান তিনি। তবে প্রথমবারের মতো আইন করায় তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নিম্ন আদালতের বিচারকদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এখানে তাদের প্রতিনিধি আছে। আর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়োগ (বিচারপতি) হয় কিন্তু আইনজীবী থেকে, সেখানে কোনো প্রতিনিধি নেই।

অনতিবিলম্বে আইনজীবীদের অসন্তোষ দূর করার জন্য, পাশাপাশি আইনজীবীদের মধ্য থেকে ভালো বিচারপতি নিয়োগের জন্য এই আইনটা (অধ্যাদেশ) সংশোধন করা উচিত বলে মনে করেন মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, ‘আইনজীবীদের প্রতিনিধি যাতে এখানে থাকে, সে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানাচ্ছি।’

অধ্যাদেশের ৩ ধারায় উপযুক্ত ব্যক্তি বাছাইয়ের জন্য একটি কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করার কথা বলা হয়েছে। সেই কাউন্সিলে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, অ্যাটর্নি জেনারেল ও একজন আইনের অধ্যাপক রয়েছেন।   

এ অধ্যাদশের বিষয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, আইনের কিছু ত্রুটি আছে। তারপরেও আইনটা যে হলো এটাকে সংস্কার বলবো। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বারের প্রেসিডেন্টসহ অনেকে নিয়োগের ক্ষেত্রে সমালোচনা করেছেন। তার মানে স্বচ্ছতার আরও প্রয়োজন আছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে রাখা ঠিক না। এটার মাধ্যমে নিয়োগটা দুর্বল হবে। অ্যাটর্নি জেনারেল তো সরকারের নিয়োগ। এ জন্য আমি মনে করি, আইনটা সংশোধন করে দু’জনকে বাদ দেওয়া উচিত। এর পরিবর্তে সুপ্রিম কোর্টের আরও বিচারকদের অন্তর্ভুক্ত করা বা অবসরপ্রাপ্ত জজকে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। এর বাইরে অন্তর্ভূক্তি, স্বচ্ছতা আসবে না।

তবে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, নতুন প্রক্রিয়ায় হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগের কারণে বিচারকদের কোয়ালিটি আগের তুলনায় ভালো হয়েছে।

১৯৯৯ সালে আলোচিত মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর থেকে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়ে আসছিলো। কিন্তু বাস্তবে সেটা আলোর মুখ দেখেনি। তবে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ এবার এটির বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেন। তার অংশ হিসেবে গত বছরের ২৭ অক্টোবর পৃথক সচিবালয় গঠনের জন্য প্রধান বিচারপতির নির্দেশে প্রস্তাব আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ওই প্রস্তাবনায় বলা হয়, ‘মাসদার হোসেন মামলার রায়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত বর্তমানে প্রচলিত দ্বৈত-শাসন কাঠামো তথা অধস্তন আদালতের বিচারকগণের নিয়োগ, বদলি, শৃঙ্খলা প্রভৃতি বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্টের যে যৌথ এখতিয়ার রয়েছে, তা সম্পূর্ণরূপে বিলোপ করে বিচার বিভাগের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠাকে ক্ষমতার পৃথক্‌করণের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করেছে। এ কথা সত্য যে, বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক সরকারের অনীহার কারণে বিচার বিভাগের পৃথক্‌করণ সম্ভবপর হয়নি। এ কারণে বিগত জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বর্তমান সময় হচ্ছে মাসদার হোসেন মামলার রায়ের বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের শ্রেষ্ঠ সময়। এ প্রচেষ্টার প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে নির্বাহী বিভাগ হতে সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন একটি পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা।’

এ প্রস্তাব পাঠানোর দীর্ঘদিন পর গত ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদে এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। দু’দিন পর ২৫ অক্টোবর রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ বিগত ১৫ মাসের সুপরিকল্পিত কৌশলগত প্রচেষ্টা ও বহুপাক্ষিক প্রয়াসের ফল।’

তিনি বলেন, ‘এই ১৫ মাসে প্রধান বিচারপতির কার্যালয় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাহী শাখার মধ্যে কৌশলগত বোঝাপড়া ও সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এখন আমাদের প্রয়োজন পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা ও দূরদর্শিতা— যাতে বিচার বিভাগের কাঠামোগত স্বাধীনতা দীর্ঘস্থায়ী হয়।’ 

পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘সচিবালয়ের বিষয়ে আমরা নিশ্চিত না। ওটার মধ্যে কী আছে আমরা জানি না। ওটার মধ্যে এমন কোনো ম্যাকানিজম আছে কিনা যে আল্টিমেটলি স্বাধীনতা থাকবে না। সেটা তো দেখার ব্যাপার। না দেখে বলা যাবে না।’  

প্রধান বিচারপতির উদ্যোগগুলোর মধ্যে আরেকটি ছিল পেপার ফ্রি বেঞ্চ। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি সংক্রান্ত একটি বেঞ্চে সম্পূর্ণ কাগজ মুক্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব তত্ত্বাবধান ও উদ্ভাবনে ওই বেঞ্চের সব নথি অনলাইনে জমা প্রদানের অনলাইন প্লাটফর্ম প্রস্তুত করা হয়। পরবর্তীতে গত ২০ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের অন্য একটি কোম্পানি বেঞ্চে কাগজমুক্ত বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।  

সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ্ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বেঞ্চগুলো কাগজমুক্ত কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা প্রধান বিচারপতির রয়েছে। 

কাগজমুক্ত বিচারিক কার্যক্রমকে ভালোভাবে দেখছেন আইনজীবীরা। তবে এ নিয়ে কিছু ঝুঁকির কথাও বলছেন তারা। আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘এটা একটা শুরু। এভাবে করলে ভবিষ্যতে হয়তো একসময় সবগুলো করা যাবে। তখন কাগজপত্রের ব্যবহার থাকবে না। তবে এটার একটা রিস্কও আছে। ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা শঙ্কা আছে। যদি বিঘ্ন ঘটে তাহলে মহাবিপদ। অতএব অল্টারনেটিভ রাখতে হবে।

প্রধান বিচারপতির আরেকটি সফল উদ্যোগ হলো ফৌজদারি ও দেওয়ানি আদালত পৃথক করা। দেশের অধস্তন আদালতের যুগ্ম জজ থেকে জেলা জজ আদালতের বিচারকরা দেওয়ানি ও ফৌজদারি আপিল এবং রিভিশনের পাশাপাশি বিশেষ আদালত ও ট্রাইবুনালের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর ফলে প্রত্যাশিত মামলা নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না। এমন প্রেক্ষিতে ‘দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে দেওয়ানি ও ফৌজাদারি এক্তিয়ার অনুসারে জেলা জজশীপ ও সেশনস ডিভিশন পৃথককরণ এবং সংশ্লিষ্ট জজশীপ ও সেশনস ডিভিশনের সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন করে প্রয়োজনীয়সংখ্যক পদ তৈরির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধান বিচারপতির নির্দেশে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ২১ এপ্রিল আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠান। সেটি আমলে নিয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রতিটি জেলায় পৃথক দায়রা বিভাগ পুনর্গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।   

আদালত পৃথক করা হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পর্যাপ্ত জনবল ও বিচারক নিয়ে এ ক্ষেত্রে সামনে নিয়ে এসেছেন আইনজীবীরা। আপিল বিভাগের আইনজীবী শিশির মনির আদালত পৃথক করাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। তবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলছেন, এখানে কোর্টের সংখ্যা, লজিস্টিক সাপোর্ট এবং বিচারকের সংখ্যা বাড়াতে হবে। সেটা সরকার করেছে কি না। লজিস্টিক সাপোর্ট না বাড়ালে এটার রেজাল্ট পাবেন না। সিভিল আলাদা, ক্রিমিনাল আলাদা, এটা একটা মেন্টাল শান্তি। তাতে মামলা জটের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়বে না। 

বিচার প্রার্থী জনগণের সার্বিক সুবিধার প্রধান বিচারপতির এমন উদ্যোগ, সংস্কার ও প্রচেষ্টার বিষয়ে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, আমার মনে হয় বিচার বিভাগ সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই পদক্ষেপগুলো যদি চলমান থাকে তাহলে ভবিষ্যতে বিচার বিভাগের জন্য অনেক সুখবর আছে। এটা শুধু বিচার বিভাগের জন্যই নয়, রাষ্ট্রের জন্যও অনেক বড় ধরনের ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।  

‘আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, বাণিজ্যিক আদালত আলাদা হতে যাচ্ছে। সারা দুনিয়ার বহু দেশে স্পেশাল কমার্শিয়াল কোর্ট আছে। এগুলো আমি অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করি,’ যোগ করেন আইনজীবী শিশির মনির।

শুধু বিচার কাজের স্বাধীনতাই নয়, বিচারকদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতাও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে শিশির মনির বলেন, আরেকটি কাজ বাকি আছে। সেটার উদ্যোগ নিচ্ছি। সেটা হলো বিচারকদের বেতন ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে মানুষ প্রকৃত অর্থে স্বাধীন হতে পারে না। এখন যা আছে (বেতন-ভাতা) এভাবে আসলে নির্ভার সংসার জীবন পরিচালনা করা কঠিন। আমরা একটা রিট ফাইল করছি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর