প্রতিদিনের যানজট, ফুটপাত দখল আর অপরিকল্পিত যান চলাচলে বিপর্যস্ত সিলেট নগরীর আম্বরখানা। নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এই এলাকায় মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দীর্ঘদিন ধরেই নানা উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে। এবার সাময়িক ব্যবস্থা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে আম্বরখানার চিত্র বদলে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। এলাকাটিকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও চলাচলবান্ধব করে গড়ে তুলতে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে সংস্থাটি।
এ লক্ষ্যে রোববার সকালে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে সুধীজন, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আম্বরখানার যানজট নিরসনে সম্ভাব্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, সিলেটকে আধুনিক, আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিউক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আম্বরখানা পয়েন্ট নগরীর যোগাযোগব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই এ এলাকার যানজট নিরসনে টেকসই ও আধুনিক প্রকল্প গ্রহণের লক্ষ্যে স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ, ট্রাফিক বিভাগ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সুনির্দিষ্ট মতামত ও প্রস্তাবনার ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, পরিকল্পনাটি সফলভাবে বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্মিত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আদলে সিলেট নগরীতে কোনো প্রকল্প নেওয়া যায় কি না। সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক (সিনিয়র সহকারী সচিব ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট) মো. সাদিউর রহিম জাদিদ বলেন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে এ ধরনের বড় প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাবনা বিবেচনা করা যেতে পারে। এ জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রস্তাব দেন তিনি।
যানজট কমাতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত কিছু প্রস্তাবও উঠে আসে সভায়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডি এলজি) মাহমুদা সুলতানা ঢাকার আদলে সিলেট নগরীর মার্কেটগুলোর সাপ্তাহিক ছুটির দিন সমন্বয়ের প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, একদিন একটি মার্কেট এবং পরদিন অন্য একটি মার্কেট বন্ধ রাখার ব্যবস্থা চালু করা গেলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখার পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) গৌতম দেব। তিনি বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস ও রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এসব যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট চলাচল এলাকা ও নিয়মনীতি কার্যকর করা প্রয়োজন। পরিকল্পিতভাবে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা গেলে নগরীর যানজট অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এ জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
সভায় জানানো হয়, আম্বরখানার যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, ট্রাফিক বিভাগ, ব্যবসায়ী ও পরিবহন সমিতি, মসজিদ কমিটি এবং এলাকার অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হবে। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
মাস্টারপ্ল্যান তৈরির জন্য স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ জেরিনা হোসাইনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে আম্বরখানা এলাকা পরিদর্শন করবেন। এ সময় যানবাহনের চাপ, সড়কের ব্যবহার, বিদ্যমান অবকাঠামো এবং বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৩-এর আলোকে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সভায়।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









