একবছরে ৪০ শতাংশ হ্যান্ডসেট এসেছে অবৈধভাবে
মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৬:০৮

একবছরে ৪০ শতাংশ হ্যান্ডসেট এসেছে অবৈধভাবে

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২/০২/২০২৪ ০৯:২৯:২৯

একবছরে ৪০ শতাংশ হ্যান্ডসেট এসেছে অবৈধভাবে


বাজারে অবৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবহার বেড়েছে। উৎপাদনকারী এবং আমদানিকারকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ৪০ শতাংশ হ্যান্ডসেট রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে। আর চোরাকারবারির মাধ্যমে আনা এসব সেটই বাজার দখল করে রেখেছে। বৈধ স্মার্ট হ্যান্ডসেট এবং ফিচার ফোন- দুটোরই বিক্রি কমেছে।

বিষয়টি আমলে নিয়ে এসব সেট বন্ধ করতে ফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চালু থাকা বৈধ হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে। অন্যদিকে অনুমোদনহীন আইএমইআই নম্বর সমৃদ্ধ বা অবৈধভাবে আনা হ্যান্ডসেট নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করতে কাজ করছে সরকার।

প্রযুক্তির উন্নতির পাশাপাশি মোবাইল এখন সবার হাতের মুঠোয়। তবে বৈধ অবৈধ নানা উপায়ে দেশে আসছে বিদেশি সব ব্রান্ডের মোবাইল হ্যান্ডসেট। বিদেশ থেকে আমদানি করা নানা ব্রান্ডের এসব হ্যান্ডসেট বিক্রিতেও রয়েছে বেশ প্রতিযোগিতা। তবে দেশে হ্যান্ডসেট ব্যবহারে তেমন কঠোর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় আনঅফিসিয়াল হ্যান্ডসেট বিক্রি হচ্ছে অফিসিয়াল হ্যান্ডসেটের চেয়ে তুলনামুলক কম দামে। যেখানে অফিসিয়াল একটি হ্যান্ডসেটের দাম ২৬ হাজার টাকা সেখানে আনঅফিসিয়াল একই ফোনের দাম ২৪ হাজার টাকা। তাই তুলনামূলক কম দামে মোবাইল হ্যান্ডসেট পাওয়ায় ক্রেতারা এখন ঝুঁকছে আনঅফিসিয়াল হ্যান্ডসেটের দিকে।

বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে বৈধ স্মার্ট হ্যান্ডসেটের বিক্রি কমেছে ২৯ শতাংশ। আর ফিচার ফোনের বিক্রি কমেছে ২০ শতাংশের বেশি। এক বছরের ব্যবধানে ৩০ লাখ স্মার্ট ফোন আর ৮০ লাখ ফিচার ফোনের বাজার দখলে নিয়েছে চোরাকারবারিরা। বর্তমানে দেশি বিদেশি মিলিয়ে ১৭টি প্রতিষ্ঠান হ্যান্ডসেট তৈরি করছে।

বিদেশি ব্রান্ডের অফিসিয়াল মোবাইল ফোন আমদানিকারকরা জানান, তারা রাজস্ব দিয়ে দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট এনেও তেমন লাভ করতে পারেন না। এমনকি বিক্রিও তুলনামূলক কম হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে বেকায়দায় তারা।

শাওমি মোবাইল ফোনের একমাত্র আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “মোবাইল ফোন আমদানিকারকদের সংগঠন বিএমপিআইএর পক্ষ থেকে পাঁচ বছর ধরে অবৈধ হ্যান্ডসেটের ব্যাপারে আইন করার জন্য সরকারকে বার বার বলা হলেও এর কোনো সুফল মেলেনি।”

এদিকে, সরকারে পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে অবৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবহারে কড়া হুঁশিয়ার। এর আগে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিটিআরসি জানায়, ১ জুলাই ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রারের (এনইআইআর) কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে সেই বছরের ১ অক্টোবর থেকে নেটওয়ার্কে নতুনভাবে যুক্ত সব অবৈধ হ্যান্ডসেটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে বলে জানালেও তা আর করেনি সরকার।

এনইআইআর পদ্ধতি চালুর পর দেশে অবৈধ মোবাইল ফোন প্রবেশের সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে যায়। এতে স্বস্তি ফিরে এসেছিল দেশের মোবাইল ফোনসেট উৎপাদকদের মধ্যে। ফোন সেট নিবন্ধনের আগে গ্রে মার্কেটের (অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করা মোবাইল) পরিধি মোট মোবাইল বাজারের অর্ধেক ছাড়িয়ে গিয়েছিল (৫৩ শতাংশ)। এই পদ্ধতি চালু হলে দেশে তৈরি এবং বৈধ চ্যানেলে আসা মোবাইল ফোন কিনতে বাধ্য হন ক্রেতারা। হঠাৎ প্রায় শূন্য হয়ে যায় গ্রে মার্কেট।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির স্পেক্ট্রাম ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কমিশনার শেখ রিয়াজ আহমেদ বলেন, “১ জুলাই থেকে মোবাইল ফোন সেট নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হবে।”

এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি বিটিআরসিতে এক মতবিনিময় সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, “স্থানীয় উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিবন্ধিত ও বৈধ মোবাইল ফোন ছাড়া কেউ যেন অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহার না করতে পারেন, এজন্য ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) কার্যকর করতে হবে।” এনইআইআর কার্যকর করতে প্রথমে neir.btrc.gov.bd লিংকে ভিজিট করে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার করতে হবে। এরপর পোর্টালের স্পেশাল রেজিস্ট্রেশন সেকশনে গিয়ে মোবাইল হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বরটি দিতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের ছবি/স্ক্যান কপি (যেমন: পাসপোর্টের ভিসা/ইমিগ্রেশন তথ্যাদি, ক্রয় রশিদ ইত্যাদি) আপলোড করে সাবমিট বাটন চাপলেই এটি কার্যকর হয়ে যাবে।

আজকের সিলেট/ডিটি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর