বন্দরবাজার-জিন্দাবাজার সড়কে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গলির সামনে ফুটপাতে বসা কয়েকটি দোকান। ছবি : আজকের সিলেট
সিলেট সিটি করপোরেশনের ফুটপাতে হকারদের জঞ্জাল দীর্ঘদিন পর অপসারন করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিলেও পরবর্তী সময়ে কিছু ব্যাক্তি বা সিন্ডিকেটের কারনে তা ভেস্তে গেছে। তবে সম্প্রতি নগর ভবনের পেছনে লালদিঘীরপাড়ে প্রায় চার একর জায়গায় হকারদের পুনর্বাসনে অস্থায়ী মার্কেট তৈরি করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। এতে ফুটপাত হকারমুক্ত হলেও কতদিন দখলমুক্ত রাখা যাবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে নগরবাসীর মধ্যে।
ইতিমধ্যে পুরো শহরের হকারদের ফুটপাত থেকে অস্থায়ী হকার মার্কেটে নিতে চলছে সিসিকের তোলজোড়। এর মধ্যেই পুরো নগরী হকারমুক্ত হলেও ব্যতিক্রম শুধু জিন্দাবারস্থ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের গলির সামনের অংশ। এখানে বেশ কয়েকটি অস্থায়ী দোকান রয়েছে।
পুনর্বাসন মার্কেটে যাওয়া হকারদের অভিযোগ, এসব জায়গায় যদি হকাররা থেকে যায় তাহলে তাদের অস্থায়ী মার্কেটে ক্রেতারা আসবে না। রাস্তায় পাশে পণ্য পেয়ে গেলে ক্রেতারা কেন এত দূরে আসবে।
তাই এখনো রাস্তার পাশে যে সকল হকাররা রয়েছেন তাদেরকে অবিলম্বে মার্কেটের ভেতরে নিয়ে আসার দাবি জানান পুনর্বাসন প্রকল্পে থাকা এসব হকাররা।
এদিকে, পুনর্বাসিত হকাররাও তাদের ব্যবসা নিয়ে শঙ্কায়। ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।
লালদিঘীরপাড় অস্থায়ী মার্কেটে গিয়ে দেখা গেছে, তিন শতাধিক হকার পসরা সাজিয়ে বসেছেন। মাছ, সবজি থেকে শুরু করে জামাকাপড়, জুতাসহ সব ধরনের ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাদের কেউ নতুন জায়গায় ব্যবসা জমে ওঠার ব্যাপারে আশাবাদী। আবার কেউ কেউ হতাশা প্রকাশ করেছেন। সবাই বলছেন, ফুটপাতে যে বেচাকেনা হয় তার ৪ ভাগের ১ ভাগও এখানে করতে পারছেন না।
আব্দুর রহিম নামের এক ব্যবসায়ী জানান, ২০০১ সাল থেকে তিনি নগরের ফুটপাতে শিশুদের কাপড়ের ব্যবসা করে আসছেন। নতুন জায়গায় ব্যবসা কেমন চলছে প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘রাস্তার ব্যবসা এখানে কখনো হবে? রাস্তায় চলতে চলতে মানুষের একটা জিনিস ভালো লেগেছে, আর কিনে নিয়েছে। এখানে তো প্রয়োজন হলেই কেবল আসবে। না হলে আসবে না।’
বিকাল ৩টা পর্যন্ত ২২০ টাকা বিক্রি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাধারণত দিনে ৪-৫ হাজার টাকার বিক্রি হয় আমার। এখন একেবারেই নেই বললেই চলে। সব হকার এখানে চলে এলে অবশ্য ব্যবসা হবে।’
কিন ব্রিজের সামনে ব্যবসা করতেন বাবলু রায়। তিনি বলেন, ‘প্রায় ১৫ বছর থেকে কিনব্রিজের মুখে ব্যবসা করছি। এখানে কী হবে বুঝছি না। তবে আশা করি সব হকার যদি নিয়মিত বসেন, তবে ব্যবসা হবে। রাস্তায় ৩০০ টাকা বললে ক্রেতারা ৬০ টাকা বলে। এখানে একটু সম্মান দিয়ে ১৫০ টাকা দাম বলে।’
ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় খুশি সাধারণ নাগরিকরা। সিলেট নগরের আম্বরখানা, চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, কোর্ট পয়েন্ট, বন্দরবাজার, সুরমা মার্কেট পয়েন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সব ফুটপাতই হকারমুক্ত। হকারমুক্ত হওয়ায় নগরের অসহনীয় যানজটের তীব্রতাও নেই। তবে অবৈধ সিএনজি অটোরিকশাগুলো ফুটপাত দখল করে বসে আছে।
নগরবাসীরা জানান, ‘হকারমুক্ত ফুটপাতের দাবি দীর্ঘদিনের। অবশেষে সেটি বাস্তবায়ন সম্ভব হলো। এ দাবি পূরণ হওয়ায় টাইলসের প্রশস্ত ফুটপাতের সুফল এখন নাগরিকরা পাবেন। যদিও এর আগে বিভিন্ন সময় ফুটপাত সাময়িকভাবে দখলমুক্ত হতে দেখেছি। পরে একই চিত্র। তাই শঙ্কা থেকেই যায়। আশা করব, নতুন মেয়র এটি ধরে রাখতে সক্ষম হবেন। হকারদের ব্যাপারে কঠোর হওয়ার দরকার। তাহলেও এর সুফল মিলবে।’
আজকের সিলেট/এসটি
নিজস্ব প্রতিবেদক 








