ছাতকে অনুমোদন হয়নি দু'টি পিআইসির, কৃষকদের মাঝে অসন্তোষ
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০১:২৭ PM

ছাতকে অনুমোদন হয়নি দু'টি পিআইসির, কৃষকদের মাঝে অসন্তোষ

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২/০১/২০২৪ ০১:১২:৫৭ AM

ছাতকে অনুমোদন হয়নি দু'টি পিআইসির, কৃষকদের মাঝে অসন্তোষ


সুনামগঞ্জের ছাতকে চলতি বছরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বিভিন্ন হাওরে বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ ভাঙ্গন বন্ধ করন ও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও দুইটি পিআইসি’র কমিটির অনুমোদন হয়নি। উত্তর খুরমা ইউনিয়নের বৈঠাখালের মুখ বন্ধ করণ ও সিংচাপইড় ইউনিয়নের চাউলীর হাওরের খালের মুখ বন্ধ করণ ও ক্লোজারের কাজের পিআইসি কমিটি এখন পর্যন্ত চুড়ান্ত অনুমোদন না হওয়ায় কৃষকরা অসন্তোষ। বাঁধ নির্মাণের নামে কৃষকের ফসল রক্ষায় চলছে অবহেলা।

জানা যায়, চলতি ২০২৩-২৪ইং অর্থ বছরে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩২টি প্রকল্পের অধীনে নোয়ারাই, জাউয়াবাজার, চরমহল্লা, দক্ষিণ খুরমা, উত্তর খুরমা ও সিংচাপইড় ইউনিয়নে প্রায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী নভেম্বর মাসের মধ্যে প্রকল্প নির্ধারণ ও পিআইসি গঠনের কাজ শেষ করে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাওরের বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, পিআইসি গঠনে এলাকার রাজনৈতিক নেতারা হস্তক্ষেপের কারনে পিআইসি গঠনে কাজ পিছিয়েছে। এ পর্যন্ত ৩২টি পিআইসি প্রকল্পের কমিটির মধ্যে ৩০টি পিআইসি কমিটির কাজ চলমান রয়েছে।

উত্তর খুরমা ইউনিয়নের বৈঠাখালের মুখ বন্ধ করণ ও সিংচাইড় ইউনিয়নের চাউলীর হাওরের খালের মুল বন্ধ করণ ও ক্লোজারের কাজের পিআইসি কমিটি এখন পর্যন্ত চুড়ান্ত অনুমোদন হয়নি। তবে আগামী দু’একদিনের মধ্যে ওই দুটি পিআইসি’র চুড়ান্ত অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে পাউবো কর্তৃপক্ষ। ৫নং পিআইসির সভাপতি আল মামুন শাহীন ও সদস্য সচিব মুরাদ হোসেন বলেন, কমিটি গঠন শেষে কার্যাদেশ পাওয়ার পর কাজ চলছে।

এখন আমাদের ডেকার হাওরের মাছুখাল ক্লোজার এলাকায় মাটি ভরাট কাজ চলমান রয়েছে। ৭নং পিআইসির সভাপতি আলাল উদ্দিন ও সদস্য সচিব নুর মিয়া বলেন, ডেকার হাওরের কচুরবাড়ির ব্রীজের মুখে আমার প্রকল্পের কাজ চলছে। পাউবো কর্তৃপক্ষ নিয়মিতই তদারকি করছেন।

উপজেলার ‘হাওর বাঁচাও আন্দেলন’ কমিটির নেতৃবৃন্দ বলছেন, হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়ে এলাকার হাওর পাড়ের কৃষকরা সব-সময়ই দুঃচিন্তায় থাকেন। যথা সময়ে বাঁধের কাজ শেষ করতে না পারলে কষ্টের বোরো ফসল ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। পাহাড়ি ঢলের পানি আসার পূর্বেই ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করা জরুরি।

ছাতক উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয়ে কর্মকর্তা ও কাবিকা কমিটির সদস্য সচিব এমদাদুল হক বলেন, ৩০টি পিআইসি’র বর্তমানে কাজ চলমান রয়েছে। উত্তর খুরমা ও সিংচাপইড় ইউনিয়নের পিআইসি কমিটি আজকালের মধ্যেই চুড়ান্ত অনুমোদন হওয়ার কথা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কাবিকা কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মুন্না বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারনে কাজের গতি কম ছিলো। এখন পিআইসি কমিটি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ গুলোর কাজ দ্রুত গতিতেই চলছে। উপজেলা কাবিটা স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটির পক্ষ থেকে নিয়মিত কাজ মনিটরিং করা হচ্ছে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর