শিম আমাদের দেশে শীতকালীন জনপ্রিয় একটি সবজীর অন্যতম। শিম একটি প্রোটিন ও শ্বেতসার জাতীয় খাবার। এই শিমে সিলিকন জাতীয় উপাদান থাকায় শরীলের হাড়কে সুগঠিত করে। তাছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সব সবজীর মধ্য শিম বিশেষ উপকারী।
জনপ্রিয় এই সবজী তরকারী কিংবা বীচি আলাদা করে বিভিন্ন প্রকারের রেসিপি তৈরী করে খাওয়া হয়ে থাকে। সাধারণত শীতমৌসুমে টমেটো, নতুন আলু,ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুনের পাশাপাশি শিম জাতীয় সবজী বাঙালির নিকট অত্যাধিক জনপ্রিয়।
লাভজনক এই সবজীটি চাষ করে চলতি মৌসুমে জৈন্তাপুর উপজেলার কৃষকদের মুখে হাঁসি ফুটেছে। সাধারণত শিম জাতীয় এ ফসলটি জৈন্তাপুর উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে বরবটির সাথি ফসল হিসেবে একই জমিতে একই খরচে চাষ করা হয়ে থেকে। তাই দুই মাস পূর্বে বরবটি তুলে বিক্রি করা হয়ে গেলে বানিজ্যিক ভাবে শিম বিক্রি করে বাড়তি লাভের মুখ দেখছেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষককেরা।
জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ পরিসরে ৪ শত ৩০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ করা হয়েছে।
এ মৌসুমে উপজেলায় আবাদকৃত শিমগুলোর মধ্যে লোকাল প্রজাতি, কার্তিকা, লালউরি ও গোয়ালগাদ্দা জাতের শিম অন্যতম। সাধারণত তুলনামুলক উঁচু ও সমতল বন্যমুক্ত এলাকা শিম চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী।
এ মৌসুমে উপজেলার সবচেয়ে বেশী যে অঞ্চলে শিম চাষ করা হয়েছে তার মধ্য অন্যতম এলাকা হলো নিজপাট ও চারিকাঠা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামপাখিবিল, বাইরাখেল, রুপচেং, হর্ণি, কালিন্জিবাড়ী, কামরাঙ্গি, বাউরভাগ উত্তর ও পূর্ব, নয়াখেল পূর্ব বালিদারা এসব এলাকায়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৫ শত ২০ জন কৃষক শিম চাষ করেছেন। তার মধ্যে ৩০ জনকে প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে। এ মৌসুমে উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ হাজার ১শত ৬০ মেট্রিকটন শিম। যার পাইকারি বর্তমান বাজারমূল্য ১২ কোটি ৯৫ লাখ টাকার মত।
এ মৌসুমে বানিজ্যিক ভাবে শিম চাষি উপজেলার রুপচেং এলাকার কৃষক জয়নাল আবেদীন জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৪ বিঘা জমিতে শিম ও বরবটির একত্রে চাষ করেছেন। কোন প্রকার শ্রমিক খরচ বাদে নিজে শ্রমদিয়ে তার আনুষাঙ্গিক উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় এক লক্ষ টাকার মত। গত নভেম্বরে তিনি সাড়ে তিন লক্ষ টাকার বরবটি বিক্রি করেন এবং বর্তমানে শিম বাজারজাত করছেন। তিনি আশাবাদী জানুয়ারির শেষে তিন লক্ষ টাকার শিম বিক্রি করতে সক্ষম হবেন।
উপজেলার চারিকাঠা ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত নয়াখেল পূর্ব বালিদাড়া গ্রামের কৃষক ফয়েজ আহমেদ জানান চলতি রবি মৌসুমে আলু, করোলা, লাউ, শালশাকের পাশাপাশি ৪০ শতক জমিতে যৌথভাবে বরবটি ও শিমের চাষ করেন। এতে তার শ্রমিক মজুরী ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ৪০ টাকা ব্যায় হয়েছে। এই ৪০ শতক জমি হতে চলতি মৌসুমে তিনি এক লক্ষ টাকার বরবটি বিক্রি করেছেন এবং জানুয়ারি শেষে আরো এক লক্ষ টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী।
এ সময় তিনি শীতকালীন সবজী চাষে চারিকাঠা নয়াখেল এলাকায় একটি সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেন, শুকনো মৌসুমে পানির সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যায় কিছুটা বৃদ্ধি পায় তাদের। তাই সরকারি অর্থায়নে নয়াখেল পূর্ব এলাকার পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া ইটাখালে স্লুইসগেট বা ড্যাম স্হাপন করে পানি আটকানো গেলে প্রায় স্হানীয় ৩০০ কৃষক উপকারের পাশাপাশি লাভবান হতো।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমা আক্তার বলেন চলতি মৌসুমে জৈন্তাপুর উপজেলায় লাভ জনক রবিফসল বরবটি, নাগামরিচ, টমেটো,সরিষার সাথে শিম চাষ করে কৃষকের লাভের মুখ দেখছেন। তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষক পর্যায়ে বীজ, চারা, সার, কীটনাশক প্রনোদনার আওতায় বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিশেষ তদারকি ও পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি কৃষকদের নিয়ে নিয়মিত মাঠ দিবস পালন করা হয়।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি 








