গত বছরের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষবার টি-টোয়েন্টি খেলেছিল বাংলাদেশ। এরপর গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ায় গত ৬ মাসে আর টি-টোয়েন্টি খেলা হয়নি টাইগারদের। দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আবারও টি-টোয়েন্টির মঞ্চে নামছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড।
সোমবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে দুপুর ২টায় শুরু হবে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি।
চট্টগ্রামে এসেই ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। সেই জয়ের সুবাস নিয়েই আরও একটি মিশনে নামছে এবার লিটন দাসের দল। এই সিরিজ বাংলাদেশের জন্য কেবল দ্বিপাক্ষিক লড়াই নয়, নতুন একটি চক্রের সূচনা। আগামী ২০২৮ বিশ্বকাপকে ঘিরে নতুন পরিকল্পনায় দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। যা লিটন ২০২৬ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে করেছিলেন। কিন্তু বিগত সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া হয়নি বাংলাদেশের। পুরোনো সেই প্রস্তুতি এবার নতুন করে নেওয়ার পালা।
লিটনের অধিনায়কত্বে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও খেলার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। কিন্তু নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে ভারতের মাটিতে গিয়ে খেলার অনুমতি দেয়নি বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। গত দুই বছর ধরে দলকে একটু একটু করে গুছিয়ে এনেছিলেন লিটন। কিন্তু বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ায় সেই পরীক্ষায় বসা হয়নি তার।
বিশ্বকাপ খেলতে না পারার আক্ষেপ ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিকে মনোযোগী দলের ক্রিকেটাররা, ‘আমার মনে হয়, অবশ্যই সবাই মুভ অন করেছে। কারণ বিশ্বকাপের সময় আমরা একটি টুর্নামেন্টও খেলেছি, যেখানে সবাই চেষ্টা করেছে ভালো ক্রিকেট খেলতে। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি ম্যাচই প্রত্যেক ক্রিকেটারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবাই সেভাবেই চিন্তা করবে। বাংলাদেশের হয়ে খেলার জন্য যা যা করণীয়, জেতার যে মানসিকতা দরকার, সেটা নিয়েই মাঠে নামবে।’
প্রায় ৬ মাস পর টি-টোয়েন্টি খেলতে নামায় স্বাভাবিকভাবেই খানিকটা চাপে থাকবেন ক্রিকেটাররা। তবে আপাতত ব্যাটারদের ওপর বাড়তি চাপ দিতে চান না লিটন।
রোববার সংবাদ সম্মেলনে লিটন বলেন, ‘অনেকদিন পর আমরা টি-টোয়েন্টি খেলছি। তাই কোনো বাড়তি চাপ দিতে চাইছি না। দুই-একটা ম্যাচ খেললে যে যার জায়গা বুঝতে পারবে। একটা সেটআপেরও বিষয় আছে। যদিও অনেকদিন পরে আবার টি-টোয়েন্টি খেলছি, চ্যালেঞ্জিং হলেও সবাই নিজের পারফরম্যান্স করার চেষ্টা করবে। কয়েকটা ম্যাচ খেললে আবার এই জিনিসটা ঠিক হয়ে যাবে।’
তবে ওয়ানডে স্কোয়াডের মতো টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে মূল দলের অনেক ক্রিকেটার নেই নিউজিল্যান্ডের দলে। পাকিস্তান সুপার লিগ ও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ব্যস্ত থাকায় বেঞ্চের ক্রিকেটারদের নিয়েই মাঠে নামতে যাচ্ছে তারা। তারপরও দলটি যথেষ্ট শক্তিশালী। ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকা পেসার ম্যাট ফিশার ও ব্লেয়ার টিকনার দলে জায়গা পেয়েছেন। তাদের প্রত্যাবর্তনে কিউইদের পেস আক্রমণ আরও শক্তিশালী হয়েছে। এছাড়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আবারও জায়গা করে নিয়েছেন অফ-স্পিনিং অলরাউন্ডার ডিন ফক্সক্রফট ও বেন লিস্টার। জেডেন লেনক্স রয়েছেন অভিষেকের অপেক্ষায়। ওয়ানডে সিরিজ খেলা মোহাম্মদ আব্বাসকেও রাখা হয়েছে টি-টোয়েন্টি দলে; তিনিও আছেন অভিষেকের অপেক্ষায়।
তবে হালকাভাবে নিচ্ছেন না লিটন, ‘নিউজিল্যান্ড সবসময়ই শক্তিশালী দল। এই ফরম্যাটে অল্প সময়েই ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারে। দুই-একজন ব্যাটার কিংবা বোলারই পারে ম্যাচের মুহূর্ত বদলে দিতে। তাই নিজেদের সেরা খেলাটাই খেলতে হবে।’
কিউই দল কিছুটা দুর্বল— এটি স্বীকার করলেও অধিনায়ক টম ল্যাথাম ভালো খেলার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, ‘ওয়ানডের মতোই বলব (কিছুটা অনভিজ্ঞ)। আমাদের কিছু খেলোয়াড় আছে যাদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কম, তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তাদের অনেক অভিজ্ঞতা আছে। তাই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সীমিত হলেও ঘরোয়া অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা করা গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলেছে, যেখানে তারা ভালো মানের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এবং অনেক আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা পেয়েছে। সবমিলিয়ে আমাদের দলের খেলোয়াড়রা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পেয়েছে, আর সবাই এই ফরম্যাটটা উপভোগ করে। সবাই এই সিরিজ নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত।’
এদিকে এই ফরম্যাটে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের দিকেই ঝুঁকছে বাংলাদেশ। দ্রুত রান তুলতে গিয়ে শুরুর দিকে উইকেট হারানোর সম্ভাবনা থাকলেও সেই ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত দল। অধিনায়ক মনে করেন, এই কৌশল সফল করতে হলে নিচের সারির ব্যাটারদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে শেখ মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন— স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি তাদের ব্যাটিং অবদান গুরুত্বপূর্ণ হবে।
দলের ব্যাটিং গভীরতা নিয়েও আশাবাদী টিম ম্যানেজমেন্ট। ছয়জন নিয়মিত ব্যাটারের সঙ্গে আছেন বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও তানজিম হাসান সাকিব। এছাড়া নতুন মুখ আবদুল গাফফার সাকলাইকে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবে দলে রাখা হয়েছে। বিপিএলে রাজশাহীর হয়ে তার পারফরম্যান্স নজর কাড়ার মতো ছিল।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণেও রয়েছে বৈচিত্র্য। পেস বিভাগে নেতৃত্ব দেবেন শরিফুল ইসলাম, সঙ্গে থাকছেন সাইফউদ্দিন ও তানজিম। দীর্ঘ বিরতির পর ফিরছেন শামীম হোসেন, আর ইনজুরি কাটিয়ে দলে জায়গা পেয়েছেন পারভেজ হোসেন। ব্যাটিংয়ে তাওহিদ হৃদয় সাম্প্রতিক সমালোচনা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
চট্টগ্রামের উইকেট সাধারণত ব্যাটিং-সহায়ক। এখানে টি-টোয়েন্টিতে প্রথমে ব্যাট করা দলের গড় রান ১৬৩। দিনের ম্যাচে স্বাগতিকদের দাপটও চোখে পড়ার মতো— পাঁচটির মধ্যে চারটিতেই জয় তাদের। সবমিলিয়ে তাই আশা করা যায়, ওয়ানডের মতো টি-টোয়েন্টিতেও নিজেদের পতাকা সাগরিকায় উড়াবেন লিটনরা।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
ক্রীড়া ডেস্ক 








