ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) জন্য ১৬টি ডাবল কেবিন পিকআপ (জিপ) কেনার অনুমতি চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় শর্তসাপেক্ষে ১৩টি গাড়ি কেনার অনুমতি দেওয়ার জন্য অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের জন্য একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করেছে। যেখানে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
নতুন গাড়ি কেনায় সরকারি বিধিনিষেধ শিথিল করে নির্বাচনের আগে গাড়িগুলো কেনা হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
যেসব উপজেলা ভূমি অফিসের জন্য গাড়িগুলো কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে— চট্টগ্রাম জেলার কাট্টলী রাজস্ব সার্কেল ভূমি অফিস, সিলেটের মহানগর রাজস্ব সার্কেল ভূমি অফিস, ওসমানী নগর উপজেলা ভূমি অফিস, বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলা ভূমি অফিস, রুমা উপজেলা ভূমি অফিস, আলীকদম উপজেলা ভূমি অফিস, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ভূমি অফিস, রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলা ভূমি অফিস, কাপ্তাই উপজেলা ভূমি অফিস, কাউখালী উপজেলা ভূমি অফিস, খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলা ভূমি অফিস, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা ভূমি অফিস, কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলা ভূমি অফিস, হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস, রংপুর জেলার রংপুর মহানগর সার্কেল ভূমি অফিস ও সিলেটের একটি গাড়ি ২০২৪ সালে আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটি প্রতিস্থাপন করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়কে পাঠানো চিঠিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) অনুকূলে ১৬টি ডাবল কেবিন পিকআপ কেনার অনুমতি দেওয়ার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহায়তার জন্য সহকারী কমিশনাররা (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের সহায়তায় মাঠপর্যায়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া তারা মোবাইল কোর্ট, উচ্ছেদ কার্যক্রম, প্রটোকল, সরকারি বিভিন্ন সায়রাত মহালের তদারকি, সরকারি সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার কাজ করে থাকেন। গত ৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন, ২০০৯-এর ৫ নং আইনের ধারা ৪-এর উপধারা (ক)-এর সংশোধিত অধ্যাদেশ (৭) ও (৮) নং অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহায়তার জন্য সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) জন্য গাড়ি অত্যন্ত প্রয়োজন। গত দুই অর্থবছর এবং চলতি অর্থবছরেও অর্থ বিভাগ কর্তৃক নতুন গাড়ি কেনা স্থগিত থাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের টিওঅ্যান্ডইভুক্ত ১৫টি ডাবল কেবিন পিকআপ ও প্রতিস্থাপিত ১টি ডাবল কেবিন পিকআপ কেনা সম্ভব হয়নি। এ পরিপ্রেক্ষিতে ১৬টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের টিওঅ্যান্ডইভুক্ত ১৫টি ডাবল কেবিন পিকআপ ও প্রতিস্থাপিত ১টি ডাবল কেবিন পিকআপ কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ দিতে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের বিপরীতে অর্থ মন্ত্রণালয় পর্যালোচনাসহ একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করেছে। এতে বলা হয়েছে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের মোটরযান ক্রয় খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৮ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ ছিল।
এ খাতে বরাদ্দ করা অর্থ থেকে গত ১৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ২১৬ নং স্মারকের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন মাঠপর্যায়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কার্যালয়ের জন্য ৯টি ডাবল কেবিন পিকআপ ক্রয়ের জন্য ৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ের সম্মতি দেওয়া হয়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট খাতে ২৬ লাখ টাকা অবশিষ্ট রয়েছে, যা দিয়ে প্রস্তাবিত ১৬টি ডাবল কেবিন পিকআপ কেনা সম্ভব নয়। তবে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অন্য কোডে বরাদ্দ করা অর্থ থেকে পুনঃউপযোজন করে ডাবল কেবিন পিকআপ কেনা সম্ভব হবে বলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের বাজেট অনুবিভাগ থেকে গত ৮ জুলাই ২০২৫ তারিখে জারি করা ৭ নং পরিপত্র অনুযায়ী সব ধরনের যানবাহন ক্রয় খাতে বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে, ১০ বছরের অধিক পুরোনো টিওঅ্যান্ডইভুক্ত যানবাহন প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যয় নির্বাহ করা যাবে বলে সিদ্ধান্ত রয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠাতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতার জন্য সহকারী কমিশনাররা (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করবেন। এ ছাড়া সহকারী কমিশনাররা (ভূমি) মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, সরকারের জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা ও বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যাবলী সম্পাদনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে থাকেন।
এদিকে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার দাখিল করা প্রত্যয়ন অনুসারে বর্তমানে বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলা ভূমি অফিস, আলীকদম উপজেলা ভূমি অফিস ও রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলা ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর পদ শূন্য রয়েছে। এ অবস্থায় নতুন টিওঅ্যান্ডইভুক্ত ১৫টি উপজেলা ভূমি অফিসের মধ্যে ৩টি উপজেলা ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ শূন্য থাকায় অবশিষ্ট ১২টি ভূমি অফিসের জন্য ১২টি ডাবল কেবিন পিকআপ নতুনভাবে কেনা ও ২০২৪ সালে সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের ব্যবহৃত ১টি ডাবল কেবিন পিকআপের প্রতিস্থাপক হিসেবে ১টি ডাবল কেবিন পিকআপ কেনায় সম্মতি দেওয়ার বিষয়ে অর্থ বিভাগ সুপারিশ করেছে।
জানা গেছে, অর্থ বিভাগ থেকে গত ৫ জানুয়ারি প্রতিটি ডাবল কেবিন পিকআপের মূল্য (রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ) ৮৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত নতুন টিওঅ্যান্ডইভুক্ত ১৫টি উপজেলা ভূমি অফিসের মধ্যে ৩টি উপজেলা ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর পদ শূন্য থাকায় অবশিষ্ট ১২টি ভূমি অফিসের জন্য ১২টি ডাবল কেবিন পিকআপ নতুনভাবে কেনা ও ২০২৪ সালে আন্দোলন চলাকালীন ক্ষতিগ্রস্ত সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের ১টি ডাবল কেবিন পিকআপের প্রতিস্থাপক হিসেবে ১টি ডাবল কেবিন পিকআপসহ মোট ১৩টি উপজেলা ভূমি অফিসের জন্য ১৩টি ডাবল কেবিন পিকআপ কিনতে ১১ কোটি ১৮ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। তবে বর্তমানে এই পরিমাণ অর্থ ভূমি মন্ত্রণালয়ের মোটরযান ক্রয় খাতে বরাদ্দ নেই। তবে এক্ষেত্রে প্রয়োজন ও বাস্তবতার নিরিখে পুনঃউপযোজন করা হতে পারে।
এ অবস্থায় অর্থ বিভাগের বাজেট অনুবিভাগ থেকে গত ৮ জুলাই ২০২৫ তারিখে জারি করা ৭ নং পরিপত্রের ক(২) অনুচ্ছেদ শিথিল করে অর্থ বিভাগের গত ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের ৮ নং স্মারকের মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্য (রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ) অনুযায়ী ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন মাঠপর্যায়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর ১৩টি কার্যালয়ের জন্য মোট ১৩টি ডাবল কেবিন পিকআপ কেনার জন্য ১১ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ের সম্মতি শর্তসাপেক্ষে দেওয়ার সুপারিশ করেছে অর্থ বিভাগ।
শর্তগুলো হচ্ছে—
ক. গাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০২৫ অনুসরণ করতে হবে;
খ. ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অন্য কোডে বরাদ্দ করা অর্থ থেকে পুনঃউপযোজন করে যানবাহন ক্রয় করতে হবে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হবে না;
গ. পুরাতন গাড়ি বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে অর্থ বিভাগকে অবহিত করতে হবে;
এবং ঘ. এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব বিধি/আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হবে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
আজকের সিলেট ডেস্ক 








