ফেঞ্চুগঞ্জে সার কারখানায় প্রকাশ্যে দরপত্রের বাক্স ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর জমা হওয়া সবকটি দরপত্র বাতিল করেছে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড।
বৃহস্পতিবার সকল দরপত্র বাতিল করা হয়। এর আগে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সার কারখানার প্রশাসনিক ভবনে দরপত্রের বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও তাঁতী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে।
শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ধরনের স্ক্যাপ মালামাল (যেখানে যে অবস্থায় আছে) বিক্রি করার জন্য একটি দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওপেন টেন্ডারিং মেথডের (ওটিএম) মাধ্যমে দরপত্র বিক্রির শেষ তারিখ ছিল ১৬ জানুয়ারি। জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা আর বিকেল ৩টায় সার কারখানার বিভাগীয় প্রধান (বাণিজ্যিক) কার্যালয়ে দরপত্র খোলার কথা ছিল।
অভিযোগ উঠেছে, দরপত্রে অংশ নেওয়া মেসার্স হাজী আব্দুল করিম অ্যান্ড সন্স নামের প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আবদুল ওয়েস স্বপন দরপত্র জমা দেওয়ার পরপরই ফেঞ্চুগঞ্জ যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাঁতী লীগের নেতারা দরপত্রের বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে যান। তারা বাক্স ভেঙে দরপত্রগুলো ছিনিয়ে নেন। তবে দরপত্রের বাক্সে কতটি দরপত্র ছিল তা জানায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্বপনের দাবি, তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়, পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
এঘটনার পর বিকেল ৩টার দিকে ফেঞ্চুগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন আবদুল ওয়েস স্বপনসহ কয়েকজন ঠিকাদার।
সংবাদ সম্মেলনে স্বপন বলেন, শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের ইউরিয়া ফরমাল ভি হাইডের খালি প্লাস্টিকের ড্রাম বিক্রির দরপত্র আহ্বান করা হয়। এক হাজার ৬৫ টাকা ড্রামপ্রতি দর ধরে আমি দরপত্র জমা দিই। তবে জমা দেওয়ার পরপরই ফেঞ্চুগঞ্জের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা এসে টেন্ডার বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে আমাকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এসময় যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রাণনাশের হুমকি দেন। দুই ঘণ্টা পর পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে।
শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, দরপত্র জমা নিয়ে বিশৃঙ্খলা হয়েছে। এ ঘটনার পর জমা হওয়া সব দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
আজকের সিলেট/জেএন/ডি/এসটি
নিউজ ডেস্ক 








