ফান্দাউক দরবারের পীরদের নিয়ে কটুক্তি: তীব্র নিন্দা ও আমার অভিজ্ঞতা
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৭ PM

ফান্দাউক দরবারের পীরদের নিয়ে কটুক্তি: তীব্র নিন্দা ও আমার অভিজ্ঞতা

মিজান মোহাম্মদ

প্রকাশিত: ২৬/০৪/২০২৬ ০২:০২:২৮ PM

ফান্দাউক দরবারের পীরদের নিয়ে কটুক্তি: তীব্র নিন্দা ও আমার অভিজ্ঞতা


সম্প্রতি ফান্দাউক দরবারের সম্মানিত পীরগণের বিরুদ্ধে কিছু কটুক্তি ও অবমাননাকর বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। একটি সভ্য সমাজে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, আধ্যাত্মিক নেতা এবং তাদের অনুসারীদের প্রতি সম্মান বজায় রাখা শুধু নৈতিক দায়িত্বই নয়, বরং সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি।

ফান্দাউক দরবার দীর্ঘদিন ধরে আধ্যাত্মিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। এই দরবারের পীরগণ কেবল ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানেই সীমাবদ্ধ নন, বরং সমাজে নৈতিকতা, সহমর্মিতা ও মানবতার বীজ বপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত ব্যক্তিদের নিয়ে কটুক্তি করা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়।

গত রোজার ঈদে আমি আমার চাচাতো ভাই স্নেহভাজন আমিনুল ইসলাম শাহীন, মাওলানা মনিরুল ইসলাম হোসাইনী ও আরো স্থানীয় একজনের সাথে ফান্দাউক দরবার শরীফে জীবনের প্রথম যাই৷ দরবারের গদ্দীনশিন পীর হযরত মাওলানা সৈয়দ মঈনুদ্দিন হুজুরের রুমে ডুকার পর নিজের অস্থির মন অনেকটা শান্ত হয়ে যায়। শাহীন হুজুরের সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার তিনি ডেকে নিয়ে নিজের সামনে বসান। পরিবারের সবার কথা ও কুশলাদি জানতে চান। শুধু তাই নয়, অতি সম্প্রতি ওমরাহ করে আসার সময় আনা খেজুর আমাকে স্নেহভরে খেতে দেন এবং আসার সময় আমাকে এক বোতল আতর উপহার দেন। প্রায় ঘন্টাখানেক বসে তাঁর সাথে বসে ইসলামের খেদমত ও মানুষের উপকার হয় এসব কথাই শুধু শুনেছি। পরে মাজার জেয়ারত করে চারদিক ঘুরে চলে আসি। এতো সময় হুজুরের সামনে বসে কাছে থেকে একবিন্দু পরিমাণ অহংকার বা লোভের কিছু দেখিনি।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার হলেও, তা কখনোই অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার লাইসেন্স হতে পারে না। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমাদের উচিত এমন বক্তব্য থেকে বিরত থাকা যা সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে বা কারো সম্মানহানি ঘটায়। বিশেষ করে ধর্মীয় বিষয়গুলোতে সংবেদনশীলতা ও পরিমিতিবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ ধরনের কটুক্তির বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিবাদ গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করার সাহস না পায়।

সবার মত ও পথ এক হবে না এটা জানা কথা। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে—পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার মধ্য দিয়েই একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে ওঠে। তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে ঘৃণা ও কটুক্তির পরিবর্তে সম্মান ও সৌহার্দ্যের সংস্কৃতি গড়ে তুলি।

শ্রদ্ধা বজায় থাকুক, সম্প্রীতি অটুট থাকুক।

আজকের সিলেট/মিমো

সিলেটজুড়ে


মহানগর