যে শর্তে সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র
বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪১ AM

যে শর্তে সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬/০৮/২০২৬ ০৯:২০:০৮ AM

যে শর্তে সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র


সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তির প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তিটি কার্যকর করতে সৌদি আরবকে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে বলে শর্ত দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) এক মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, জুলাইয়ে চূড়ান্ত হওয়া চুক্তিটি সোমবার কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছে।

চুক্তির আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি রপ্তানি করতে পারবে। তবে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তার মতে, সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে চুক্তিটি এগোবে না।

মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ না দিলে চুক্তিটি কার্যকর হবে না—এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েকটি আরব ও মুসলিম-অধ্যুষিত দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি। ২০২০ ও ২০২১ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের এ ধরনের চুক্তি হয়।

সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্কের জটিলতা

ট্রাম্প প্রথম মেয়াদেও সৌদি আরবের সঙ্গে একই ধরনের পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে কাজ করেছিলেন। জুলাইয়ে বর্তমান চুক্তিতে সম্মত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি চুক্তি কার্যকরের সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি যুক্ত করেন।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং এর সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি যুক্ত করতে চেয়েছিলেন। ২০২৩ সালে কূটনীতিকদের ধারণা ছিল, সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে। তবে ওই বছরের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। সৌদি আরব এখন ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে ‘অপরিবর্তনীয় পথ’ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে।

৩০ বছরের চুক্তি

প্রস্তাবিত চুক্তিটির মেয়াদ ৩০ বছর। এর আওতায় সৌদি আরবে AP1000 মডেলের পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য মূল্য কয়েক হাজার কোটি ডলার। এতে মার্কিন কোম্পানি ওয়েস্টিংহাউস বড় ধরনের সুবিধা পেতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় কানাডাভিত্তিক ক্যামেকো ও ব্রুকফিল্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট রয়েছে।

কংগ্রেসের দুই সূত্র জানিয়েছে, চুক্তিটি এরই মধ্যে কংগ্রেসের নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং বুধবার সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠানোর কথা রয়েছে। চুক্তিটি কংগ্রেসের বিবেচনার জন্য ৯০টি অধিবেশন দিবস সময় পাবে। এ সময়ের মধ্যে কংগ্রেস আপত্তি না জানালে চুক্তিটি কার্যকর হবে। কংগ্রেস চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করলে ট্রাম্প সেই সিদ্ধান্তে ভেটো দিতে পারবেন। তবে সেই ভেটো অকার্যকর করতে কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে উদ্বেগ

চুক্তিটি নিয়ে কিছু ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তাদের মূল আপত্তি হলো, চুক্তিতে সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের ওপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই। এই দুই প্রক্রিয়া পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য পথ হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। এটিকে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের ক্ষেত্রে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন সৌদি চুক্তিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর