ধনুকান্দি মাদরাসায় রোটারি ক্লাব অব জালালাবাদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৬ PM

ধনুকান্দি মাদরাসায় রোটারি ক্লাব অব জালালাবাদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭/০৯/২০২৬ ০৪:১৭:২২ PM

ধনুকান্দি মাদরাসায় রোটারি ক্লাব অব জালালাবাদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি


সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়তে শুধু গাছ লাগানো নয়, রোপণ করা গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে সিলেটের ধনুকান্দি মাদরাসায় আয়োজিত এক কর্মসূচিতে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার মাদরাসা প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে রোটারি ক্লাব অব জালালাবাদ।

কর্মসূচির পাশাপাশি অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি এবং লাগানো গাছের নিয়মিত পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

রোটারি ক্লাব অব জালালাবাদের পরিবেশ সংরক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যান রোটারিয়ান শাহ আশিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পিডিজি কর্নেল (অব.) এম আতাউর রহমান পীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন ধনুকান্দি মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা নিজাম উদ্দীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিডিজি কর্নেল (অব.) এম আতাউর রহমান পীর বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন কর্মসূচির লক্ষ্যও দেশের পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নকে এগিয়ে নেওয়া। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, একটি গাছ লাগানোর মধ্যেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। চারা রোপণের পর সেটির নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত দায়িত্বের অংশ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পরিবেশ সচেতনতা তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে গাছ তুলে দেওয়ার পাশাপাশি এর পরিচর্যার দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তাদের প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। সামাজিক সংগঠন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণ একসঙ্গে কাজ করলে বৃক্ষরোপণ একটি টেকসই সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে রোটারিয়ান শাহ আশিকুর রহমান বলেন, মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে রোটারি ক্লাব অব জালালাবাদ। বৃক্ষরোপণকে তিনি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর সুফল বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মও ভোগ করবে।

তিনি বলেন, কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুধু চারা রোপণ করাই যথেষ্ট নয়; রোপণ করা গাছগুলোকে বাঁচিয়ে তোলাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। এ জন্য মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা নিজাম উদ্দীন বলেন, পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করে তোলা জরুরি। মাদরাসা প্রাঙ্গণে গাছের সংখ্যা বাড়লে শিক্ষার্থীদের জন্য সুন্দর, ছায়াময় ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হবে। রোটারি ক্লাব অব জালালাবাদের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রোটারিয়ান সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করা রোটারির অন্যতম লক্ষ্য। পরিবেশ সংরক্ষণও মানবকল্যাণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

আলোচনা সভা শেষে মাদরাসা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। কর্মসূচিতে রোটারি ক্লাব অব জালালাবাদের সদস্য, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

আয়োজকেরা বলেন, একটি চারা আজ ছোট হলেও যথাযথ পরিচর্যায় ভবিষ্যতে তা ছায়া, সৌন্দর্য ও জীবনের আশ্রয় হয়ে উঠতে পারে। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি পরিচর্যা ও সংরক্ষণের অঙ্গীকারকে সবুজ ভবিষ্যৎ নির্মাণের কার্যকর সূচনা হিসেবে দেখছেন তারা।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর