মৌলভীবাজারে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চা কারখানার ট্রাফ হাউজে সময়মতো কাঁচা চা পাতা ওয়েদারিং বা প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাঁচা পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, এ কারণে জেলার প্রতিটি চা বাগানে দৈনিক ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে।
চা বাগান সংশ্লিষ্টরা জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বাকি প্রায় ৯ ঘণ্টা কারখানার কার্যক্রম সচল রাখতে জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
মৌলভীবাজারের ৯২টি চা বাগানে এখন চা উৎপাদনের ব্যস্ত মৌসুম চলছে। ঠিক এ সময়ে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেওয়ায় চা শিল্পে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে সময়মতো প্রক্রিয়াজাত করতে না পারায় চায়ের গুণগতমান কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাফ হাউজে কাঁচা চা পাতা জমে থাকছে। লোডশেডিংয়ের কারণে নির্ধারিত সময়ে এসব পাতা প্রক্রিয়াজাত করা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিনই হাজার হাজার কেজি পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং বাধ্য হয়ে তা ফেলে দিতে হচ্ছে।
চা বাগান সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত চা শিল্প বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। এতে মালিকপক্ষকে আর্থিক লোকসান গুনতে হতে পারে।
ইটা চা বাগানের কারখানা শ্রমিক আকাশ হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর বিকল্প ব্যবস্থায় কারখানা চালু করতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। এতে উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হয়। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় প্রক্রিয়াজাতকরণ বন্ধ থাকায় চা পাতার গুণগতমানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কমলগঞ্জ উপজেলার পাত্রখোলা চা বাগানের কারখানা শ্রমিক রামগোপাল গৌড় বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় কারখানার যন্ত্রপাতিতেও ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানা সচল রাখতে ১০০ থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল ব্যবহার করতে হচ্ছে।
একই চা বাগানের প্রধান কারখানা করণিক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকলে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এ সময় ট্রাফ হাউজে থাকা কাঁচা চা পাতার বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিদিন মৌলভীবাজারের বিভিন্ন বাগানে হাজার হাজার কেজি পাতা নষ্ট হচ্ছে, যেগুলো শেষ পর্যন্ত ফেলে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকছে না।
রাজনগর উপজেলার করিমপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক ইফতেখার আহমদ বলেন, সবুজ চা পাতা চা শিল্পের অত্যন্ত সংবেদনশীল কাঁচামাল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এগুলো ম্যানুফ্যাকচারিং পর্যায়ে নিতে না পারলে ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে যায়। লোডশেডিংয়ের কারণে একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে ও সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পাতার গুণগতমান ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
ন্যাশনাল টি কোম্পানির ডিজিএম মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে প্রতিদিনই চা বাগানগুলোকে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংকটে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চা পাতা নষ্ট হচ্ছে এবং প্রতিদিনই এ ক্ষতি অব্যাহত রয়েছে।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ দিতে গিয়ে সমস্যা হচ্ছে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই এ সংকটের সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 








