বন্যার স্রোতে সেতু ভেঙে ৩০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ
রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৩ PM

বন্যার স্রোতে সেতু ভেঙে ৩০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩/০৮/২০২৬ ১১:০০:৫২ AM

বন্যার স্রোতে সেতু ভেঙে ৩০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ


মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের পালগ্রাম-মুকুন্দপুর সড়কে ফানাই নদীর ওপর নির্মিত পাকা সেতুটি বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন তিন ইউনিয়নের প্রায় ৩০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর স্থানীয়দের অর্থায়নে তৈরি বাঁশের সাঁকো দিয়ে কোনো রকমে নদী পার হচ্ছেন তারা। তবে পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বেড়ে গেলে সেই সাঁকোটিও পানির নিচে চলে যায়। এতে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে পালগ্রাম-মুকুন্দপুর সড়কের ফানাই নদীর ওপর পাকা সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্মাণের প্রায় পাঁচ বছর পর বন্যার পানির তীব্র স্রোতে সেতুটি ভেঙে নদীতে তলিয়ে যায়। এরপর থেকেই পালগ্রাম, বাগাজুরা, একিদত্তপুর, কবিরাজি, মিনারমহল, প্রতাবী, গুতগুতি, শংকরপুর, কালিটি চা বাগান, রাঙ্গিছড়া চা বাগান, গাজিপুর চা বাগান, বনগাঁও, লক্ষ্মীপুর, করেরগ্রাম, রুস্তমপুর, বাবনিয়া, হাসিমপুর ও বেরীসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ যোগাযোগ সংকটে রয়েছেন।

সেতুটি দিয়ে আশপাশের ছয়-সাতটি ঘনবসতিপূর্ণ গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতেন। লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজ, মাস্টার শরাফত আলী উচ্চ বিদ্যালয়, চৌধুরী বাজার আলিম মাদরাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যেতে তাদের ফানাই নদী পার হতে হয়।

পাকা সেতু ভেঙে যাওয়ার পর এলাকাবাসী নিজেদের অর্থে নদীর ওপর একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের পানি বাড়লে সেটিও ডুবে যায়। ফলে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে।

বর্তমানে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, বিয়ের গাড়ি কিংবা কৃষিপণ্য পরিবহনের যানবাহনও চলাচল করতে পারছে না। ধান-চাল, গরু-মহিষ, শাকসবজি ও অন্যান্য পণ্য বাজারে নেওয়ার ক্ষেত্রেও চরম সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয়রা। বাধ্য হয়ে সহজ ও স্বল্প দূরত্বের এই পথ বাদ দিয়ে তাদের অনেক দূরের বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থী মাহিনুর মিনহাজ, অলক মালাকার, মাদরাসাছাত্রী মাইশা জান্নাত, স্কুলছাত্রী স্বর্ণা মল্লিক, পলক, সানি ও রনজিত জানায়, বাঁশের সাঁকো পার হয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। সাঁকোটির অবস্থা নড়বড়ে হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীই নদী পার হয়ে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসায় যেতে ভয় পাচ্ছে।

নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য এম এ করিম, পশ্চিম মুকুন্দপুর জামে মসজিদের সাবেক সেক্রেটারি রাশিদ আলী, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ক্যাম্পের মসজিদের ইমাম সারওয়ার হোসেন রাজু, সংবাদকর্মী কেফায়েত হোসেন সুলমান, সুবল মালাকার ও গৃহবধূ সেলিনা বেগম বলেন, পালগ্রাম-মুকুন্দপুর সড়কের ফানাই নদীর সেতুটি নির্মাণের ১০ বছর পার হওয়ার আগেই বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে যায়। এরপর থেকে স্থায়ী সেতুর অভাবে এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার বলেন, তিনি সম্প্রতি কুলাউড়া উপজেলায় যোগদান করেছেন। তাই সেতুটির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত অবগত নন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর