সিলেটে ভোটের লড়াইয়ের মুখে বিএনপি জোট ও জামায়াত জোট
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:২০ PM

সিলেটে ভোটের লড়াইয়ের মুখে বিএনপি জোট ও জামায়াত জোট

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১/০২/২০২৬ ১১:৩১:১৪ AM

সিলেটে ভোটের লড়াইয়ের মুখে বিএনপি জোট ও জামায়াত জোট


সিলেট আওয়ামী লীগ বিহীন নির্বাচনে এই কিছুদিন আগেও জামায়াতসহ জোটের শরীক দলগুলোকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি বিএনপি। দলটির অনেকেই ঠাট্টা-বিদ্রুপও করেন এই দলগুলোর ভোট নিয়ে। কিন্তু ভোটের মাঠে তাদের অবস্থান টের পেয়েছেন শেষ মুহুর্তে। সিলেট জেলার ৬ আসনেই এখন কঠিন লড়াইয়ের মুখে বিএনপি। কোথাও দাঁড়িপাল্লা, রিকশা ও দেয়াল ঘড়ি, আবার কোথাওবা নিজ দলের বিদ্রোহী, স্বতন্ত্র প্রার্থী দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ধানের শীষের জন্য। কোনো আসনেই সহজেই পার পাচ্ছেন না বিএনপির প্রার্থীরা- ভোটের মাত্র একদিন বাকি থাকতে এমনই খবর মিলছে নির্বাচনি এলাকাগুলো থেকে।

সিলেট বিভাগের চার জেলার ১৯টি আসনের মধ্যে সিলেট-১ আসনটি স্থানীয়ভাবে ‘মর্যাদাপূর্ণ’ আসন হিসেবে পরিচিত। এ আসন নিয়ে জনশ্রুতি আছে—এখানে যে দলের প্রার্থী জয়ী হন, সেই দলই রাষ্ট্রক্ষমতায় যায়। স্বাধীনতার পর থেকে কাকতালীয়ভাবে এমনটিই ঘটেছে।

এ আসনে ৮জন প্রার্থী থাকলেও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর ও জামায়াতের প্রার্থী হাবিবুর রহমানের মধ্যে। মুক্তাদীর বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং হাবিবুর রহমান জেলা জামায়াতের আমির। দুজনই পেশায় ব্যবসায়ী।

এ আসনের অন্য ছয়জন প্রার্থী হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রণব জ্যোতি পাল, গণ অধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) সঞ্জয় কান্ত দাস এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের শামীম মিয়া।

সিলেট-২ আসনে পাঁচজন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা এবং খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলীর মধ্যে।যদিও এ আসনটির ব্যাপারে নির্ভার ছিল বিএনপি। দলের ‘গুম’ হওয়া সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর আকাশচুম্বি ভাবমূর্তির প্রভাবেই তাঁর স্ত্রী লুনার সহজ জয়ের সম্ভাবনা তৈরী হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহুর্তে দেয়াল ঘড়ির সঙ্গে লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ধানের শীষকে।

এ আসনের অন্য তিনজন প্রার্থী হলেন জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির উদ্দিন এবং গণফোরামের মুজিবুল হক।

সিলেট-৩ আসনে ভোটে লড়ছেন ৬জন প্রার্থী। এরমধ্যে বিএনপি প্রার্থী এম এ মালিক এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দীন রাজুর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।

এ আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেদওয়ানুল হক চৌধুরী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মইনুল বাকর ও মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী।

সিলেট-৪ আসন নিয়েও স্বস্তি নেই বিএনপি। এ আসনে জায়ামাত প্রার্থী জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে হয়েছে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর।

এ আসনে অপর অন্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাঈদ আহমদ এবং গণ অধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম।

সিলেট-৫ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের কোনো প্রার্থী না থাকলেও ভোটে লড়ছেন উভয়জোটের প্রার্থীরা। তবে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের ওবায়দুল্লাহ ফারুক ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী রয়েছেন খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আবুল হাসান। ভোটের মাঠে এই দুই প্রার্থীর শক্তিশালী হলেও বাগড়া বসিয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ চাকসু মামুন। জোটের দুই প্রার্থীর সঙ্গে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনের। মামুনের ভোটপ্রাপ্তির ওপরই নির্ভর করবে অন্য দুই প্রার্থীর জয়-পরাজয়। এ আসনে আরেকজন প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. বিলাল উদ্দিন।

সিলেট-৬ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হবে বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী, জামায়াতের মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ফখরুল ইসলামের মধ্যে।

এ আসনে অন্য দুইজন প্রার্থী হলেন জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আবদুন নূর এবং গণ অধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমান।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর