সিলামে মাজারের দানবাক্সের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৩০
শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:১৮ PM

সিলামে মাজারের দানবাক্সের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১/০৮/২০২৬ ০৪:৫০:০৫ PM

সিলামে মাজারের দানবাক্সের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৩০


মোগলাবাজার থানার সিলাম এলাকায় হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেট মাজার ও মসজিদের দানবাক্সের টাকা নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বেলা ১টার দিকে সিলাম এলাকার চকের বাজার হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) জামে মসজিদ ও ঈদগাহের সামনে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষের ঘটনায় মোগলাবাজার থানার ওসি মো. মনির হোসেনসহ সাত পুলিশ সদস্য এবং দুইপক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন, মধ্যে রয়েছেন শেখপাড়া গ্রামের প্রবীণ মুরব্বী ও হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়া, শুয়েব আহমদ, আরিফুল হক রনি ও লতিফুর রহমান মেহদি। তাৎক্ষণিকভাবে আহত অন্যদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেটকে কেন্দ্র করে সিলামের শেখপাড়া এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। শুক্রবার উভয় পক্ষের লোকজন মসজিদে নামাজ আদায় করতে এলে মসজিদের ক্যাশ বাক্সের টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে এ বিরোধ হাতাহাতিতে গড়ায়।

পরে উভয় পক্ষের লোকজন ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষের হামলা-পাল্টাহামলার মধ্যে ওসি মো. মনির হোসেনসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন। একই ঘটনায় দুই পক্ষের আরও ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন।

পরবর্তীতে মোগলাবাজার থানা পুলিশ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার মুরব্বিদের উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বর্তমানে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা চন্ডিপুল-বালাগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।

সূত্র জানায়, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং–১২৭৩৫) পরিচালনা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের সূত্রপাত আরও আগে। গত ২৯ জুলাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ওয়াকফ এস্টেটের প্রশাসকের একটি আদেশে মাজার ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনার জন্য নয় সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত কমিটিতে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহ-সভাপতি এবং মো. ফজলু মিয়াকে মোতাওয়াল্লী করা হয়। কমিটিতে আরও আবেদ রাজা ও আহমদুর রহমান ছাদেককে যুগ্ম মোতাওয়াল্লী এবং মোয়াজ্জেম হোসেন লনি, লুতফুর রহমান বাবু, আব্দুল মতিন শাহিন ও আব্দুস সামাদকে সদস্য করা হয়।

ওই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে শাহ আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে উচ্চ আদালতে রীট পিটিশন নং ১০৭৬৭/২৬ ইং দায়ের করেন। গত ১৬ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের বিজয়-৭১ ভবনের ৩ নম্বর আদালতে রিটটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মো. তাজরুল হোসাইনের আদালতে শুনানি শেষে বাংলাদেশ ওয়াকফ এস্টেট অনুমোদিত কমিটি বহাল রাখা হয়।

তবে অন্তর্বর্তীকালীনভাবে ওই কমিটির মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়ার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেট ও মসজিদের দায়িত্ব পালনের জন্য আবেদ রাজাকে মোতাওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর