সিলেটের গোয়াইনঘাটে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে পাকতে শুরু করেছে আগাম জাতের আমন ধান। সবুজ ধানগাছে সোনালি শীষের আভা ছড়িয়ে পড়ায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর আমনের ভালো ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে কৃষকেরা ব্রি ধান-৭১, ব্রি ধান-৭৫, ব্রি ধান-৫৬, বিনা ধান-৭ ও বিনা ধান-১৭-সহ বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি আধুনিক জাতের ধান চাষ করেছেন। সাধারণ আমন ধানের তুলনায় এসব জাত প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন আগে পাকে। ফলে আগেভাগেই ফসল ঘরে তোলার সুযোগ পাচ্ছেন কৃষকেরা।
উপজেলার রুস্তমপুর, লেঙ্গুড়া, তোয়াকুল ও নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ধানগাছে সোনালি রং ধরতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও কৃষকেরা ধান কাটা শুরু করেছেন। পাশাপাশি জমির আইল পরিষ্কারসহ ফসল কাটার প্রস্তুতিও চলছে।
নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের কৃষক রুহুল আমিন বলেন, “গত বছরও আগাম ধানের ভালো ফলন পেয়েছিলাম। এবারও ধানের শীষ খুব পুষ্ট হয়েছে। ধান কাটা শুরু করেছি। এই ধান দ্রুত ঘরে তুলে আমরা ওই জমিতেই সরিষা বুনার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, আগাম জাতের ধান চাষে একাধিক সুবিধা পাওয়া যায়। আশ্বিন-কার্তিক মাসে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা কমে, কারণ এ সময়ই নতুন ধান ঘরে তোলা সম্ভব হয়। আবার ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে সেখানে সরিষা, আলু কিংবা শীতকালীন সবজি চাষ করা যায়। এতে একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল ফলিয়ে বাড়তি আয় করার সুযোগ তৈরি হয়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর অনুকূল আবহাওয়া এবং বড় ধরনের বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় আমনের ফলন ভালো হয়েছে। রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম থাকা এবং সময়মতো সার ও সেচ ব্যবস্থাপনার কারণে ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির প্রসার ও কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে গোয়াইনঘাটে স্বল্পমেয়াদি ধানের আবাদ বাড়ছে। এতে শস্য নিবিড়তা বাড়ার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় কিংবা অকালবন্যার আগেই ফসল ঘরে তোলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট থেকে 








