'স্বৈরাচারের দোসররা সিলেট শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে'
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ১০:৩৩ AM

সিলেটে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

'স্বৈরাচারের দোসররা সিলেট শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে'

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬/০৮/২০২৪ ০৭:১৬:২৬ AM

'স্বৈরাচারের দোসররা সিলেট শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে'

ছবি: মো সোহেল মিয়া


'৫ আগস্টের জনতার বিজয় উৎসবে স্বৈরাচার সরকারের দোসররা অত্যন্ত সুকৌশলে সিলেট শহরে বিচ্ছিন্নভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে। তাদের সাথে বিএনপি কিংবা ছাত্র-জনতার কোনো সম্পর্ক নেই। বিষয়টি উপলব্ধি করার পর-পরই সিলেট বিএনপির পক্ষ থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী ও ড. এনামুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে শহরজুড়ে মাইকিং করা হয়েছে এবং কোথাও কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তাদেরকে সাথে সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো তৃতীয় পক্ষ যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সেজন্য প্রতিটি পাড়ায় প্রতিরোধ কমিটি গঠন করার জন্য আহবান জানিয়েছে বিএনপি। '

মঙ্গলবার বিকালে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী উপরোক্ত আহবান জানান।

তিনি বক্তব্যর শুরুতে বলেন, '১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে প্রথমবারের মতো স্বাধীনতা অর্জনের পর গত কাল ৫ আগস্ট দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার রেজিমের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৫ বছর বিএনপির নেতৃবৃন্দ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘ সংগ্রম ও টানা ৩৬ দিন দেশের ছাত্রজনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর আমরা দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীনতা অর্জন করেছি।

দীর্ঘ এই ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাবস্থায় শুধু যে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতনের স্ট্রীমরোলার চালানো হয়েছিল তাই নায়, আপনার সাংবাদিকরাও স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলেছিলেন। অসংখ্য গণমাধ্যমকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের নামে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমর স্বাধীনতাকেও হরন করা হয়েছে। সারাদেশের ন্যায় সিলেটর সাংবাদিকরাও এই কালো আইনে হয়রানীর শিকার হয়েছেন। সর্বোপরি দেশের গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ভোটাধিকারকে কেড়ে নেয়া হয়েছিল। গতকাল ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে খুনি শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার ফলে এই জালিম সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের অবসান হলো।'

তিনি আরো বলেন, 'সর্বোপরি এই বিজয় কারো একার নয়, এই বিজয় গণতন্ত্রের, এই বিজয় বাকস্বাধীনতার, এই বিজয়া ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ায়, এই বিজয় মুক্তিকামী ছাত্রজনতার, এই বিজয় ১৮ কোটি নিপীড়িত বাংলাদেশীর। সবাইকে বিজয়ের শুভেচ্ছা।'


সংবাদ সম্মেলনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদি, আরিফুলল হক চৌধুরী, ড. এনামুল হক চৌধুরী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামিম ও আব্দুর রাজ্জাক, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অধ্যাপক সামিয়া বেগম চৌধুরী, মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিফতাহ সিদ্দীকি, জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এমরান আহমদ চৌধুরী, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ আহমদ চৌধুরী ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল গফফার।

উল্লেখ্য যে, সিলেটের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, রাজনৈতিক নেতাদের বাসা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মাঠে নেমেছিলো সিলেট বিএনপির নেতারা। তাঁরা একটি পিকআপে চড়ে মাইকযোগে প্রচার করছেন, ‘বাড়িঘর, অফিস-আদালত, দোকানপাটে হামলাকারী দুর্বৃত্তদের প্রতিহত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বা তাঁদের উপাসনালয় রক্ষা করাও একজন সচেতন নাগরিকের কর্তব্য।’

মঙ্গলবার দুপুর ১ টায় পর থেকে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নগরে এ প্রচারণা বের করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর সিলেটের পুলিশ সুপারের কার্যালয়, একাধিক পুলিশ ফাঁড়িসহ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, প্রতিমন্ত্রী-এমপি-মেয়রের বাসভবন, আওয়ামী লীগের নেতা, সিটি করপোরেশনের একাধিক কাউন্সিলরের বাসা-কার্যালয় এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ব্যবসায়ীদের দোকান-প্রতিষ্ঠানে একের পর এক হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপরই বিএনপি নেতারা পিকআপযোগে মাইকিংয়ে নামেন।

বিএনপি নেতাদের বহনকারী পিকআপটি নগরের বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার ও চৌহাট্টা এলাকা ঘুরে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গিয়ে, এমনকি মসজিদের মাইকে এমন প্রচারণা দেশজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

আজকের সিলেট/মিমো

সিলেটজুড়ে


মহানগর