নিঝুমের চুল খুব পাতলা, এজন্য তার মায়ের কপালে চিন্তার ভাঁজ! শিশু নিঝুমের বাড়ির মুরুব্বিরা জানিয়েছেন, তাকে ন্যাড়া করলে নাকি মাথার চুলের ঘনত্ব বাড়বে। এ ধরনের কথা ঘরে ঘরে শোনা যায়। অনেক বাবা-মায়ের ধারণা শিশুকে বারবার ন্যাড়া না করলে তার ভালো চুল গজাবে না। কিন্তু এই কথার আদৌ কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে কি না, তা নিয়ে অবশ্য কেউ বেশি ভাবেন না।
ন্যাড়া হলেই যে ঘন চুল হবে, তেমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। চুল গজায় ফলিক্ল থেকে। তা মাথার তালুর কয়েক মিলিমিটার নিচে থাকে। মাথার চুল কামানোয় ফলিক্লে কোনোভাবেই প্রভাব পড়ে না। ত্বকের বাইরে যে অংশটি থাকে, সেটাই শুধু কামানো হয়। ফলে ন্যাড়া হওয়ার পরে চুলের ঘনত্বে কোনো বদল আসে না। শিশুর চুল ঘন হবে কি না, তার পুরোটাই নির্ভর করে শিশুর খাওয়া-দাওয়া, চুলের পরিচর্যা আর জিনের ওপর। জিনের ক্ষেত্রে আমাদের হাতে কিছু করার নেই, বাবা-মায়ের ঘন চুল থাকলে খুদেরও চুল ঘন হবে। তবে খুদের ঘন চুল পেতে হলে তাকে বারে বারে ন্যাড়া না করিয়ে তার খাদ্যাভাসে বেশি করে ভিটামিন ও প্রোটিনযুক্ত খাবার রাখুন। খুদের চুলের পরিচর্যার বিষয়েও অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে।
তবে ন্যাড়া হওয়ার কি একেবারেই কোনো সুবিধা নেই? তা-ও নয়। দুটি সুবিধা আছে। প্রথমত, যাদের চুলের গোড়া দুর্বল, তাদের চুল বেশি লম্বা হয়ে গেলে বেশি মাত্রায় ঝরতে থাকে। ন্যাড়া হলে তার পরিমাণ কমে। আর দ্বিতীয়ত, মাথার ত্বকে অনেক সময়ে ছত্রাক বা নানা ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণ ঘটায়। এর ফলে চুল পড়ে যায়। ন্যাড়া হলে সেই সংক্রমণের হার কমে। অর্থাৎ ন্যাড়া হলে চুল ঘন হবে— এই ধারণা ভুল। কিন্তু ন্যাড়া হলে চুল পড়ার হার কমবে— কারও কারও ক্ষেত্রে এ কথা সত্যি।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
লাইফস্টাইল ডেস্ক 








