গিলাফ চড়ানোর মধ্য দিয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর ৭০৭তম বার্ষিক ওরস মোবারক শুরু হয়েছে। ওরস উপলক্ষে ভক্ত-আশেকানদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে মাজার এলাকা।
বৃহস্পতিবার সকালে ঐতিহাসিক গিলাফ চড়ানোর মাধ্যমে ওরস কার্যক্রমের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে দরগাহ কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবছর আরবি মাসের ১৯ ও ২০ জিলকদ দুই দিনব্যাপী হজরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারে ওরস মোবারক অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার ভক্ত-আশেকানরা দলে দলে গিলাফ চড়াতে মাজারে প্রবেশ করেন। ভক্তদের মুখে জালালি গানে মুখরিত হয়ে ওঠে মাজার এলাকা।
শুক্রবার ভোরে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ওরস মোবারক শেষ হবে।
ওরস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকেও মাজারে গিলাফ চড়ান সিলেট সিটি করপেরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপহার হিসাবে পাঠানো একটি গরু মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছেন সিসিক প্রশাসক। গত সোমবার বিকেলে তিনি মাজারের মোতাওয়াল্লি ফতেউল্লাহ আল আমানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই উপহার তুলে দেন।
এদিকে ওরস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এরই মধ্যে ভক্ত-অনুরাগীরা মাজারে এসে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। ওরসকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মাজার সেক্রেটারি সামুন মাহমুদ খান বলেন, মূলত আরবি মাসের ১৯ ও ২০ জিলকদ ওরসকে কেন্দ্র করে যেসব আনুষ্ঠানিকতা হয়ে থাকে, সেগুলো অনেকের অজানা। ১৮ জিলকদ গরু জবাই ও মাজারের ৭টি গিলাফ বদলি করা হয়। ১৯ জিলকদ গিলাফ চড়ানো হয়। এই গিলাফ শাহজালালের ওফাতের পর প্রথম আসে শাহ ওমর সমরখন্দ’র মাজার থেকে। এই রেওয়াজ এখনো আছে। প্রথমে মাজার কর্তৃপক্ষ গিলাফ চড়ান। এরপর সারাদিন গিলাফ চড়ান ভক্তরা। সন্ধ্যার পর সফিনা খতম পড়েন ৩০ জন হাফেজ মাওলানা। বাদ এশা হাফেজরা বাড়িতে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করেন। এটাকে ‘ষাট মোল্লার খাবার’ বলা হয়। যদিও ৬০ জন নয়, বরং শত শত হাফেজদের খাওয়ানো হয়। খাওয়া-দাওয়ার পর তারা আবারো মাজারে চলে আসেন এবং রাত ৩টায় আবারো সফিনা খতম পড়তে শুরু করেন। খতম শেষে ভোররাত সাড়ে ৩টায় আখেরি মোনাজাত হবে। মোনাজাত পরিচালনা করবেন দরগাহ মাজার মসজিদের মোতোয়ালি ফতেউল্লাহ আল আমান। এরপর তবরুক বা শিরনি বিতরণ করা হয়।
তিনি বলেন, তবরুক বিতরণের পর শেষ নয়, পরে ২০ জিলকদ যোহর নামাজের পর শরবত বানানো হয়। সেটি বিতরণ হয় আসর নামাজের পর। পরদিন ২০ জিলকদ রাত ১০ টায় ভলেন্টিয়ারদের নিয়ে মিলাদ শরীফের মধ্য দিয়ে ওরসের কার্যক্রম শেষ হয়।
সামুন মাহমুদ খান বলেন, ওরসে আসা অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। এ ছাড়া মেডিকেল টিমের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের আলাদা টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ওরসে পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, মাজারের প্রত্যেকটি প্রবেশ দ্বারে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ইসলাম প্রচারের জন্য হযরত শাহজালাল (রহ.) ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে ৩৬০ সফরসঙ্গী নিয়ে সিলেট আসেন। ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জিলকদ তিনি ইন্তেকাল করেন। সিলেটে তিনি যে টিলায় বসবাস করতেন, সেখানেই তাকে দাফন করা হয়। তার কবরকে ঘিরেই পরে গড়ে উঠে মাজার।
আজকের সিলেট/এপি
নিউজ ডেস্ক 








