এখনো পর্যন্ত প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা না দিলেও পেশাদার সংগঠক ইমরুল হাসান বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নতুন সভাপতি হচ্ছেন, তা নিয়ে আলোচনা বেড়েছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে খেয়ালি ও বিতর্কিত সংগঠক তরফদার রুহুল আমিন ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী আব্দুল আওয়াল মিন্টু তনয় তাবিথ আওয়াল প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন।
এদিকে ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র জনতা ইতোমধ্যে তরফদার রুহুল আমিনকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে। ফলশ্রুতিতে আসন্ন বাফুফে নির্বাচনে দেশের ক্লাব ফুটবলে সাফল্যের বিচারে আধিপত্য বিস্তার করা বসুন্ধরা কিংস সভাপতি ইমরুল হাসান ও তাবিথ আওয়ালের মধ্যে লড়াই হতে যাচ্ছে বলে ক্রীড়ামহলে গুঞ্জন উঠেছে।
সূত্রমতে, কেউ কেউ দাবি করছেন, কাউন্সিলরদের সংখ্যা এবার হবে মোট ১৪৩ জন। অভিযোগ উঠেছে, সারা দেশে পছন্দমতো ব্যক্তিকে বিভিন্ন সংস্থার কাউন্সিলর করে আনার জন্য জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। একটি প্রভাবশালী পক্ষ সেই কাজটি করছে। বাফুফে কার্যালয়ে তেমন চিত্রই দেখা গেছে। যারা মূলত এই মুহূর্তে বাফুফের দাফতরিক কাজগুলো করছেন, তারাই এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন বাফুফে কার্যালয়ে আসা সংগঠকরা, যাদের অনেকেই কাউন্সিলর, কিংবা কাউন্সিলর হতে চান। এই ইস্যুতে ২৯ সেপ্টেম্বর বাফুফে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আগত অভিলাষী কাউন্সিলরদের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
উল্লেখ্য, আগামী ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাচন। ১৪৩ জন কাউন্সিলরের ভোটেই বাফুফে কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হবে।
লক্ষ্যণীয় দিক হলো, কাউন্সিলর হিসাবে দেশের অধিকাংশ পর্যায়ে তখনকার সময়ের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের লোকজন ছিলেন। এখন অনেক কাউন্সিলরই পালিয়ে আছেন। যার কারণে একটি পক্ষ সেই সুযোগ নিতে চাচ্ছে। নতুন নতুন কাউন্সিলরের নাম বাড়ছে। হাতে হাতেও কৌশলে দেওয়া হচ্ছে বাফুফে কর্তৃক চূড়ান্ত হওয়া কতিপয় কাউন্সিলরের তালিকা।
বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখেও আশাহত। এক সময় আবাহনী ও মোহামেডানের ফুটবল যুদ্ধ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লেও প্রচলিত আছে যে, বাফুফে সঠিকভাবে দেশের ফুটবলকে পরিচালনা করতে পারেনি। দক্ষ, পেশাদার ও সৎ নেতৃত্বের অভাবে বাংলাদেশ সাফ ফুটবলে ধারাবাহিক সাফল্য পায়নি।
প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় গেল অর্ধযুগে এশিয়ান ক্লাব চ্যাম্পিয়নশীপে বারংবার করে অংশ নিয়ে বসুন্ধরা কিংস নিজেদের নামটি এশিয়ার উঁচু স্তরে নিয়ে যেতে পেরেছে। এমন কি সর্বকালের সেরা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আল নাসেরের সাথেও এক দুই বছরে সাক্ষাৎ তথা প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বসুন্ধরা কিংসের। সেই ক্লাবটির অদম্য সত্তা ও নেতা ইমরুল হাসান বাফুফের সভাপতি হলে মন্দ হয় না, তেমন মত রাখছেন বর্তমান ও সাবেক জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা। যদিও তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে। কারণ তাদের কেউ কেউ আসন্ন নির্বাচনের কাউন্সিলরও।
সার্বিক প্রেক্ষাপটের আদ্যপান্ত জানান দিচ্ছে, তরফদার রুহুল আমিন নির্বাচন থেকে পুনরায় সরে যেতে বাধ্য হবেন। তাবিথ আওয়াল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করবেন। কিন্তু তিনি কি ইমরুল হাসানের মত পেশাদার সংগঠককে হারাতে পারবেন?
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
ক্রীড়া ডেস্ক 








