বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা তিন গতিময় বোলারের একজন তাসকিন আহমেদ। এক যুগের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন এই পেসার। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে গতি আর আগ্রাসন দিয়েই সবার নজরে এসেছিলেন। কখনো কখনো ইনজুরির কারণে গতিতে ধাক্কাও খেয়েছেন তাসকিন। সবশেষ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বল হাতে সন্তোষজনক পারফর্ম করলেও উদ্বেগের বিষয় ছিল তাসকিনের বলের গতি কমে যাওয়া। ডারউইনে প্রথম টেস্টে গতি মাপার যন্ত্রে তাসকিনকে কিছুটা অচেনাই মনে হয়েছে। ম্যাচের বেশিরভাগ বলে তার গতি ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩০ কিলোমিটারের আশপাশে, কখনো কখনো তা সর্বোচ্চ ১৩৫ কিলোমিটার ছুঁয়েছে।
অতীত ম্যাচের মানদণ্ডের তুলনায় এই গতি যে বেশ কম, তা স্পষ্ট বলা যায়। কারণ ক্যারিয়ারজুড়ে নিয়মিত ১৩৫ থেকে ১৪০ কিলোমিটারের ওপর বল করে থাকেন তাসকিন। সর্বোচ্চ ১৪৯.৬ কিলোমিটার গতিতেও বল করেছেন তাসকিন। সবশেষ দুই টেস্টে ১২৫ থেকে ১৩০ কিলোমিটারের মধ্যে আটকে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা হচ্ছে এই পেসারকে নিয়ে।
গতি কমে যাওয়ায় যে তাসকিন খারাপ বল করেছেন, বিষয়টি অবশ্য তেমন নয়। পাঁচ দিনের ক্রিকেটে লম্বা স্পেল, একই জায়গায় টানা বল করা, ব্যাটসম্যানের ধৈর্য পরীক্ষা করা এবং কখনো কখনো গতি কমিয়ে সুইং সিমকে কাজে লাগানোই টেস্টের মূল কাজ। ডারউইনে তাসকিন ঠিক সেই পরিপক্বতা দেখিয়েছেন, গতি কিছুটা কমলেও তার প্রভাব ও কার্যকারিতা দেখাতে ভুল করেননি।
তবে কেন তাসকিনের বলে গতি কমে গেল। বিসিবির মেডিকেল বিভাগ ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছে, কোনো ধরণের ইনজুরি প্রবণতা বা শঙ্কা তাসকিনের মধ্যে নেই। ফুল ফিট হয়েই তিনি দুই টেস্টে খেলেছেন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত অবশ্য জানালেন তাসকিনের গতি কমার বিষয়ে।
শান্ত বললেন, ‘আমার মনে হয় স্টিল সে অন অফ দ্য বেস্ট বোলার। নতুন বলে প্রতিদিনই ব্রেক-থ্রু দেয় টি-টোয়েন্টি ওয়ানডে কিংবা টেস্টে। এটাও বুঝতে হবে অনেক বছর ধরে ক্রিকেট খেলছে, অনেক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। নতুন বলের পরে পুরানো বলেও যেভাবে বল সুইং করায়। ব্যাটাসম্যানকে কিন্তু কঠিন সময়টাই দেয়।’
‘গতি অবশ্যই কমেছে, আলাদা কন্ডিশন অনেক সময় টেকনিক্যাল কোনো সমস্যা থাকতে পারে। আমি বিশ্বাস করি সে এখনো আমাদের সেরা বোলার। আমি খুব ভালোভাবে বিশ্বাস করি সে আবার ভালোভাবে কামব্যাক করবে।’
আজকের সিলেট/ জেকেএস
ক্রীড়া ডেস্ক 








