গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে এক সংবাদকর্মীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার ভোর প্রায় ৫টার দিকে উপজেলার ১২ নম্বর সদর ইউনিয়নের লুনী গ্রামে সংবাদকর্মী লোকমান আহমদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- তোফায়েল (২৩), জালাল উদ্দিন (৩৪), লিমা বেগম (২৫), আলকুমা বেগম (৩৫), আল-আমিন (২২), রুহুল আমিন (১৯), উস্তার মিয়া (৩৮), ফখরুল ইসলাম (৪০), দেলোয়ার হোসেন (৫২), মুহিবুর রহমান (৫৫), সিরাজ উদ্দিন, মাসুক আহমদ (৪০), লোকমান আহমদ (৩৫) ও আলিফান বিবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কইন্না জঙ্গল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কামরুল ও খয়রুলের নেতৃত্বে একটি চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। সংবাদকর্মী লোকমান আহমদের ভাতিজা তোফায়েলও একসময় ওই চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রায় ২০ দিন আগে তিনি তাদের দল ছেড়ে নিজ উদ্যোগে বালুর ব্যবসা শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিরোধের জেরে রোববার ভোরে বালু উত্তোলনস্থলের পাশে অস্থায়ী ঘুমানোর স্থানে (ওড়া) থাকা তোফায়েল ও লোকমান আহমদের ভাই উস্তার আলীর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে উস্তার আলীর একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার শিকাররা প্রাণ বাঁচাতে বাড়ির দিকে ছুটে গেলে হামলাকারীরা ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল নিয়ে সংবাদকর্মী লোকমান আহমদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। হামলায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সংবাদকর্মী লোকমান আহমদ বলেন, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জেরে কামরুল ও খয়রুলের নেতৃত্বে প্রথমে আমার ভাই ও ভাতিজার ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তারা ৫০ থেকে ৬০ জনের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধর করে। এতে আমাদের পরিবারের ১৪ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কামরুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষেরই কয়েকজন আহত হয়েছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি 








