সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি বাতিল করে কেন প্রশাসক নিয়োগ করা হবেনা এর কারণ দর্শানোর নিদের্শ দিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠনের মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব মোঃ আব্দুর রহিম খানের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অমিত দেব নাথ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে সিলেট চেম্বারের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি বাতিল করে কেন প্রশাসক নিয়োগ করা হবেনা এ বিষয়ে আগামী ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়-উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির ‘ব্যবসা, শিল্প, বাণিজ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবাখাত’ সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছেনা মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় ৮ জন স্বাক্ষরিত আবেদনকারী প্রশাসক নিয়োগের আবেদন করেছেন।
এমতাবস্থায়, সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির ‘ব্যবসা, শিল্প, বাণিজ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবাখাত’ সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছেনা প্রতীয়মান হওয়ায় বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি বাতিল করে বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০২২ এর ১৭ ধারা মোতাবেক কেন প্রশাসক নিয়োগ করা হবেনা এই বিষয়ে আগামী ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হলো।
বিষয়টির প্রতিলিপি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের সদর দপ্তরের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তরের একান্ত সচিব ও সিলেট জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বিগত সরকারের আমলে গঠিত সিলেট চেম্বারের পকেট কমিটি বাতিলের দাবীতে আন্দোলন করে আসছেন সিলেটের ব্যবসায়ীগণ। তারা টানা আড়াই মাস ধরে মানববন্ধনের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আসছেন। ইতোমধ্যে পরিচালক পদ থেকে সাবেক সহ-সভাপতিসহ ৮ জন সদস্য পদত্যাগ করেছেন।
সিলেট চেম্বারের অনির্বাচিত, বিতর্কিত ও অবৈধ কমিটি বাতিল এবং সকল পরিচালকের পদত্যাগ দাবী করে সিলেটের ব্যবসায়ীরা বলেন, দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি সিলেটের ব্যবসায়ীদের একটি বৃহত্তম সংগঠন এবং ব্যবসায়ীদের আশা ও ভারসা একটি কেন্দ্রস্থল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে সিলেট চেম্বারের কিছু সদস্যবৃন্দের স্বজনপ্রীতি, বিধি-বিধান লংঘন ও বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য আজ ব্যবসায়ীদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্ধ ও দূরত্বের সৃষ্টি হচ্ছে।
২০২৪-২০২৫ সালে চেম্বার নেতৃবৃন্দ সদস্যদের ভোটাধিকার হরণ করে তাদের পছন্দ মাফিক কমিটি গঠন করেন। সিলেট চেম্বারের ভোটাররা তাদের পছন্দের সদস্য নির্বাচন করতে পারেননি। দীর্ঘদিন ধরে সিলেট চেম্বারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কৌশলে অবৈধ ভোটার তৈরী করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছেন। ২০২৪-২৫ সালে বিনা ভোটে গঠিত কমিটি পকেট কমিটির মতো পরিচালিত হচ্ছে।
এ অবস্থায় সিলেটের সর্বস্তরের ব্যবসায়ীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দুঃসময়ে তারা কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না। এরই প্রেক্ষিতে সিলেটের ব্যবসায়ী সংগঠন ও সিলেট চেম্বারের বঞ্চিত সদস্যরা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে অবৈধ কমিটি বাতিল ও একটি সুষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে সিলেট চেম্বারের কমিটি গঠন করার দাবি জানিয়ে আবেদন করেছেন। তারা তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্র তৈরীতে সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
নিউজ ডেস্ক 








