সীমান্ত সামলাতে চতুর্মুখী আলোচনায় সরকার
মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৯:২৮

সীমান্ত সামলাতে চতুর্মুখী আলোচনায় সরকার

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯/০২/২০২৪ ১০:৫৮:৪৭

সীমান্ত সামলাতে চতুর্মুখী আলোচনায় সরকার


প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের আঁচ পড়েছে বাংলাদেশেও। জান্তা সরকার ও বিদ্রোহীদের তুমুল লড়াইয়ের মধ্যে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। গোলা এসে পড়ছে দেশের ভেতরে। যাতে ইতোমধ্যে প্রাণ গেছে দুজনের। ঘড়ছাড়া হয়েছে অসংখ্য পরিবার। অন্যদিকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছেন দেশটির সশস্ত্র সেনা সদস্যসহ সরকারি কর্মকর্তারা। ফলে আগে থেকেই ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশ এখন নতুন আঞ্চলিক সমস্যার মুখোমুখী। যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। তবে এখানেই থেমে নেই, উত্তেজনাকর এ পরিস্থিতি নিয়ে চতুর্মুখী আলোচনা চালাচ্ছে সরকার। জোরদার করেছে কূটনৈতিক তৎপরতা। মিয়ানমার সরকারের পাশাপাশি আলোচনা চালাচ্ছে ভারত ও চীনের সঙ্গেও। আর কোনো শরণার্থী গ্রহণ করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সরকার।

নতুন করে আশ্রয় নেওয়াদের কীভাবে ফেরত পাঠানো হবে, আন্তর্জাতিক নিয়ম নীতি কী বলছে ও বিদ্রোহীরা ক্ষমতার দখল নিলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কীভাবে হবে তা এখন বড় ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাত চলছে সামরিক সরকার ও এর বিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহী গ্রুপের মধ্যে। দেশটির সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপন্থি ও বিভিন্ন রাজ্যে নাগরিক অধিকারের দাবিতে সংগঠিত স্থানীয় সশস্ত্র বিদ্রোহী গেরিলা যোদ্ধাদের চলমান সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির ৭০ শতাংশেরও বেশি এলাকায়। বাংলাদেশের রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার সঙ্গে দেশটির আরাকান ও চীন প্রদেশের ২৭১ কিলোমিটারব্যাপী সীমান্ত রয়েছে। চীন প্রদেশে সম্প্রতি ব্যাপক আকারে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এরমধ্যে আরাকান তথা রাখাইন রাজ্যেও সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত মঙ্গলবার থাইল্যান্ড ভিত্তিক বার্মিজ সংবাদ সংস্থা ইরাবতী জানিয়েছে, এই সপ্তাহে দুই দিনে সামরিক জান্তার আরও দুটি সেনাঘাঁটি দখল করেছে রাজ্যের প্রধান বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। এ নিয়ে আরাকানের রাজধানী সিতওয়ের নিকটবর্তী পাউকতাও শহর এবং চীন রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের পালেতওয়া টাউনশিপসহ আরাকানের ১৭০টি সেনাচৌকি দখল নিল তারা। রাজ্যের অন্যান্য শহর ও অঞ্চলেও তুমুল লড়াই চলছে। যার আঁচ পড়ছে বাংলাদেশেও। বান্দারবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়ন এবং কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ে ছোড়া গুলি ও মর্টার শেল এসে পড়ছে দফায় দফায়। গুলি ও মর্টার শেলে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। গত সোমবার ঘুমধুমের তুমব্রু সীমান্ত এলাকায় এক বাংলাদেশি নারী ও একজন আশ্রিত রোহিঙ্গা পুরুষ মর্টার শেলের বিস্ফোরণে প্রাণ হারান। মঙ্গলবারও এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন গুলিতে। এছাড়াও এদিন উদ্ভুত পরিস্থিতির সুযোগে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা যুবকদের ছোড়া গ্রেনেড বিস্ফোরণে চার বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষের তীব্রতায় প্রাণ বাঁচাতে ২৯২ জান্তা বাহিনীর সদস্যসহ গতকাল পর্যন্ত মোট ৩৩০ জন পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। ফলে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ গোলযোগের বিরূপ প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদে। নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ২৪০ পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সীমান্তবর্তী স্কুলগুলো বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

এদিকে একাধিক ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিক আহত ও বিশেষ করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে সরকার।

গত মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়েকে ডেকে পাঠিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মিয়ানমারের আকাশযান যেন বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন না করে সে ব্যাপারেও কঠোর বার্তা দিয়েছে ঢাকা।

মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের ফলে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেক পরিবার ভয়ে নিজেদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে দূরে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। এ অবস্থায় সমস্যা সমাধানে আলোচনায় জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ।

ভারত সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, সিকিউরিটি অ্যাডভাইজারের সঙ্গে দেখা করবেন। সেখানে মিয়ানমার ইস্যুর সার্বিক বিষয়গুলো আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। অবশ্য মিয়ানমার থেকে যাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে তাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের সহায়তা অনেক আগেই চেয়েছে সরকার।

ভারত সফরে গিয়ে প্রথমেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। বৈঠকে মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। গত বুধবার সকালে দিল্লিতে মন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ভারত-বাংলাদেশ একযোগে কাজ করবে। এ বিষয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পরে বিস্তারিত কর্মপদ্ধতি ঠিক করা হবে।

সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও সরকারি দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে কিছু থাকলে বাংলাদেশ তাদের রাষ্ট্রদূতকে তলব করার পাশাপাশি বিষয়টি জাতিসংঘের নজরে আনবে।

তিনি বলেন, আমরা একে অন্যের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত না। তাদের ইন্টারনাল কনফ্লিক্ট এসে সীমান্তে গড়াচ্ছে। ছিটকে এসে পড়ছে আমাদের সীমান্তে। একজন নারী ও পুরুষ মারা গেছে। মিয়ানমারে ৫৪টা এথনিক কমিউনিটি আছে। বিভিন্ন জায়গা তারা অলরেডি দখল করে নিয়েছে। তাদের সেনাবাহিনীর সঙ্গে অন্য গোষ্টীর এটা কনফ্লিক্ট। আমাদের সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ নেই। রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে সমস্যা সেটা আন্তর্জাতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। যুদ্ধের কোনো কারণ নেই। মিয়ানমার নয় শুধু, কারো সঙ্গে আমরা যুদ্ধে জড়াতে চাই না। আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চাই।’

গতকালও এ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন সরকারের মন্ত্রিসভার এই শীর্ষ সদস্য। তিনি বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে আমাদের যেন কোনো শঙ্কা বা উদ্বেগের কারণ না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছি। বিশেষ করে চীন ও ভারতের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করছি। বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডাকা হয়েছে। তারা বলেছেন, সংঘাতে যারা পালিয়ে এসেছে বাংলাদেশে তাদের ফেরত নেবে তারা। তবে এখন আর নতুন করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করতে দেব না। এর আগে উদারতা দেখিয়ে সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়েছিল। এখন সেই উদারতা দেখানোর সুযোগ নেই।

এদিকে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেওয়া সামরিক জান্তা সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে দেশটির সরকার যোগাযোগ করেছে বলে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমু বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তে আশ্রয় নেওয়া বিজিপি সদস্যদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার যোগাযোগ করেছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া মঙ্গলবার জানিয়েছে, গত সপ্তাহে মিয়ানমারের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিসহ বর্তমান পরিস্থিতিতে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা অজিত দোভাল। গত সপ্তাহে তিনি অঘোষিত সফরে ঢাকায় এসেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা পঞ্চমবারের মতো দায়িত্ব গ্রহণের পর অজিত দোভালই প্রথম উচ্চপদস্থ ভারতীয় কর্মকর্তা যিনি ঢাকা সফর করেন। সে সময়ই তিনি মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করেন বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে একাধিকবার চীনের সঙ্গে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ। চীনা উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো একাধিকবার। যদিও সেসব আলোর মুখ দেখেনি।

সবকিছু ছাপিয়ে মিয়ানমার প্রসঙ্গে ভারত-চীনের দিকে বিশেষ দৃষ্টি নিবন্ধ করা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অতিভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে কি না সেটা নিয়েও আলোচনা উঠছে।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মিয়ানমারে উদ্ভূত পরিস্থিতি একটি আঞ্চলিক সমস্যা। এখানে বাংলাদেশ প্লেয়ার, চীন প্লেয়ার, ভারত প্লেয়ার। যেহেতু উভয়ের সঙ্গে আমাদের সীমান্ত রয়েছে এবং সবার জন্যই সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেক্ষেত্রে আলোচনা-পরামর্শ করায় দোষ দেখছি না। এখন কথা হলো কে কার ওপর নির্ভর করছে, সেটা দেখতে হবে।

মিয়ানমার পরিস্থিতিতে চীনের ইনফ্লুয়েন্স আছে উল্লেখ করে এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, ভারতের তেমন ইনফ্লুয়েন্স আছে বলে আমি মনে করি না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী (পূর্ব নির্ধারিত) ভারত সফরে গেছেন। সেখানে কী আলাপ হয়েছে সেটা তো আর জানি না। সুতরাং এ বিষয়ে এই মুহূর্তে কিছু বলা যাবে না।

অজিত দোভালের ঢাকা সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকায় বিষয়টি নিয়ে তেমন খবর আসেনি। সেখানেও যদি বিষয়টি আলাপ হয়ে থাকে সেটা হতে পারে। পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তার খাতিরে আলোচনা করতে হবে।

এছাড়াও সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শান স্টেটে লোঙ্ককাইং দখলের পরই চীন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিতে শুরু করে। আমাদের দেশে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ইন্টারনাল সমস্যা আছে। সব মিলিয়ে আমরা হিমবাহের এক কোণায় দাঁড়িয়ে আছি। আজকে আলোচনা হলো কালকে সমাধান হয়ে যাবে বিষয়টি তেমন না।

এদিকে সংঘাতের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া দেশটির সেনা, সীমান্তরক্ষী পুলিশসহ অনুপ্রবেশকারীদের কোন প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে নাকি দেশে আশ্রয় নেওয়া কয়েক লাখ রোহিঙ্গার মতো ফেরত পাঠানো অসম্ভব হয়ে উঠবে, তা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

সরকারি ও কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে আশ্রয় নেওয়াদের নাফ নদী পথে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে মিয়ানমার। কিন্তু রাখাইনে দুইপক্ষের মধ্যে তুমুল লড়াই অব্যাহত থাকায় ওইসব আশ্রিত লোকজনকে আকাশপথে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে চায় বাংলাদেশ।

তবে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসাদের ফেরত পাঠানো প্রসঙ্গে বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশটি থেকে যারা পালিয়ে এসেছেন তারা ফেরত গেলে মিয়নামারের আইনানুযায়ী (আর্মি অ্যাক্ট অনুযায়ী) বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন। তাদের জীবনের শঙ্কা থাকে। আর যদি বাংলাদেশেরও আশ্রয় দেওয়ার সক্ষমতা না থাকে, তাহলে হয় আন্তর্জাতিক সংস্থা রেডক্রসে হস্তান্তর বা জাতিসংঘের মাধ্যমে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

আর্মি অ্যাক্ট অনুযায়ী পালিয়ে এলে বিচারের মুখোমুখি হতে হয় জানিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘২০ বছর পরও যদি তাদের পাঠানো হয় আর যদি নিজ দেশে ধরা পড়ে, তাহলে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তাদের (মিয়ানমার) সামরিক বাহিনীর আইনে যে শাস্তির ব্যবস্থা আছে, সেই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু যদি পালিয়ে আসা সৈনিকদের জীবনের শঙ্কা থাকে এবং যে দেশে পালিয়ে এসেছে তাদেরও রাখার সক্ষমতা না থাকে, সে ক্ষেত্রে পালিয়ে আসার সৈন্যদের রেডক্রসে হস্তান্তর করে দিতে পারি। আবার জাতিসংঘকে জানাতে পারি যে আমাদের এখানে সশস্ত্র অবস্থায় আছে আমরা তাদের রাখব না। এরপর জাতিসংঘ মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করবে বা তারা পদক্ষেপ নেবে। এসব নিয়ে তখন তাদের মাথাব্যাথা।’

তবে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলছেন, ‘মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা সেনাদের নিজ দেশে পাঠানোর পর তাদের কী হবে তা দেশটির আইনের ব্যাপার। হতেই পারে তারা বিচারের মুখোমুখি হবে। সেটা মিয়ানমারের আইনানুযায়ী হবে। আমাদের দায়িত্ব হলো, যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পালিয়ে আসা সেনাদের পাঠিয়ে দেওয়া।’

আজকের সিলেট/ডিটি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর