ভারতীয় ক্রিকেটে কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকায় বড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। শিগগিরই ২০২৬ সালের জন্য কেন্দ্রীয় চুক্তি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিসিসিআই। নতুন তালিকায় খেলোয়াড়দের গ্রেডে উল্লেখযোগ্য রদবদল হতে পারে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে ভারতের দুই তারকা ক্রিকেটার রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির ওপর। দুই ফরম্যাট থেকে অবসর নেওয়ার পর তাদের চুক্তির গ্রেড নামতে পারে বলে আলোচনা চলছে।
২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে বিদায় জানান রোহিত ও কোহলি। এরপর অ্যান্ডারসন টেন্ডুলকার ট্রফির আগে তারা টেস্ট ক্রিকেট থেকেও অবসর ঘোষণা করেন। তবে দুই তারকাই এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে রঞ্জি ট্রফিতে খেলেন, যা বিসিসিআইয়ের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এর আগে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি ছিলেন এ প্লাস গ্রেডের চুক্তিতে। এই গ্রেডে থাকা খেলোয়াড়রা তিন ফরম্যাটেই নিয়মিত খেলতেন। কিন্তু এখন তারা কেবল ওয়ানডে ক্রিকেটে সক্রিয় থাকায় এ প্লাস গ্রেড থেকে তাদের নাম বাদ পড়তে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্পোর্টস্টকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ প্লাস গ্রেড মূলত সব ফরম্যাটে খেলার জন্য উপলব্ধ ক্রিকেটারদের জন্য সংরক্ষিত। এই গ্রেডের খেলোয়াড়রা বছরে ৭ কোটি রুপি পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। ২০১৮ সালে এ প্লাস গ্রেড চালুর পর থেকেই এই তালিকায় ছিলেন কোহলি।
অন্যদিকে চুক্তির তালিকায় উন্নতি হতে পারে শুভমান গিলের। ভারতের বর্তমান ওয়ানডে ও টেস্ট অধিনায়ক গিলকে গ্রেড এ থেকে এ প্লাসে উন্নীত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
চুক্তির তালিকায় ঈশান কিষাণকে রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে বিসিসিআইয়ের। সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ভারতের দলে জায়গা পাওয়ায় তার চুক্তি বহাল থাকার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ প্লাস গ্রেডে থাকবেন সেই ক্রিকেটাররা যারা নিয়মিতভাবে দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুভমান গিল ছাড়াও রবীন্দ্র জাদেজা ও জসপ্রিত বুমরাহ এই তালিকায় জায়গা ধরে রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেতৃত্বের ভূমিকা ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাদের অবস্থান শক্ত করেছে।
বিসিসিআই আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা প্রকাশ করতে পারে। পাশাপাশি ঘরোয়া আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের ম্যাচ ফি বাড়ানোর দীর্ঘদিনের একটি প্রস্তাবও পর্যালোচনা করা হতে পারে।
প্রতি বছরই কেন্দ্রীয় চুক্তি পর্যালোচনা করে বিসিসিআই। এখানে শুধু নাম বা অতীত কৃতিত্ব নয়, বরং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, ধারাবাহিকতা, ফিটনেস এবং গত মৌসুমে দলের জন্য অবদান বিবেচনায় নেওয়া হয়।
এ ছাড়া ম্যাচ খেলার সংখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। টেস্ট, ওয়ানডে বা টি টোয়েন্টিতে ন্যূনতম ম্যাচ খেলার শর্ত পূরণ করতে হয়। তবে বেশি ম্যাচ খেললেই যে উচ্চ গ্রেড পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশগ্রহণও এখন বড় মানদণ্ড। আন্তর্জাতিক দায়িত্ব না থাকলে রঞ্জি ট্রফির মতো ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের অংশ নেওয়ার ওপর বিসিসিআই বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই নিয়ম আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
ক্রীড়া ডেস্ক 








