রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় মিয়ানমারের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ১১:৪৫ AM

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় মিয়ানমারের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪/০১/২০২৬ ১২:৩৩:৪৪ PM

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় মিয়ানমারের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ


বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার মামলায় মিয়ানমারের সাম্প্রতিক উপস্থাপনাকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে জানানো হয়, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে ২০১৬-১৭ সালের ভয়াবহ ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’-এর দায় এড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরাকানে বসবাসরত একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী। ‘রোহাং’ বা ‘রোশাং’ নাম থেকে ‘রোহিঙ্গা’ নামের উৎপত্তি, যা পরবর্তীতে আত্মপরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে। তাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা ও সামাজিক রীতিনীতি রাখাইনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত এবং স্বাধীনতা-পূর্ব বার্মার রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোতে তাদের উপস্থিতি সুস্পষ্ট। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন প্রণয়নের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে বাদ দেয়। এরপর ধাপে ধাপে তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয় এবং ২০১৫ সালের নির্বাচনে তারা সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৬-১৭ সালে রাখাইন থেকে বিতাড়িত করে রাষ্ট্রহীন করে তোলা হয়।

বাংলাদেশ সরকার জানায়, রোহিঙ্গা ভাষা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্য থাকলেও এটি বাংলা থেকে স্বতন্ত্র। তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করা আত্মপরিচয়ের অস্বীকৃতি এবং জাতিগত নির্মূলের অংশ।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৮ সালের দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের ‘আইনসম্মত বাসিন্দা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তাদের সমান অধিকারসহ সমাজে অন্তর্ভুক্তির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। তবে গত আট বছর ধরে মিয়ানমার রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ২০১৭-১৮ সালের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সত্ত্বেও নানা অজুহাতে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত করছে। এই প্রবণতা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বাংলাদেশ সরকার ২০২৩ সালের ৬ জুলাই মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর এক কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে দেওয়া দাবিরও প্রতিবাদ জানায়। মিয়ানমার দাবি করেছিল, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে ‘অর্ধ-মিলিয়ন বাঙালি’ রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল। বাংলাদেশ জানায়, ১৯৭১ সালে রাখাইনের জনসংখ্যা ছিল ১.৭ মিলিয়নের নিচে। এত বড় শরণার্থী ঢল হলে তা আন্তর্জাতিকভাবে নজরে আসত। পরবর্তী আদমশুমারিতে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর