বর্ষা মানেই পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা বৃদ্ধি
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৩ AM

বর্ষা মানেই পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা বৃদ্ধি

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫/০৭/২০২৬ ০৮:২৩:০৭ AM

বর্ষা মানেই পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা বৃদ্ধি


সকাল ১০টা। বই খুলে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শেরপুরের বাজিতখিলা গ্রামের নুসরাত জাহান রিতু। হঠাৎ মনে হলো, চার বছরের মেয়ে আফিয়া জান্নাতকে অনেকক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বুক ধড়ফড় করতে লাগল। বই-খাতা ফেলে দৌড়ে বের হয়ে পড়লেন। বাড়ির পাশের পুকুরের দিকে ছুটতে ছুটতে মনে তার একটাই ভয়, ‘না জানি কী হয়ে গেল!’ সৌভাগ্যক্রমে মেয়েকে বাড়ির আঙিনাতেই পাওয়া গেল।

তবুও ভয় কাটেনি। কারণ, বর্ষার পানিতে টইটম্বুর সেই পুকুর এখন প্রতিদিনই তাকে অজানা এক আতঙ্কের মধ্যে রাখে। রিতু বলেন, ‘আগে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মেয়েটা কমিউনিটি চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে থাকত। আমি নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করতাম। এখন পাঁচ-দশ মিনিট পরপর উঠে দেখতে হয় ও কোথায়। বইয়ে মন বসে না, শুধু ভয় লাগে।’

রিতুর মতো হাজারো মা এখন একই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কারণ, দেশের সবচেয়ে কার্যকর শিশু ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ কর্মসূচিগুলোর একটি কমিউনিটি চাইল্ড কেয়ার সেন্টার গত ডিসেম্বর থেকে বন্ধ।

এমন এক পরিস্থিতিতেই এসেছে ২৫ জুলাই বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস। দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘ইউনাইট টু টার্ন দ্য টাইড’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) যখন ডুবে মৃত্যু রোধে নতুন বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করছে, তখন বাংলাদেশে সফল একটি কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায়।

বর্ষা মানেই বাড়তি শঙ্কা
বাংলাদেশে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা সারা বছর ঘটলেও বর্ষা মৌসুমে এর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।

ফাউন্ডেশন ফর ডিজাস্টার ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে পানিতে ডুবে মারা গেছেন ৫৮৩ জন। এর মধ্যে ৫২৭ জনই শিশু। গত বছর পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১ হাজার ৩১১ জন, যার প্রায় ৯০ শতাংশই শিশু।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুলাই ও আগস্ট মাসে দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। এসময় পুকুর, ডোবা, খাল ও জলাশয় পানিতে ভরে যায়। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে, যখন মায়েরা রান্না, গৃহস্থালি কাজ, কৃষিকাজ কিংবা জীবিকার তাগিদে ব্যস্ত থাকেন। কয়েক মিনিটের অসাবধানতাই তখন একটি পরিবারের সারাজীবনের কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

যে কেন্দ্রগুলো শিশুদের নিরাপদ রাখত
এই ঝুঁকি কমাতেই ২০২২ সালে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ‘ইন্টিগ্রেটেড কমিউনিটি-বেইজড সেন্টার ফর চাইল্ড কেয়ার, প্রোটেকশন অ্যান্ড সুইম-সেইফ (আইসিবিসি)’ প্রকল্প চালু করে।

৩০৬ কোটি টাকার এই প্রকল্পের আওতায় ১৬ জেলার ৪৫টি উপজেলায় ৮ হাজার কমিউনিটি চাইল্ড কেয়ার সেন্টার ও ১ হাজার ৬০০টি সুইম-সেইফ কেন্দ্র চালু হয়। পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় দুই লাখ শিশু নিরাপদ পরিবেশে দিনের কয়েক ঘণ্টা কাটানোর সুযোগ পায়। পাশাপাশি তিন লাখ ৬০ হাজারের বেশি শিশু সাঁতার ও পানিতে নিরাপদ থাকার প্রশিক্ষণ নেয়।

প্রকল্প কর্মকর্তাদের দাবি, এসব চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে নিবন্ধিত কোনো শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

শুধু জীবন রক্ষাই নয়, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট-এর মূল্যায়নে দেখা গেছে, এসব কেন্দ্রে যাওয়া শিশুদের ভাষা শেখা, সামাজিক আচরণ, আত্মবিশ্বাস, পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস এবং প্রাথমিক শিক্ষায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

কেন্দ্র বন্ধ, বেড়েছে দুশ্চিন্তা
প্রথম পর্যায়ের প্রকল্প শেষ হওয়ার পর গত ডিসেম্বর থেকে সব কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। ময়মনসিংহের নান্দাইলের সানজিদা আক্তারের তিন বছরের ছেলে আগে নিয়মিত চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে যেত। তিনি বলেন, ‘আগে ছেলেটা নিরাপদে থাকত। আমি সেলাইয়ের কাজ করে কিছু আয় করতে পারতাম। এখন সারাক্ষণ ওকে দেখতেই সময় চলে যায়। সংসারের আয়ও কমে গেছে।’

শেরপুরের কেয়ারগিভার রূপালী আক্তার বলেন, ‘‘জানুয়ারি থেকে ভাতা বন্ধ, কেন্দ্রও বন্ধ। প্রায় প্রতিদিনই মায়েরা এসে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপা, কবে আবার খুলবে?’ কিন্তু আমাদের কাছে কোনো উত্তর নেই।’’

আরেক কেয়ারগিভার লতিফা খাতুনের কণ্ঠে ছিল অন্যরকম কষ্ট। তিনি বলেন, ‘আমার নিজের সন্তান নেই। এই ২০-২৫টা শিশুই ছিল আমার পৃথিবী। এখন কাজও নেই, সেই হাসিমুখগুলোও নেই।’

দ্বিতীয় ধাপ আটকে কোথায়?
প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের জন্য ৮৩৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

নতুন প্রস্তাবে ১৬ জেলার পরিবর্তে ৩০ জেলা, ৪৫ উপজেলার পরিবর্তে ৭৯ উপজেলায় কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। চাইল্ড কেয়ার সেন্টারের সংখ্যা বাড়িয়ে ১৩ হাজারের বেশি করার কথা বলা হয়েছে। এতে প্রায় ১০ লাখ শিশু সেবা পাবে।

প্রকল্প ব্যবস্থাপক তারিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, প্রকল্প অনুমোদন পেলেও সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নির্বাচনসহ মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করতে আরও পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে।

নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন জানিয়েছেন, ডিপিপি বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা দ্রুত আয়োজনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। ফলে বর্ষা শেষ হওয়ার আগে কেন্দ্রগুলো চালু হওয়ার সম্ভাবনা একরকম নেই বললেই চলে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন উদ্যোগ
বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস (২৫ জুলাই) উপলক্ষ্যে ডুবে মৃত্যু কমাতে নতুন কারিগরি নির্দেশিকা ‘প্রোটেক্ট’ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সরকার ও স্থানীয় সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করতেই এ নির্দেশিকা চালু করা হয়েছে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়। ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর প্রধান ১০টি কারণের অন্যতম হলো পানিতে ডুবে মৃত্যু। অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে নদী, হ্রদ, পুকুর, কূপ, গৃহস্থালির পানির পাত্র ও সুইমিংপুলে। এসব মৃত্যুর ৯০ শতাংশেরও বেশি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঘটে।

সংস্থাটি বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা, ঝড় ও তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়া বাড়ছে, যা পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাজ্যের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে ডুবে মৃত্যুর হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার দিনে ১০ ডিগ্রির নিচের দিনের তুলনায় ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেন, ‘‘প্রতিটি ডুবে মৃত্যু একটি ট্র্যাজেডি এবং এর অধিকাংশই প্রতিরোধযোগ্য। ‘প্রোটেক্ট’-এর সাতটি কৌশল দেশগুলোকে বাস্তবভিত্তিক ও প্রমাণনির্ভর উপায়ে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সহায়তা করবে। নিরাপদ নৌপরিবহন, শিশুদের সাঁতার শিক্ষা এবং বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতির মতো উদ্যোগ এ কৌশলের অংশ। ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ কোনো একক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়, এটি সবার দায়িত্ব।’

ডব্লিউএইচও জানায়, ২০২৫ সালে গঠিত গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ড্রাউনিং প্রিভেনশন-এর অধীনে প্রণীত বৈশ্বিক কৌশল বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ‘প্রোটেক্ট’ প্যাকেজ তৈরি করা হয়েছে। এতে পানির নিরাপত্তা জোরদারে সাতটি ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো– পানির আশপাশে নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করা, সাধারণ মানুষ ও পেশাদার উদ্ধারকর্মীদের উদ্ধার ও পুনর্জীবন (রিসাসিটেশন) সক্ষমতা বৃদ্ধি, পানিনির্ভর কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নৌপরিবহনে নিরাপত্তা মানদণ্ড উন্নয়ন, শিশুদের মৌলিক সাঁতার ও পানিতে নিরাপদ থাকার শিক্ষা দেওয়া, শিশুযত্ন ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ।

ডব্লিউএইচও জানায়, ঘানায় ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সরকারের অঙ্গীকার এবং পানি নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে দেশটিতে ‘প্রোটেক্ট’ প্যাকেজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হচ্ছে। দেশটিতে প্রতিবছর প্রায় ১ হাজার ১০০ জন পানিতে ডুবে মারা যায়, গড়ে প্রতিদিন মৃত্যু হয় প্রায় তিনজনের।

ডব্লিউএইচওর মতে, ঘানার এই উদ্যোগ অন্য দেশগুলোকেও প্রমাণভিত্তিক নীতি গ্রহণে উৎসাহিত করবে, যাতে ডুবে মৃত্যু কমিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়।

ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস-এর জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির প্রধান কেলি হেনিং বলেন, ‘এই কাঠামো বিশ্বজুড়ে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সরকারের চলমান উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে এবং অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করবে।’

উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ডব্লিউএইচওর সঙ্গে যৌথভাবে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে কাজ করছে এবং ‘প্রোটেক্ট’ প্যাকেজসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক নির্দেশিকা তৈরিতে সহায়তা করে আসছে।

এবারের বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ইউনাইট টু টার্ন দ্য টাইড’, অর্থাৎ সম্মিলিত উদ্যোগে ডুবে মৃত্যুর স্রোত থামাই। ডব্লিউএইচওর মতে, সরকার, বিভিন্ন খাত ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত উদ্যোগই ডুবে মৃত্যু কমিয়ে অসংখ্য প্রাণ রক্ষা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
শিশু নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধকে আর শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে দেখলে চলবে না।

সমষ্টি মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মীর মাসরুর জামান বলেন, প্রকল্প শেষ হলেই সেবা বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রশিক্ষিত জনবল হারিয়ে যায়, কমিউনিটির আস্থা কমে ও সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়ে শিশুরা।

তার মতে, কমিউনিটি চাইল্ড কেয়ার সেন্টার পরিচালনার ব্যয় সরকারের রাজস্ব বাজেট থেকে বহন করা উচিত। উন্নয়ন বাজেট ব্যবহার করা যেতে পারে নতুন এলাকা সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও নতুন উদ্যোগে।

তিনি বলেন, ‘ডুবে মৃত্যু কোনো মৌসুমি সমস্যা নয়। এটি জনস্বাস্থ্য ও শিশু সুরক্ষার স্থায়ী ইস্যু। তাই এই সেবা প্রকল্পভিত্তিক নয়, সরকারি নিয়মিত সেবার অংশ হওয়া দরকার।’

অপেক্ষা শুধু সিদ্ধান্তের
একটি শিশু পানিতে ডুবে মারা গেলে শুধু একটি প্রাণই হারায় না, ভেঙে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন, থমকে যায় একটি মায়ের জীবন, সারাজীবনের জন্য বদলে যায় একটি পরিবারের হাসি।

বাংলাদেশে এমন শত শত মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব, যদি শিশুদের কয়েক ঘণ্টার জন্য নিরাপদ তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা যায়, সাঁতার শেখানো যায় এবং কমিউনিটি চাইল্ড কেয়ার সেন্টারগুলো আবার চালু করা যায়।

বিশ্ব যখন ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে নতুন কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে, তখন বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন– সফল প্রমাণিত আইসিবিসি প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের অনুমোদন আর কতদিন অপেক্ষায় থাকবে?

ততদিন পর্যন্ত রিতুর মতো হাজারো মা হয়ত বইয়ের পাতা খুলবেন, আবার কয়েক মিনিট পরই ছুটে যাবেন বাড়ির উঠানে, পুকুরের ধারে কিংবা দরজার বাইরে– শুধু একবার সন্তানের মুখ দেখে নিশ্চিন্ত হতে। কারণ তারা জানেন, একটি অসাবধানতা মুহূর্তেই কেড়ে নিতে পারে তাদের পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর