কোন বয়সে বিয়ে করা উচিত? গবেষণায় উঠে এলো বিশাল হিসাব-নিকাশ
রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩৩ PM

কোন বয়সে বিয়ে করা উচিত? গবেষণায় উঠে এলো বিশাল হিসাব-নিকাশ

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০/০৮/২০২৬ ০৯:২১:৩০ AM

কোন বয়সে বিয়ে করা উচিত? গবেষণায় উঠে এলো বিশাল হিসাব-নিকাশ


জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো বিয়ে। উপযুক্ত একজন সঙ্গী জীবনের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি সম্পর্ককে আরও সুন্দর ও স্থিতিশীল করে তুলতে পারেন। তবে প্রশ্ন হলো, বিয়ের জন্য আদর্শ বয়স আসলে কত? এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা মত রয়েছে। কারও মতে, কম বয়সে বিয়ে করলে সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় হয়, আবার অনেকে মনে করেন ব্যক্তিগত ও আর্থিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ার পরই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তবে গণিতভিত্তিক একটি তত্ত্বে বিয়ের সম্ভাব্য ‘আদর্শ বয়স’ নির্ধারণের একটি সূত্র তুলে ধরা হয়েছে।

টম গ্রিফিথস ও ব্রায়ান ক্রিশচিয়ান তাদের বই Algorithms to Live By: The Computer Science of Human Decisions (অ্যালগোরিদমস টু লিভ বাই: দ্য কম্পিউটার সায়েন্স অব হিউম্যান ডিসিশনস)-এ এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি গাণিতিক ধারণা ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের আলোচনায় ‘৩৭ শতাংশ নিয়ম’ ব্যবহার করে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটি পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে।

কীভাবে কাজ করে এই হিসাব?

ধরা যাক, কেউ ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে বিয়ে করার পরিকল্পনা করছেন। এই সময়সীমার প্রায় ৩৭ শতাংশ অতিক্রম করার পর একজন উপযুক্ত সঙ্গী পেলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধারণাটিই এই তত্ত্বের মূল কথা। সে হিসাবে বয়সটি দাঁড়ায় প্রায় ২৬ বছর।

অর্থাৎ, এই গাণিতিক মডেল অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সের কাছাকাছি সময়কে সম্ভাব্য সর্বোত্তম সিদ্ধান্তের সময় হিসেবে ধরা যায়।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ২৬ বছর বয়সেই বিয়ে করলেই প্রত্যেকের দাম্পত্য জীবন সফল হবে। এটি মূলত সীমিত বিকল্পের মধ্যে সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত বেছে নেওয়ার একটি গাণিতিক মডেল, যা বিয়ের মতো ব্যক্তিগত ও জটিল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সরাসরি চূড়ান্ত নিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

২৬ বছরের আগে কেন নয়?

৩৭ শতাংশ নিয়মের যুক্তি হলো—খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নিলে ভবিষ্যতে আরও ভালো বিকল্প সামনে আসার সম্ভাবনা থাকে। আবার অতিরিক্ত অপেক্ষা করলে পছন্দের সুযোগ কমে যেতে পারে। তবে মানুষের ব্যক্তিত্ব, পছন্দ-অপছন্দ ও জীবনযাপনের পরিকল্পনা বয়সের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে ২৬ বছর বয়সকে সবার জন্য নির্দিষ্ট ‘পারফেক্ট’ বয়স বলা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

আরেক গবেষণায় আদর্শ বয়স ২৮ থেকে ৩২

বিয়ের বয়স নিয়ে আরেকটি আলোচিত গবেষণায় ২৮ থেকে ৩২ বছর বয়সকে তুলনামূলকভাবে উপযুক্ত সময় হিসেবে দেখানো হয়েছিল। ২০১৫ সালে ইউটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী নিকোলাস এইচ. ওলফিঙ্গারের বিশ্লেষণে বিয়ের বয়স ও বিচ্ছেদের ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০-এর দশকের শেষভাগে বিয়ে করা ব্যক্তিদের বিচ্ছেদের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে ৩২ বছর বয়সের পর বিয়ের ক্ষেত্রে বিচ্ছেদের সম্ভাবনা বয়স বাড়ার সঙ্গে বাড়তে পারে এমন একটি সম্পর্কও বিশ্লেষণে উঠে আসে।

তাহলে বিয়ের আদর্শ বয়স কত?

গবেষণা ও গাণিতিক মডেল থেকে নির্দিষ্ট একটি বয়স পাওয়া গেলেও বাস্তবে বিয়ের জন্য সবার ক্ষেত্রে একই বয়স প্রযোজ্য নয়। ব্যক্তির মানসিক পরিপক্বতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া, আর্থিক স্থিতিশীলতা, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং নিজের ইচ্ছা সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।

তাই ২৬, ২৮ কিংবা ৩২—কোনো একটি বয়সকে সবার জন্য ‘পারফেক্ট’ বলা যায় না। বরং নিজের ও সঙ্গীর মানসিক প্রস্তুতি এবং সম্পর্কের স্থিতিশীলতাই বিয়ের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর