মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি ডোপামিন, স্বাভাবিক রাখার উপায়
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৯ AM

মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি ডোপামিন, স্বাভাবিক রাখার উপায়

স্বাস্থ্য ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬/০৩/২০২৬ ০২:০৬:৫৮ PM

মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি ডোপামিন, স্বাভাবিক রাখার উপায়


ডোপামিন মানবদেহের মস্তিষ্কের অপরিহার্য একটি হরমোন। এটি আনন্দ, প্রেরণা ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। মস্তিষ্কের সুস্থতা অনেক হরমোন এবং নিউরোট্রান্সমিটারের উপর নির্ভর করে। এর মধ্যে অন্যতম একটি হল ডোপামিন যা, আমাদের মনোযোগ এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করে। পর্যাপ্ত ডোপামিন মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য এবং স্মৃতিশক্তি উভয়ই ভালো রাখে। ফলে দেহে এর সঠিক মাত্রা বজায় রাখা আবশ্যক।

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, আনন্দ অনুভূতি ও প্রেরণার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে ডোপামিন নামের এক গুরুত্বপূর্ণ নিউরোট্রান্সমিটার ও হরমোনের। এটি ‘ফিল-গুড’ বা ‘হ্যাপি হরমোন’ হিসেবে পরিচিত, যা মস্তিষ্কে পুরস্কার ও সন্তুষ্টির অনুভূতি তৈরি করে এবং মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও চলাফেরার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডোপামিনের সঠিক ভারসাম্য থাকলে মানুষ কাজের প্রতি উৎসাহ পায়, মনোযোগ ধরে রাখতে পারে এবং মানসিকভাবে ইতিবাচক থাকে। কিন্তু এই হরমোনের মাত্রা বেশি বা কম—দুটিই শরীর ও মনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, কোনো আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা বা সফলতা অর্জনের পর মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ হয়। এতে মানুষ সেই কাজ আবার করতে আগ্রহী হয়। একই সঙ্গে এটি শরীরের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং ঘুম, মেজাজ ও স্মৃতিশক্তিতেও প্রভাব ফেলে। ডোপামিনের ঘাটতি হলে পারকিনসনের মতো রোগ দেখা দিতে পারে, আবার অতিরিক্ত হলে মানসিক ভারসাম্যহীনতা, উত্তেজনা বা আসক্তির ঝুঁকি বাড়ে।

ডোপামিন কমে গেলে বিষণ্নতা, ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব ও উদ্যমহীনতা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ডোপামিন অস্থিরতা, আচরণগত পরিবর্তন, আসক্তি, অনিদ্রা বা সাইকোসিসের মতো সমস্যার কারণ হতে পারে। তবে এর ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। সঠিক জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক প্রশান্তির মাধ্যমে ডোপামিন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত চিনি ও প্রসেসড খাবার গ্রহণ, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ এবং প্রযুক্তি বা গেমিং আসক্তি ডোপামিনের মাত্রা বিঘ্নিত করতে পারে।

ডোপামিন স্বাভাবিক রাখতে করণীয়
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জীবনযাপনে কিছু সহজ পরিবর্তনের মাধ্যমে ডোপামিনের ভারসাম্য বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন.....

ডিজিটাল উদ্দীপনা কমানো
সোশ্যাল মিডিয়া ও গেমিংয়ে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করে নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা।

নিয়মিত ঘুম
প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা।

ব্যায়াম
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা শরীরচর্চা করা।

সুষম খাদ্য
ফল, সবজি, ডিম, মাছ, বাদাম ও দুধজাত খাবার গ্রহণ; অতিরিক্ত চিনি ও ফাস্টফুড পরিহার।

ধ্যান ও মানসিক প্রশান্তি
নামাজ, ধ্যান বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানো।

সৃজনশীল কাজ
বই পড়া, নতুন দক্ষতা শেখা বা সৃজনশীল কাজে যুক্ত থাকা।

সামাজিক সম্পর্ক
পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো।

চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ থাকা, আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, অস্বাভাবিক উত্তেজনা, অনিদ্রা বা আচরণগত পরিবর্তন দেখা দিলে দেরি না করে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ ডোপামিনের মাত্রা সরাসরি পরিমাপ করা কঠিন এবং সঠিক মূল্যায়নের জন্য চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর