তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে কেন আগ্রহী বিদেশি কূটনীতিকরা?
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ১১:৪৫ AM

তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে কেন আগ্রহী বিদেশি কূটনীতিকরা?

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫/০১/২০২৬ ১০:০৩:৩৩ AM

তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে কেন আগ্রহী বিদেশি কূটনীতিকরা?


বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের ধারাবাহিক বৈঠক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চলতি মাসের ৬ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ জন বিদেশি কূটনীতিক তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই বৈঠকের ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র জানায়, এসব বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বিশ্বের একাধিক প্রভাবশালী দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা।
আলোচনায় উঠে এসেছে— আগামী জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে ভবিষ্যৎ সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহের বিষয়টি।

যেসব দেশের রাষ্ট্রদূতরা তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত প্রায় ২০টি দেশের কূটনীতিকদের সিরিজ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেশগুলো হলো—চীন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন, ডেনমার্ক, স্পেন, ইতালি, নেপাল, ভুটান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

বৈঠকগুলোতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে বিএনপির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে যেসব আলোচনা প্রাধান্য পাচ্ছে
বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকে প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল আসন্ন জাতীয় নির্বাচন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার রূপরেখা, নির্বাচনকালীন পরিবেশ, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যতে সরকার গঠিত হলে কূটনৈতিক সম্পর্ক কীভাবে আরও শক্তিশালী করা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে কূটনীতিকরা বাংলাদেশে একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

প্রভাবশালী দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের বৈঠক
তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিশ্বের একাধিক প্রভাবশালী দেশের কূটনীতিকরা। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ভারত, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া। এসব দেশের রাষ্ট্রদূতরা ভবিষ্যতে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

চীনা রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস জানায়, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি এবং বিএনপির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। চীন বিএনপির সঙ্গে বিনিময় ও সহযোগিতা আরও গভীর করতে আগ্রহী এবং চীন–বাংলাদেশ বন্ধুত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রস্তুত।

চীনা দূতাবাস আরও জানায়, সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং চীন সবসময় অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করে। চীনের বিশ্বাস—বাংলাদেশ সুষ্ঠুভাবে সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম।

বৈঠক প্রসঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির জানান, বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী চীনের সঙ্গে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা, দেশ গঠনের রূপরেখা এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, চীন তারেক রহমানের নেতৃত্বকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে তার ভূমিকা ইতিবাচকভাবে দেখছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনও তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে আমি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। যুক্তরাষ্ট্র শান্তি ও সমৃদ্ধির অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।’

বৈঠক নিয়ে বিএনপি কী বলছে?
বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) হুমায়ুন কবির বলেন, ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে কীভাবে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করা যায়—তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে।

তিনি জানান, বিদেশি কূটনীতিকদের বিএনপি আশ্বস্ত করেছে যে, দলটির বৈদেশিক নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির জানান, বৈঠকে তিনি বলেছেন—তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে কাজ করতে আগ্রহী।

নির্বাচনের বাইরেও বিভিন্ন ইস্যু
জাতীয় নির্বাচন ছাড়াও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে তারেক রহমানের আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকট এবং পররাষ্ট্রনীতি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আলোচনায় নির্বাচন ছাড়াও বাণিজ্য-বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে ‘এক চীন নীতি’ নিয়েও আলোচনা হয়, যেখানে তারেক রহমান এই নীতির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।

বিদেশি কূটনীতিকরা বৈঠকে কেন আগ্রহী?
পর্যবেক্ষকদের মতে, তারেক রহমানের সঙ্গে বিদেশি কূটনীতিকদের ধারাবাহিক বৈঠক আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক তৎপরতারই প্রতিফলন। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশিরভাগ দেশের কূটনীতিকই তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে আগ্রহ দেখান।

এই বৈঠকগুলোর মাধ্যমে কূটনীতিকরা বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান, ভবিষ্যৎ নীতি ও নির্বাচনী দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নিতে চাইছেন। অনেক কূটনীতিকের জন্য এটিই তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। বৈঠকগুলোতে মূলত আগামী দিনে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তাই দেওয়া হয়েছে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর