মৌলভীবাজারে ৬ বছরে হারিয়েছে প্রায় ৭০০ একর কৃষিজমি
শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:২৬ AM

মৌলভীবাজারে ৬ বছরে হারিয়েছে প্রায় ৭০০ একর কৃষিজমি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯/০২/২০২৬ ১২:০৬:১৯ PM

মৌলভীবাজারে ৬ বছরে হারিয়েছে প্রায় ৭০০ একর কৃষিজমি


মৌলভীবাজারে দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে ফসলি জমি। যে পরিমাণ কৃষিজমি কৃষকদের দখলে থাকার কথা, বাস্তবে তার অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রাম থেকে শহর সংলগ্ন এলাকায় কৃষিজমি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের প্রবণতা বাড়ায় কৃষিনির্ভর অর্থনীতি ও পরিবেশ- উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। আমন ধান ঘরে তোলার পর শুষ্ক মৌসুমে অনেক কৃষক এখন বোরো চাষের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।

কেউ জমিতে হালচাষ করছেন, কেউ চারা রোপণ করছেন। ঠিক এই সময়েই জেলার বিভিন্ন এলাকায় তিন ফসলি জমি ভরাট করে বহুতল ভবন ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের দৃশ্য উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার-ভানুগাছ সড়কের পাশে দেখা গেছে, সড়কঘেঁষা তিন ফসলি জমি ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ চলছে। শুধু এই সড়ক নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামীণ সড়কের পাশেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় বছরে জেলায় প্রায় ৭০০ একর কৃষিজমি কমেছে।

জানা যায়, জেলার সাতটি উপজেলাসহ হাকালুকি, হাইল ও কাউয়াদিঘী হাওর এলাকায় কৃষিজমি ভরাটের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। কয়েক বছর আগেও যেসব জমিতে বছরে তিনটি ফসল হতো, সেগুলোর অনেকটাই এখন বসতঘর, দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। এতে একদিকে ফসলি জমি কমছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ ছাড়া, কিছু জমির মালিক অল্প লাভের আশায় জমির ওপরের উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন। ভূমি ব্যবহার ও সেচ পরিসংখ্যান জরিপ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মৌলভীবাজারে প্রায় ৭০০ একর কৃষিজমি হ্রাস পেয়েছে। কৃষিজমি ভরাট করে বাড়িঘর ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ এবং কিছু জমি ভরাট করে ফেলে রাখাই এর প্রধান কারণ।

আইন অনুযায়ী, ব্যক্তিমালিকানাধীন বা অন্য যেকোনো জমিতে স্থাপনা নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন বা ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। সড়কের পাশে স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রাখতে হয়। তবে বাস্তবে এসব বিধিনিষেধ অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত হচ্ছে।

কৃষিজমিতে স্থাপনা নির্মাণে যুক্ত কয়েকজনের দাবি, কৃষিকাজে আগের মতো লাভ নেই। জমি ভরাট করে দোকান বা বাসাবাড়ি নির্মাণ করলে জমির মূল্য বাড়ে, পাশাপাশি ভাড়ার মাধ্যমে নিয়মিত আয়ও হয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও পরিবারের পরিধি বড় হওয়াও নতুন বসতবাড়ি নির্মাণের একটি কারণ বলে তারা মনে করেন।

পরিবেশবিষয়ক গণমাধ্যমকর্মী নূরুল মুহাইমিন মিল্টন বলেন, কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন থাকলেও এর কার্যকর প্রয়োগ নেই। আইনটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হলে অন্তত কিছু কৃষিজমি রক্ষা করা সম্ভব হতো। যেভাবে নির্বিচারে জমি ভরাট করা হচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কৃষিজমি ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের প্রবণতা বেড়েছে। অনেক পরিবারের সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন ঘরবাড়ির প্রয়োজন হচ্ছে। তবে কৃষিজমি রক্ষা করে পরিকল্পিতভাবে স্থাপনা নির্মাণে সবাইকে সচেতন হতে হবে। আইন অনুযায়ী অনুমতি নিয়ে নির্মাণকাজ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও অনেকেই তা মানছেন না।

কৃষিনির্ভর এই জেলায় ফসলি জমি রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশ, উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছন সংশ্লিষ্টরা।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর